বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
হাফছা কলেজ ছাত্রী তানিয়া আক্তার ঝুমার বিষ পানে মৃত্যু  » «   প্রবাসীর মেয়ে ইসমত আরা বিসিএস ক্যাডার হতে চায়  » «   জকিগঞ্জ পৌর এলাকায় গ্যাসের সন্ধান; বাপেক্স কর্মকর্তাদের স্থান পরিদর্শন  » «   জকিগঞ্জে অমর একুশে বই মেলা শুরু  » «   হাজী আব্দুল আজিজ তাপাদার গার্লস একাডেমির শিক্ষা সফর  » «   বালাউট ছাহেব বাড়ি সংলগ্ন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন  » «   আলোর দিশারী সংস্থার পুরস্কার প্রদান ও সৌর বিদ্যুৎ লাইটের উদ্বোধন  » «   ২০১৯ সালের ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারী হাড়িকান্দি মাদ্রাসার শতবার্ষিকী পালন করা হবে  » «   ইছামতি কামিল মাদরাসার ৭২তম বার্ষিক মহাসম্মেলন আগামীকাল রবিবার  » «   নান্দিশ্রী ছাত্র কল্যাণ সংস্থার আত্মপ্রকাশ  » «  

স্মৃতিতে অম্লান সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক লস্কর

এম এ মালেক চৌধুরী: এ স্মৃতিচারণ লেখার প্রারম্ভে কবি মঈনুল ইসলাম চৌধুুরীর একটি কবিতার দুটি লাইন এমনিতে মনে পড়ে গেলঃ- আমরা বুঝিনা তবে মৃত্যু বড়ো কাছে জানিনাতো কার মৃত্যু কবে লেখা আছে, মৃত্যু হয় মৃত্যু হবে চিরসত্য এই পৃথিবীতে কোন প্রাণী মৃত্যুহীন নেই। প্রত্যেক জানদারকে মৃত্যুর সাথে আলিঙ্গন করতেই হবে। প্রাণীকুলের মউত থেকে পলায়নের সুযোগ নেই। আমাদের আদি পুরুষরা সে পথে চলে গেছেন। আমাদেরকেও একদিন যেতে হবে। ‘ওমন বেপারী, কোনদিন জানি হবে সমনজারী।’ তবে কোন কোন মৃত্যু হদয়ে বড় রকমের ঝাঁকুনি দেয়, বড়ই বেদনা অনুভূত হয়। মন থেকে সরানো যায় না। চেষ্টা করেও ভুলা যায় না। মনে হয় তিনি যেন বেঁচে আছেন। তেমনি এক সার্থক-কৃর্তিমান মানুষ মরহুম ফারুক লস্কর সাহেব। মরে গিয়েও আমার মতো অগনিত হৃদয়ে বেঁচে আছেন যেহেতু, তাঁর নাম আমাদের হৃদয়ে খোদাই করে লেখা। কলেজ জীবনে লস্কর সাহেবের সাথে কদাচিৎ দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। আমার চেয়ে সম্ভবত: এক বা দু বছরের সিনিয়র ছিলেন। তখনকার রেওয়াজ অনুযায়ী সিনিয়রদের সাথে উঠা-বসা তথা ঘনিষ্টতা কম হতো ছালাম-শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়া। একই কলেজে না পড়লে তো সে দুরত্ব দুরই থেকে যেতো। ফারুক লস্করের সাথে ঘনিষ্টতা বাড়ে সুদুর প্রবাসে এবং ১৯৭৯ সালে তখনকার পশ্চিম জার্মানীতে। এক শনিবারের দিবাগত রাত্রে হঠাৎ টেলিফোন ‘আমি ষ্টুটগার্ট (ংঃঁঃমধৎঃ) থেকে ফারুক লস্কর বলছি, চৌধুরী সাব ভালো তো!’ তারপর থেকে আমরা পরস্পরে আত্মীয়ের চেয়েও ঘনিষ্ট হয়ে পড়ি। “দেশের কুকুর ধরি বিদেশের ফকীর পায়ে ঠেলিয়া”। আমি থাকতাম জার্মানীর বাণিজ্যিক নগরী ফ্রাংকফুটে। ছুটি কাটাতে তিনি প্রায়ই আমার এখানে আসতেন এবং আমি ও তার সেখানে জার্মানীর যানবাহন তৈরীর (ওপেন কার, মার্সিডিজবেন্জ ইত্যাদি নামের দামী গাড়ী) শিল্প শহর ষ্টুটগার্টে প্রায়ই যেতাম। আমরা উভয়ের সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য যা হোক জার্মানীতে আমাদের কারো রিজেক আল্লাহ স্থায়ীভাবে বরাদ্দ রাখেনি। সেই প্রবাসের ঘনিষ্টতা দেশেতেও বহাল ছিল-কোন রকমের চিড় না ধরে। তিনি বাস করতেন সিলেট শহরে এবং আমি থাকতাম গ্রামের বাড়ীতে। তা সত্ত্বেও প্রায় প্রতি সপ্তাহে কোন না কোন স্থানে ও উপলক্ষ্যে আমাদের দেখা হয়ে যেতো। তখন যে অট্রহাসি দিয়ে স্বভাব মূলত ভঙ্গীতে হাত বাড়াতেন সে দৃশ্য এখনও ভুলতে পারিন না। আমাদের মধ্যে পেশাগত দিক দিয়েও মোটামুটি মিল ছিল। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি শহরে সৌখিন পেশা সাংবাদিকতা এবং আমিও মফস্বল সাংবাদিকতায় জড়িয়ে যাই। পত্র-পত্রিকায় কলাম লেখালেখিও এমনিতে বেড়ে যায়। দৈনিক সিলেটের ডাক ও জালালাবাদ পত্রিকায় কোন সময়ে আমার লেখা বিলম্বিত হয়ে গেলে তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে কৈফিয়ত তলব করতেন এ রকম মন্তব্য করে যে ‘ইদানিং আপনি সম্ভবত: বেশি বৈষয়িক হয়ে গেছেন, পত্রিকা হাতে নিয়ে নিরাশ হই। “তাঁর আরও একটি মূল্যবান উক্তি আমরা যদিও জীবনে কিছু করতে পারিনি তবে আমরা সম্ভাবনাময়-সমাজকে যে একবারে কিছুই দিচ্ছি না তা নয়” একথা গুলো কানেতে যেন রিনঝিন হয়ে বাজে এখনও। ফারুক লস্কর ছিলেন বৈঠকী গাল্পিক স্বভাব ও মেজাজের একজন প্রিয় মানুষ। তাঁর কথাবার্তায় রস থাকতো প্রচুর এবং যে কোন বৈঠককে প্রাণবন্ত তিনি একাই করতে পারতেন। মায়াবী অবয়বে এবং কপোলে সর্বদা হাসি লেগেই থাকতো। তাঁর জ্ঞানের বহরও ছিল অত্যন্ত গভীর-রাজনীতি থেকে ভিলেজ পলিটিক্স পযন্ত। ইংরেজি ভাষা এবং সাহিত্যেও ছিল তার অসাধারণ দখল। বিশুদ্ধ ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলতে পারতেন। তাই তো জাতীয় কয়েকটি ইংরেজী দৈনিকের সিলেট প্রতিনিধি হয়ে আমৃত্যু কাজ করেছেন। সিলেট শহরে এবং জকিগঞ্জে তাঁর পরিচিতি ছিল বিশাল। ফারুক লস্কর কে না চিনতো-জানতো! শহরের শিক্ষিত সমাজ, রাজনীতিক, সাহিত্যিক-সাংবাদিক সহ সব মহলে স্বনামে সমাদৃত ছিলেন। আড্ডাপ্রিয় রসিক গুনী এই মানুষটির শূন্যতা আমার ন্যায় অনেকে এখনও অনুভব করে থাকেন-বিশেষ করে সিলেট বসবাসরত জকিগঞ্জী সম্প্রদায়। আগেই বলেছি, লস্কর সাহেব পরিণত বয়সে মারা গেলে তাঁ পরিবার এবং আমরা বন্ধুবান্ধব-কুশীলব-শুভার্থীগন সহ কোন মহলের কোন আক্ষেপ থাকতো না। কথায় আছে গধহ ঢ়ৎড়ঢ়ড়ংবং এড়ফ ফরংঢ়ড়ংবং. মানুষের চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে তো গরমিল থাকেই। পরিশেষে শেখ সাদী (রহ:) সেই অমর বাণীর পুনরাবৃত্ত করে এ নিবন্ধের কনিকা টানছি। এহাতো হাম মুসাফির হ্যায় আখের ঠিকানা কোয়ী আগে কোয়ী পিছে রওয়ানা দুনিয়া মুসাফিরখানা নাহিকো সন্দেহ কেহ বা আগেতে গেছে, পিছে যাবে কেহ। আল্লাহ ফারুক লস্কর সাহেবকে জান্নাতবাসী করুক-আমীন। লেখকঃ কলামিস্ট ও সাবেক সভাপতি-জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.