শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জকিগঞ্জে বৃহত্তর খলাছড়া প্রবাসী কল্যান সংস্থার আহবায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ  » «   জকিগঞ্জ বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ  » «   পাঠানচক প্রবাসী জনকল্যাণ সংস্থার কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শনিবার  » «   প্রতিবন্ধী ও দরিদ্রদের মধ্যে জকিগঞ্জ এইচটিএ সেবা ফাউন্ডেশনের চাল বিতরণ  » «   সিলেট তিব্বিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর, জকিগঞ্জের সন্তান আব্দুর রবের ইন্তেকাল  » «   দূর্ঘটনায় নিহত জকিগঞ্জের সালমান আহমদ সুমনের দাফন  » «   দরিদ্র, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে জকিগঞ্জ এইচটিএ সেবা ফাউন্ডশনের ইফতার  » «   বারহাল ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন  » «   জকিগঞ্জে ফার্মাসিউটিকেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ এসো: কমিটি গঠন  » «   বাসের ধাক্কায় জকিগঞ্জের সুমনের মর্মান্তিক মৃত্যু  » «  

সংগ্রামী সইবন মিয়ার বেড়ে উঠা…….

মোস্তফা সেলিম: সইবন মিয়ার সাথে পড়েছি ইটাউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বয়সে আমার চেয়ে খানিক বড় সে। পড়ালেখায় তেমন ভালো ছিল বলে মনে পড়ে না। তারপরও সে এগুচ্ছিল। সপ্তম শ্রেণিতে যখন পড়ি তখন তার পা ভেঙ্গে গুড়োগুড়ো। দীর্ঘদিন সে বিছানায় থেকেছে। কষ্ঠ করতে করতে একসময় সেরেও ওঠে। তারপর সে স্কুলে আসে না। একদিন শুনলাম সে দোকানদারি করছে বিয়ানীবাজারে। সইবনের পরিবার তেমন সচ্ছল ছিল না। তার মামা কিছু টাকা পয়সা দিয়ে তাকে ব্যবসায় প্রাথমিক সহযোগিতা করেছিলেন। বিয়ানীবাজারে মেইনরোডে এক চিলতে দোকানে শূুরু হয় তার লড়াই। একটু একটু করে এগুতে থাকে। একসময় সে বিয়ানীবাজারের অালোচিত ব্যবসায়ী হয়ে ওঠে। তার আবরনী ফ্যাশন হাউসের নামডাক ছড়িয়ে পড়ে সবদিকে। চারদিকেই তার সুনাম। বিয়ানীবাজারে গেলে হাতে সময় থাকলে তার ওখানে যেতাম। সর্বশেষ যখন যাই, সে ছিল না। ফোন দিলাম। তার বাড়িতে তখন সে। আমাকে অনেক করে বললো, আমি যেনো তার বাড়িতে চলে যাই। আমি ব্যস্ততার জন্য পারলাম না। সে গ্রাম ছেড়ে কয়েক বছর আগে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় চলে আসে। উদ্দেশ্য ছেলেদের ভালো পড়ালেখা করানো।সুরম্য বাড়ি বানিয়েছে। আমাকে কতবার যে যেতে বলেছে, যেতে পারি নি। গতবছর সে অামাকে তার বাড়িতে দাওয়াতও করেছিল। ভাবি রান্নাবান্নাও করেছিলেন। শেষমেষ সে দাওয়াতেও থাকতে পারি নি। সে মন খারাপ করেছিল। কথা দিয়েছিলাম পরে অবশ্যই বাড়ি যেয়ে খেয়ে আসবো। ভাবির সাথে আমার কখনো দেখা হয় নি। সইবন আমাকে বলেছিল, আমার গল্প শুনতে শুনতে আর টিভির দু-একটি পোগ্রামে আমাকে দেখে ভাবি আমাকে দেখার জন্য অাগ্রহী হয়ে ওঠে। সইবনের প্রথম সন্তানের জন্মের পর অামাকে সে অনুরোধ করে, আমি যেনো তার ছেলের একটি নামকরণ করে দিই। আমার প্রস্তাবিত নামটিই সে রেখেছিল তার প্রথম সম্তানের নাম। এখন, এই বেলায় তার বড় ছেলে আবীরের মুখটি আমার দেখতে বড় ইচ্ছে করছে। গত সপ্তাহেও সইবনের সাথে ফোনে কথা হলো। সে জানিয়েছিল পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলে আমার সাথে লম্বা আড্ডা দেবে। অামি অপেক্ষায় । অাজ জানলাম এ অপেক্ষার অবসান নেই। এখন অনন্ত সময়ের অপেক্ষা, শূন্যে তাকিয়ে। অামার এ বন্ধুর জীবন থেমে গেছে অকালে। কাল তাকে হত্যা করে জীবন-সংগ্রামী মানুষটির জীবনের রথ থামিয়ে দিয়েছে খুনীরা।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.