সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
২৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি জকিগঞ্জের স্কুলছাত্র রুবেলের  » «   জকিগঞ্জে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন; ৬শতাধিক ব্রয়লার মোরগ পুড়ে ছাই  » «   মোস্তাক সরকারকে জকিগঞ্জ অফিসার্স ক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা  » «   কাস্টমঘাটে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষ্যে হাজারো মানুষের ভিড়  » «   নবাগত জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বরণ  » «   জকিগঞ্জের পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে মাসুক উদ্দিন আহমদ  » «   জকিগঞ্জে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে অ্যাড. মোশতাক সহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ  » «   কানাইঘাটে দুর্গাপূজার মন্ডপ পরিদর্শনে ড. আহমদ আল কবির  » «   চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’র উদ্বোধন  » «   শাবির এ ইউনিটের মেধা তালিকায় জকিগঞ্জের জসিম লস্কর  » «  

‘সহনীয় ঘুষ’ নিয়ে মন্তব্যের জবাব দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

‘সহনশীল মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ’ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অবশেষে সংবাদ সম্মেলন করে সেদিনের বক্তব্যের জবাব দিলেন শিক্ষামন্ত্রী নিজেই। তিনি বলেছেন, কর্মকর্তাদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ নিতে বলা প্রসঙ্গে আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

আজ বুধবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থা ঘুষ আর দুর্নীতিতে ছিল আকণ্ঠ নিমজ্জিত। উদাহরণ হিসেবে আমি সেসব পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলাম। অথচ কতিপয় পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশিত করা হয়েছে।’

এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের একটি অনুষ্ঠানের সংবাদ বেশির ভাগ গণমাধ্যমে যথোপযুক্তভাবে তুলে ধরা হলেও কতিপয় পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিভ্রান্তির ওপর ভিত্তি করে কতিপয় বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতামতও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই বিষয়টি স্পষ্ট করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ কতিপয় মিডিয়ায় প্রকাশিত খণ্ডিত-ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমার দীর্ঘদিনের সততার সংগ্রাম, নীতি-আদর্শ, কর্তব্যনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধের বিষয়ে আপনারা অবগত। মিডিয়ার খণ্ডিত, ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করার আগে সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলে অনেক বেশি খুশি হতাম।’

বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে শিক্ষা খাতের দুর্নীতি অনেক কমেছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে শিক্ষা খাতের দুর্নীতি বিশ্বের তুলনায় অনেক কমেছে। বিশ্বে শিক্ষাক্ষেত্রে গড় দুর্নীতির হার ১৭ ভাগ হলেও বাংলাদেশে তা ১২ ভাগ। আমরা এ হারকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে কাজ করে চলেছি। বেশ কয়েকটি দপ্তর, পরিদপ্তরে এরই মধ্য স্বচ্ছতা এসেছে, দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে। ঘুষ-দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে এবং থাকবে।’

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম- আমাদের সম্পদ কম, যতটুকু সম্পদ আছে, তার সবটুকু সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাতে হবে। দুর্নীতি-অপচয় ও অপব্যয় বন্ধ করতে হবে। এক টাকা দিয়ে দুই টাকার কাজ করতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় অব্যাহতভাবে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।’

২৪ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের সূত্র তুলে ধরতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থাগুলোর মধ্যে ভাবমূর্তির দিক দিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। কর্মকর্তারা ঘুষ-দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিলেন। এ সবই আগের বিএনপি-জামায়াত সরকারের অপশাসনের ফসল। সেই সময় ডিআইএ কর্মকর্তারা অসহায় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘুষের খাম গ্রহণ করার সময় বলত, এর ভাগ ওপরেও দিতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে করত, অফিসাররা চোর, মন্ত্রীও চোর। ডিআইএ কর্মকর্তারা আমাকে তাঁদের অতীতের দুঃখ-কষ্টের কথা বলেছেন। আমি যখন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিই, তখন সাধারণ শিক্ষকরা আমার কাছে তাঁদের বিভিন্ন হয়রানির কথা বলতেন। তাঁদের অল্প বেতনের কথা আমাকে বলতেন। আমি সেই কথাগুলো ওই দিন বলেছিলাম। পত্রপত্রিকায় আমার ওই কথাগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।’

নাহিদ বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা খাতের অনেক অর্জন যেমন রয়েছে, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন নিশ্চিত করাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে এখনো চ্যালেঞ্জ আছে। সব ক্ষেত্রে আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে চাই। আমি আপনাদের সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। আশা করি আমার এই বক্তব্যের পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। আমাদের সরকার ঘুষ-দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে। ফলে শিক্ষকদের এখন আর হয়রানির শিকার হতে হয় না।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সব প্রশ্ন এড়িয়ে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

গত ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ল্যাপটপ ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এ অধিদপ্তরের অতীতের আট বছর আগের উদাহরণ দিতে গিয়ে ডিআইএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহনশীল মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দেন বলে উল্লেখ করা হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.