বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
লন্ডন প্রবাসী, মাওলানা ফখরুল ইসলাম ট্রাস্টের বৃত্তি পরীক্ষা আগামীকাল  » «   জকিগঞ্জ কানাইঘাট আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন ইকবাল আহমদ  » «   সিলেট-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন জাহিদুর রহমান  » «   জকিগঞ্জ কানাইঘাট আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন মামুনুর রশীদ  » «   বারহাল ছাত্র পরিষদের এক দশক পূর্তীতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচী আগামীকাল  » «   শাব্বির আহমদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ  » «   মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আমেরিকা প্রবাসী শরীফ লস্কর  » «   জকিগঞ্জ কানাইঘাট আসনে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন ফরম জমা দেন শরীফ  » «   সিলেট-৫ থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনলেন পাপলু  » «   জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে অ্যাডিশনাল এসপি এবং ওসির মতবিনিময়  » «  

সংগ্রামী সইবন মিয়ার বেড়ে উঠা…….

মোস্তফা সেলিম: সইবন মিয়ার সাথে পড়েছি ইটাউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বয়সে আমার চেয়ে খানিক বড় সে। পড়ালেখায় তেমন ভালো ছিল বলে মনে পড়ে না। তারপরও সে এগুচ্ছিল। সপ্তম শ্রেণিতে যখন পড়ি তখন তার পা ভেঙ্গে গুড়োগুড়ো। দীর্ঘদিন সে বিছানায় থেকেছে। কষ্ঠ করতে করতে একসময় সেরেও ওঠে। তারপর সে স্কুলে আসে না। একদিন শুনলাম সে দোকানদারি করছে বিয়ানীবাজারে। সইবনের পরিবার তেমন সচ্ছল ছিল না। তার মামা কিছু টাকা পয়সা দিয়ে তাকে ব্যবসায় প্রাথমিক সহযোগিতা করেছিলেন। বিয়ানীবাজারে মেইনরোডে এক চিলতে দোকানে শূুরু হয় তার লড়াই। একটু একটু করে এগুতে থাকে। একসময় সে বিয়ানীবাজারের অালোচিত ব্যবসায়ী হয়ে ওঠে। তার আবরনী ফ্যাশন হাউসের নামডাক ছড়িয়ে পড়ে সবদিকে। চারদিকেই তার সুনাম। বিয়ানীবাজারে গেলে হাতে সময় থাকলে তার ওখানে যেতাম। সর্বশেষ যখন যাই, সে ছিল না। ফোন দিলাম। তার বাড়িতে তখন সে। আমাকে অনেক করে বললো, আমি যেনো তার বাড়িতে চলে যাই। আমি ব্যস্ততার জন্য পারলাম না। সে গ্রাম ছেড়ে কয়েক বছর আগে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় চলে আসে। উদ্দেশ্য ছেলেদের ভালো পড়ালেখা করানো।সুরম্য বাড়ি বানিয়েছে। আমাকে কতবার যে যেতে বলেছে, যেতে পারি নি। গতবছর সে অামাকে তার বাড়িতে দাওয়াতও করেছিল। ভাবি রান্নাবান্নাও করেছিলেন। শেষমেষ সে দাওয়াতেও থাকতে পারি নি। সে মন খারাপ করেছিল। কথা দিয়েছিলাম পরে অবশ্যই বাড়ি যেয়ে খেয়ে আসবো। ভাবির সাথে আমার কখনো দেখা হয় নি। সইবন আমাকে বলেছিল, আমার গল্প শুনতে শুনতে আর টিভির দু-একটি পোগ্রামে আমাকে দেখে ভাবি আমাকে দেখার জন্য অাগ্রহী হয়ে ওঠে। সইবনের প্রথম সন্তানের জন্মের পর অামাকে সে অনুরোধ করে, আমি যেনো তার ছেলের একটি নামকরণ করে দিই। আমার প্রস্তাবিত নামটিই সে রেখেছিল তার প্রথম সম্তানের নাম। এখন, এই বেলায় তার বড় ছেলে আবীরের মুখটি আমার দেখতে বড় ইচ্ছে করছে। গত সপ্তাহেও সইবনের সাথে ফোনে কথা হলো। সে জানিয়েছিল পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলে আমার সাথে লম্বা আড্ডা দেবে। অামি অপেক্ষায় । অাজ জানলাম এ অপেক্ষার অবসান নেই। এখন অনন্ত সময়ের অপেক্ষা, শূন্যে তাকিয়ে। অামার এ বন্ধুর জীবন থেমে গেছে অকালে। কাল তাকে হত্যা করে জীবন-সংগ্রামী মানুষটির জীবনের রথ থামিয়ে দিয়েছে খুনীরা।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.