সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
হাড়িকান্দি মাদ্রাসায় গোটারগ্রাম প্রবাসী সংস্থার ১লক্ষ টাকা অনুদান  » «   বৃদ্ধ চাচাকে নির্যাতনকারি ছুবহান সহ ৪জন কারাগারে, জকিগঞ্জ বার্তাকে অ্যাডিশনাল এসপি  » «   সিলেটে শ্রেষ্ঠ হলেন জকিগঞ্জ সার্কেল এর অ্যাডিশনাল এসপি  » «   শতবর্ষী চাচাকে নির্যাতনকারি সেই ভাতিজা আটক  » «   সেই শিশুর পাশে জকিগঞ্জ প্রবাসী সমাজকল্যাণ সংস্থা  » «   অমানবিক…..  » «   অসহায় মজলুম মানুষের খিদমতে নিজেকে উৎসর্গ করুন: আল্লামা ইমাদ উদ্দিন ফুলতলী  » «   ফুলতলী ছাহেব বাড়ি অভিমুখে মানুষের ঢল  » «   আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলা রহ. এর ঈসালে সাওয়াব মাহফিল চলছে  » «   টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না জকিগঞ্জের কাজলসার শিশু সাইদুলের  » «  

স্মৃতিচারণ; বিদায় প্রিয় ক্যাম্পাস…..

ভার্সিটির জীবনটা যখন শুরু করেছিলাম, তখন থেকেই প্রতি ইয়ারের ভাইভা পরীক্ষা দরজায় এসে কড়া নাড়লেই আতংকে বুকটা কেঁপে উঠতো। আজ যখন ভাইভা অর্থাৎ ভার্সিটির শেষ বিদায়ী ভাইভা দিতে যাবো, তখন দেখলাম বুকের ভিতর সেই ভয়টা এখনো বিদ্যমান আছে। আর বারবার মনেহচ্ছে এই ভয়কে কখনোই জয় করা হয়ে উঠবে না। ভয়কে জয় করতে না পারলেও একটা জিনিস ভেবে খুব ভালোই লাগছে। ভার্সিটির শেষ বিদায়ী ভাইভা পরীক্ষায়, এই প্রথম মনেহয় কোনো ভাইভার স্যারকে উত্তর দিতে না পারলে ও খুব হেসেছি।

ভাইভা রুমের যতটা ভয়াবহতা ভেবেছিলাম, তার প্রত্যাশিত যেনো কিছুই হলো না। কারন এতো বছর ভার্সিটির ভাইভা দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের খুব বেশি সুখকর নয়।কিন্তু আজ আমার খুব প্রিয় দুই জন মানুষ ভার্সিটি জিবনের শেষ ভাইবা নিয়েছেন। তাই আজ ভাইভা রুম থেকে বের হওয়ার পরেই নিজের ভিতর এক ধরনের ভাললাগা কাজ করতে ছিলো।

ভার্সিটির বিদায়ের সুর অনেকদিন ধরেই টুংটাং টুংটাং করে বাঁজতে ছিলো কিন্তু আমার ভালবাসার আইন বিভাগ যেনো কিছুতেই আমাকে ছাড়ছিলো না। আর এতো সহজে ছাড়বেই বা কেনো? এই, ডিপার্টমেন্ট, এই ক্যাম্পাসেই তো কাটিয়ে দিয়েছি জীবনের অনেকটা সোনালী সময়। ছেড়ে যেতে চাইলেও ঠিক ছেড়ে যাওয়া হচ্ছিলো না। মার্স্টার্সের থিউরি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই বারবার মনে হচ্ছিলো, হুট করেই যেকোনো একদিন চলে যেতে হবে।

এর মাঝে ভাইভা শেষ করলাম কিন্তু থিসিসেরর কাজ এবং ভাইভাটা যেনো শেষ হয়ে উঠছিলো না কিন্তু অবশেষে ক্যাম্পাসের বিদায়ের শেষ পেরেকটাও বুকে বেঁধে গেলো আজ। মার্স্টার্সের যাবতীয় পরীক্ষা বিষয়ক ফরমাল কার্যাবলী শেষ হয়ে গেলো। এর সাথেসাথেই শেষ হয়ে গেলো ক্যাম্পাসের জীবন, ভার্সিটির ছাত্রত্ব, হারিয়ে গেলো ডিপার্টমেন্ট থেকে ছাত্র হিসেবে সমস্ত অধিকার। এতোদিন মনের ভিতর টুংটাং টুংটাং করে বেঁজে উঠা বিদায়ের ঘন্টাটা আজ ছুটির ঘন্টায় পরিণত হলো।

ভার্সিটির জীবন অফিশিয়ালভাবে আজ ইস্তাফা দিয়ে এলাম। সেই সাথে মাথা থেকে সমস্ত দুশ্চিন্তা, প্যারার দিনও শেষ হয়ে গেলো, ভেবেছিলাম কিছুদিন একটা রিলাক্সে ক্যাম্পাসে থাকবো কিন্তু তা আর থাকা হয়ে উঠলো না।

এখন ভালো চাকরির আশায় ছুটতে হবে দিনরাত। আর কোনো অজুহাত নেই, চাকরির ডিগ্রি নেয়া শেষ ভার্সিটি থেকে। যেভাবে একদিন নিজের গ্রাম ছেড়ে লেখাপড়ার জন্য চলে এসেছিলাম, এই ইট-পাথরের শহরে। সেভাবেই ভালো চাকরি পাবার আশায় আজ ও থেকে যেতে হচ্ছে এই শহরে। এটাই বুঝি জীবনের নিয়ম, ক্ষনেক্ষনে প্রত্যাবর্তিত হতে হয় কেন্দ্রের দিকে।

হৃদয়ের গহীনে থেকে একটা অনুচ্চারিত শব্দ বারবার বের হয়ে আসছে “আমি আবার আসবো ফিরে এই ক্যাম্পাসে, হয়তো ছাত্র হিশেবে নয়, প্রাক্তন ছাত্রের বেশে। ভালো থাকিস ভাললাগার ক্যাম্পাস, ভালো থাকিস ভালবাসার সিলেট আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়।

সালমান আহমদ চৌধুরী

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.