শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বিরশ্রীতে বিজিবির হাতে ইয়াবা-মোটরসাইকেলসহ আটক ৩  » «   ময়নুল হক রুহিনের প্রবাস যাত্রা উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা  » «   বালাউটি ছাহেব বাড়িতে ২৪ডিসেম্বর মাহফিল  » «   কালিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমানের ইন্তেকাল  » «   মরহুম ফুরুক আলীর পরিবারকে সান্ত্বনা দেন মাসুক উদ্দিন আহমদ  » «   ঈদগাহ বাজার উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা শুক্রবার  » «   সিলেটের মধ্যে সুপারীর সব চেয়ে বড় বাজার জকিগঞ্জে  » «   সুলতানপুরের হেলাল আহমদ খানের ইন্তেকাল; বিভিন্ন মহলের শোক  » «   শাবিপ্রবিতে ‘এ’ ইউনিটে ৩য় স্থান অধিকার করেছে জকিগঞ্জের নাসিম  » «   জকিগঞ্জে প্রথম মুক্ত দিবস পালন  » «  

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস আর নেই

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন)। শুক্রবার রাত ৯টার কিছু আগে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বনানীর গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট প্যালেস থেকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।

হাসপাতাল থেকে জিয়া সেনা সভাপতি আবদুর রহমান তপন ও এনডিপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ঢাকাটাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রথম মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ১৪তম রাষ্ট্রপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।

এদিকে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর সংবাদ শুনে অনেকেই হাসপাতালে ভিড় করছেন। তাঁর নামাজে জানাজা ও দাফন সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।

বর্ণাঢ্য জীবন

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর স্কুল ও কলেজ জীবন বরিশালে কাটে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান) ও ইতিহাস এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। প্রথমে তিনি স্থানীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষাবিস্তারেরে উদ্দেশ্যে তিনি কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই কাজের জন্য সরকার ১৯৫৮ সালে তাঁকে স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দান করে। ষাটের দশকে কিছু দিন বাবুগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বরিশালে আইন পেশায় জড়িয়ে পড়েন।

১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত তিনি সংসদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি জাতিসংঘের ২২তম সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে তিনি বরিশাল বার আসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৮১-৮২ সালে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস্‌ সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।

বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ১৯৯১ এর ৮ অক্টোবর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়। রাষ্ট্রপতি থাকাকালেই ১৯৯৬ সালের এক সেনা ক্যু ঠেকিয়ে দেশবাসীর কাছে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়ান।

রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার আবদুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতি থেকে অবসর নেন। তিনি রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার আগেই তার নির্বাচনী আসনে বড় ছেলে এহতেশামুল হক নাসিম ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় এক বিয়ের দাওয়াতে খাবারের বিষক্রিয়ায় মারা যান নাসিম। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ব্যক্তিগত জীবনে আবদুর রহমান বিশ্বাস আট ছেলে- মেয়ের বাবা। গত জুন মাসে তাঁর স্ত্রী মারা যান।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.