বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
২২টি গ্রামে বৃহত্তর ইছামতি কালিগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা’র ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   সোনাপুর-সুপ্রাকান্দি ডেভল্যাপমেন্ট সোসাইটির ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   কাতারে জকিগঞ্জের আব্দুল মুহিম মিনুর মৃত্যু  » «   জকিগঞ্জে ১৩০বোতল অফিসার চয়েজসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   শাহ মোঃ ফয়ছল চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন  » «   বৃহত্তর আটগ্রাম প্রবাসী সমাজ কল্যাণ পরিষদের ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   প্রতিবন্ধী ও দরিদ্রদের মধ্যে স্পেন প্রবাসী মাসহুদের ইফতার  » «   ইউএনও শহীদুল হকের ইন্তেকালে এইচটিএ সেবা ফাউন্ডেশনের শোক  » «   জকিগঞ্জে এমপি প্রার্থী এম জাকির হোসাইনের সমর্থনে ইফতার  » «   জকিগঞ্জের সাবেক ইউএনও শহীদুল হকের দাফন  » «  

সংগ্রামী সইবন মিয়ার বেড়ে উঠা…….

মোস্তফা সেলিম: সইবন মিয়ার সাথে পড়েছি ইটাউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বয়সে আমার চেয়ে খানিক বড় সে। পড়ালেখায় তেমন ভালো ছিল বলে মনে পড়ে না। তারপরও সে এগুচ্ছিল। সপ্তম শ্রেণিতে যখন পড়ি তখন তার পা ভেঙ্গে গুড়োগুড়ো। দীর্ঘদিন সে বিছানায় থেকেছে। কষ্ঠ করতে করতে একসময় সেরেও ওঠে। তারপর সে স্কুলে আসে না। একদিন শুনলাম সে দোকানদারি করছে বিয়ানীবাজারে। সইবনের পরিবার তেমন সচ্ছল ছিল না। তার মামা কিছু টাকা পয়সা দিয়ে তাকে ব্যবসায় প্রাথমিক সহযোগিতা করেছিলেন। বিয়ানীবাজারে মেইনরোডে এক চিলতে দোকানে শূুরু হয় তার লড়াই। একটু একটু করে এগুতে থাকে। একসময় সে বিয়ানীবাজারের অালোচিত ব্যবসায়ী হয়ে ওঠে। তার আবরনী ফ্যাশন হাউসের নামডাক ছড়িয়ে পড়ে সবদিকে। চারদিকেই তার সুনাম। বিয়ানীবাজারে গেলে হাতে সময় থাকলে তার ওখানে যেতাম। সর্বশেষ যখন যাই, সে ছিল না। ফোন দিলাম। তার বাড়িতে তখন সে। আমাকে অনেক করে বললো, আমি যেনো তার বাড়িতে চলে যাই। আমি ব্যস্ততার জন্য পারলাম না। সে গ্রাম ছেড়ে কয়েক বছর আগে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় চলে আসে। উদ্দেশ্য ছেলেদের ভালো পড়ালেখা করানো।সুরম্য বাড়ি বানিয়েছে। আমাকে কতবার যে যেতে বলেছে, যেতে পারি নি। গতবছর সে অামাকে তার বাড়িতে দাওয়াতও করেছিল। ভাবি রান্নাবান্নাও করেছিলেন। শেষমেষ সে দাওয়াতেও থাকতে পারি নি। সে মন খারাপ করেছিল। কথা দিয়েছিলাম পরে অবশ্যই বাড়ি যেয়ে খেয়ে আসবো। ভাবির সাথে আমার কখনো দেখা হয় নি। সইবন আমাকে বলেছিল, আমার গল্প শুনতে শুনতে আর টিভির দু-একটি পোগ্রামে আমাকে দেখে ভাবি আমাকে দেখার জন্য অাগ্রহী হয়ে ওঠে। সইবনের প্রথম সন্তানের জন্মের পর অামাকে সে অনুরোধ করে, আমি যেনো তার ছেলের একটি নামকরণ করে দিই। আমার প্রস্তাবিত নামটিই সে রেখেছিল তার প্রথম সম্তানের নাম। এখন, এই বেলায় তার বড় ছেলে আবীরের মুখটি আমার দেখতে বড় ইচ্ছে করছে। গত সপ্তাহেও সইবনের সাথে ফোনে কথা হলো। সে জানিয়েছিল পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলে আমার সাথে লম্বা আড্ডা দেবে। অামি অপেক্ষায় । অাজ জানলাম এ অপেক্ষার অবসান নেই। এখন অনন্ত সময়ের অপেক্ষা, শূন্যে তাকিয়ে। অামার এ বন্ধুর জীবন থেমে গেছে অকালে। কাল তাকে হত্যা করে জীবন-সংগ্রামী মানুষটির জীবনের রথ থামিয়ে দিয়েছে খুনীরা।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.