সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বাদেজমার ক্যান্সার আক্রান্ত সিহাবের আর্থিক সহায়তা কামনা  » «   সেই বর্ণা মারা গেলেন  » «   কসকনকপুরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উদযাপন  » «   পাঠানচক প্রবাসী জনকল্যাণ সংস্থার বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান  » «   আনজুমানে আল ইসলাহ ফ্রান্সের উদ্যোগে আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহঃ) এর ঈছালে সাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   জকিগঞ্জ ঐক্য পরিষদ ফ্রান্সের ৪র্থ বর্ষপূর্তি ও দ্বিবার্ষিক কার্যকরী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন:  » «   ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে আল্লামা ইমাদ উদ্দিন ফুলতলী ; বিপন্ন মানুষের সেবায় এগিয়ে আসুন  » «   আল্লামা ফুলতলী ছাহেব (র.)’র ১০ম ইন্তেকাল বার্ষিকী আজ:: প্রস্তুত জকিগঞ্জে ঐতিহাসিক বালাই হাওর  » «   ছেলে হত্যার বিচার চান সালমানের মা বাবা  » «   জকিগঞ্জে রয়েল ট্রাভেলস এর উদ্বোধন  » «  

হিংসা আমলনামা জ্বালিয়ে দেয়

অন্যের সুখ-যশ-খ্যাতি পেশাগত সাফল্য দেখে নিজের ভেতরে জ্বলেপুড়ে ছাই হওয়াই হলো হিংসা। হিংসা পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র সর্বত্রই রয়েছে। ধন-সম্পদ, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য সবই আল্লাহর দান। ধন-সম্পদ কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে অনেকেই গরিব অসহায় মানুষকে সামজিকভাবে দুর্বল ভেবে হিংসা করে। নিজের দৈহিক সৌন্দর্য কিংবা অর্থনৈতিক সচ্ছলতার জন্য অনেকে অসহায় ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষের পাশে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে বসতেও চায় না। গরিব মানুষের পরিবারের ছেলেমেয়েদের কেউ কোনো সাফল্যে অর্জন করলে বরং উল্টো উপহাস করে। এ হিংসা কিন্তু মানুষের পতন ডেকে আনে। অতীতে সব হিংসুক মানুষের পতন হয়েছে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘দুনিয়ায় তুমি দম্ভভরে বিচরণ করো না। কেননা, তুমি কখনও ভূপৃষ্ঠকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং কখনও পর্বতসম উঁচুও হতে পারবে না।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৭)। ‘হে মুমিনরা! কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারী অপর কোনো নারীকেও যেন উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডাকবে না; ঈমান আনার পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট!’ (সূরা হুজরাত : ১১)।
হিংসা মানুষের নেক আমলগুলোকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয়। হিংসা মানুষের ধ্বংসের পথ প্রসারিত করে। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেমনভাবে আগুন কাঠখ-কে খেয়ে ফেলে।’ (আবু দাউদ-মিশকাত, পৃ. নং ৪২৮)। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, তার প্রতি তুমি কখনও তোমার চক্ষুদ্বয় প্রসারিত করবে না।’ (সূরা হিজর : ৮৮)। ‘তুমি তোমার চক্ষুদ্বয় কখনও প্রসারিত করবে না তার প্রতি, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি, এটা দ্বারা তাদের পরীক্ষা করার জন্য।’ (সূরা তাহা : ১৩১)।
হিংসা মনের মধ্যে অহংকার এবং ক্রোধের জন্ম দেয়, যা মানুষকে গিবত এবং কুৎসা রটাতে উদ্বুদ্ধ করে। এ হিংসা থেকে মানুষ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য খুন পর্যন্ত করে ফেলে। অন্যের সুখ-সুনামকে বিনষ্ট করার জন্য অনেকে জাদুটোনা বা কুফরির আশ্রয় নিয়ে থাকে। তবে হাদিস শরিফে দুইটি ক্ষেত্রে হিংসা করার অনুমতি রয়েছে। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও সঙ্গে ঈর্ষা করা যায় না। এক ব্যক্তি হলো, যাকে আল্লাহ তাআলা কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে তা দিনরাত তেলাওয়াত করে। আর তা শুনে তার প্রতিবেশীরা বলে, হায়! আমাকে যদি এরূপ জ্ঞান দেওয়া হতো, যেরূপ জ্ঞান অমুককে দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমিও তার মতো আমল করতাম। অপর ব্যক্তি হলো, আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন এবং সে তার সম্পদ সত্য ও ন্যায়ের রাস্তায় দান করে।’ (বোখারি : ৫৬৩৮)।
হফিরোজ আহমাদ

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.