রবিবার, ১৯ আগষ্ট, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন   » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালন  » «   বারহালে মাদক,সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আলোচনা সভা সম্পন্ন  » «   আটগ্রামে স্কুল ছাত্র সাজুর ইন্তেকাল  » «   আটগ্রামে সরকারি গোপাট উন্মুক্ত করতে ইউএনও বরাবরে অভিযোগ  » «   কালিগঞ্জ বাজারে একটি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি  » «   রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কুন্টি মিয়ার দাফন সম্পন্ন  » «   জকিগঞ্জে ডিজিটাল কনটেন্ট বিষয়ে দিন ব্যাপি কর্মশালা  » «   নৌকার সমর্থনে মাসুক উদ্দিন আহমদের গণ সংযোগ  » «   ৯ইউপি ও ১পৌরসভায় ত্রাণ বিতরণ করবে জকিগঞ্জ সোসাইটি অব ইউএসএ ইন্ক  » «  

সিলেটে পৃথক বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু, আহত ১০

সিলেটে বুধবার বার পৃথক বজ্রপাতে ধানকাটার শ্রমিবকসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে সিলেটে ১জন, সুনামগঞ্জে ২ জন ও হবিগঞ্জে ৬ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ১০ জন।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের লাকি কামারগাওয়ে বজ্রপাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম নুরুল হক (৩০)। তিনি পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মোড়ারগাও গ্রামের চন্ডু মিয়ার ছেলে। বুধবার দুপুর ২টায় লাকি কামারগাও গ্রামে হঠাৎ বজ্রপাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ঘটনার সময় নুরুল গোয়াইনঘাটের তোয়াকুলের লাকি কামারগাওয়ে তার মামার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিহতের নিকটাত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করেছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, তোয়াকুলের লাকি কামারগাওয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কালীকুটা হাওরে নিহত হয়েছেন কৃষক আলমগীর হোসেন (২৩)। তিনি উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী (যুক্তি মিয়া) ছেলে। বুধবার দুপুর ১২টায় মাসতুলি হাওর থেকে বাড়িতে আসার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
বুধবার দুপুরে জেলার শাল্লা উপজেলার মাসতুলি ও ধর্মপাশা উপজেলার কাইল্যানি হাওরে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে একই সময়ে ধর্মপাশায় বজ্রপাতে জুয়েল মিয়া (১৮) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জুয়েল মিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্বাকান্দা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার কাইল্যানি হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, জুয়েল মিয়া কাইল্যানি হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে জুয়েল মিয়া গুরুতর আহত হয়। তার সাথে থাকা শ্রমিকেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ জুয়েল বলেন, ‘পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ২ জন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।’
হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ধান কাটা শ্রমিকসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ৯জন। বুধবার দুপুরে জেলার বানিয়াচং, নবীগঞ্জ, লাখাই ও মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার দত্তকান্তি গ্রামের জয়নাল মিয়া (৬০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাইরপুর গ্রামের স্বপন দাস (৩৫), নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বৈলাকীপুর গ্রামের হরি পালের ছেলে নারায়ণ পাল (৩৫), লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদের ছেলে ছুফি মিয়া (৩৫), নবীগঞ্জ উপজেলার বড় বাকৈর ইউনিয়নের আমড়াখাই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু তালিব (২০) ও মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম গ্রামের রামকুমার সরকারের ছেলে জহরলাল সরকার (২৩)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে জেলার বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতসহ প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় বানিয়াচং উপজেলার সৈদরটুলা এলাকায় সিরাজগঞ্জের চৌয়ালী উপজেলার দত্তকান্তি গ্রামের নৌশের মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া (৬০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি সৈদরটুলা গ্রামের তাহেদ মিয়ার বাড়িতে ‘দাওয়াল’ হিসাবে ধান কাটতে এসেছিলেন। তার সাথে ধান কাটতে থাকা একই এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম (২২) আহত হন।
দুপুরে উপজেলার মাকালকান্দি হাওরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাইরপুর গ্রামের স্বপন দাশ (৩৫) ধান কাটারত অবস্থায় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার সাথে ধান কাটতে থাকা মাকালকান্দি গ্রামের গোপেশ দাশের ছেলে দিপুল দাশ (৩৭), একই গ্রামের বীরেশ্বর দাশের ছেলে বিষ্ণুপদ (৪৫) এবং দিরাই উপজেলার আরো দুই শ্রমিক আহত হন। ওই দুইজনের নাম পাওয়া যায়নি।
একই উপজেলার নূরপুর হাওরে তকবাজখানী গ্রামের ওয়াহিদ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে জহুরুল মিয়া আহত হন।
এদিকে, নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের ইলামের হাওরে ধান কাটার সময় বৈলাকীপুর গ্রামের হরি পালের ছেলে নরায়ন পাল (৩৫) ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ সময় একই ইউনিয়নের সরদারপুর গ্রামে বাড়ির উঠানে আখলুছ মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান (২০) বজ্রপাতে আহত হন।
এছাড়াও নবীগঞ্জ উপজেলার বড় বাকৈর ইউনিয়নের আমড়াখাই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু তালিব (২০) পার্শ্ববতর্বী হাওরে ধান কাটতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এসময় একই উপজেলার গোলডুবা গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৫) এবং মার্কুলী এলাকার রাশেদ মিয়ার ছেলে ইউনুছ মিয়া (৩০) আহত হন।
অপরদিকে, লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের উত্তর হাওর থেকে গরু নিয়া বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে আহত হন ওই গ্রামের মৃত আব্দুস সহিদের ছেলে ছুফি মিয়া (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এছাড়াও মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম গ্রামের রামকুমার সরকারের ছেলে ধান কাটার শ্রমিক জহরলাল সরকার (২৩) হাওরে কাজ করতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার, লাখাই উপজেলা নির্বাহী মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান ও নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেন।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফজলুল জাহিদ পাভেল প্রতিটি নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.