বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
২২টি গ্রামে বৃহত্তর ইছামতি কালিগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা’র ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   সোনাপুর-সুপ্রাকান্দি ডেভল্যাপমেন্ট সোসাইটির ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   কাতারে জকিগঞ্জের আব্দুল মুহিম মিনুর মৃত্যু  » «   জকিগঞ্জে ১৩০বোতল অফিসার চয়েজসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   শাহ মোঃ ফয়ছল চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন  » «   বৃহত্তর আটগ্রাম প্রবাসী সমাজ কল্যাণ পরিষদের ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   প্রতিবন্ধী ও দরিদ্রদের মধ্যে স্পেন প্রবাসী মাসহুদের ইফতার  » «   ইউএনও শহীদুল হকের ইন্তেকালে এইচটিএ সেবা ফাউন্ডেশনের শোক  » «   জকিগঞ্জে এমপি প্রার্থী এম জাকির হোসাইনের সমর্থনে ইফতার  » «   জকিগঞ্জের সাবেক ইউএনও শহীদুল হকের দাফন  » «  

লন্ডনে শ্রমিক থেকে কোম্পানীর মালিক জকিগঞ্জের জাকির!

রফিকুল ইসলাম কামাল: স্বপ্ন, সাহস আর সততা- এ তিন ‘স’ মিলে যে আকাশকে হাতের মুঠোয় আনা যায়, তারই এক উজ্জ্বল প্রতিবিম্ব জাকির হোসেন। কোথায় ছিলেন, আর কোথায় পৌঁছে গেছেন- এ যেন এক আশ্চর্যময় রূপকথার গল্প! যে গল্পে জাকির নিজেই নায়ক, নিজেই গল্পকার! আর যার গল্পে ‘দিশা’ খুঁজে পায় অগণিত ‘পাঠক’।

এম জাকির হোসেন। বাড়ি তার সিলেটে। নির্দিষ্ট করে বললে সিলেটের জকিগঞ্জের গঙ্গাজল এলাকায়। আবদুল লতিফ তাপাদারের ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে সবার বড় জাকির। নিজের স্বপ্ন, সাহস, সততা, চেষ্টা, একাগ্রতা আর কঠোর পরিশ্রমে কল্পলোকের আকাশকে মর্তে নামিয়ে এনেছেন তিনি। সাধারণ এক শ্রমিক থেকে ব্রিটেনের অন্যতম প্লাস্টিক কোম্পানী ‘জেডএইচকে প্লাস্টিক লিমিটেড’র মালিক জাকির! গল্পটা তবে খুলে বলাই যাক।

সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান জাকির হোসেনের বেড়ে ওঠা জকিগঞ্জেই। সেখানকার গণিপুর কামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি শেষে সিলেট সরকারি কলেজে ভর্তি হন তিনি। এখান থেকে এইচএসসি শেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন জাকির। কলেজে পড়াকালীন সময়েই জড়িয়ে পড়েন জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের রাজনীতিতে। সংগঠনের সিলেট জেলার সভাপতির দায়িত্ব ছাড়াও ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতিও। যুক্তরাজ্য যুব সংহতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। বর্তমানে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাকির।

ছাত্রজীবন থেকেই সংগ্রামী, স্বপ্নচারী, পরিশ্রমী জাকির। ভালো কিছু করার চেষ্টা সব সময়ই তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে। কলেজে থাকাকালীনই সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় প্রিন্টিং প্রেস ও ফার্মেসি খুলেন জাকির। এ ব্যবসার আয় দিয়ে নিজের রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন খরচ মেটাতেন।

২০০৩ সালে সস্ত্রীক যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে পাড়ি জমান জাকির। সেখানে গিয়ে সিংহভাগ বাংলাদেশী, বিশেষ করে সিলেটিদের মতো রেস্টুরেন্টে কাজ নেন নি জাকির। ব্যতিক্রমী জাকির সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন একটি প্লাস্টিক কোম্পানীতে। চলে কঠোর পরিশ্রম। চলে স্বপ্নের আকাশ ছুঁতে জাকিরের প্রচেষ্টা। জাকিরের সাহস, সততা আর একাগ্রচিত্তে পরিশ্রম বৃথা যায় নি। যে প্রতিষ্ঠানে একজন সাধারণ শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন জাকির, সেই প্রতিষ্ঠানই কিনে ফেলেন তিনি!

নতুন নাম, ‘জেডএইচ কে প্লাস্টিক লিমিটেড’ নামে গড়ে ওঠে সেই প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিবছর জাকিরের টার্নওভার ২ মিলিয়ন পাউন্ড! ব্রিটেনের বিভিন্ন কোম্পানী ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যায় জাকিরের প্রতিষ্ঠানের পণ্য।

জাকিরের মতে, ‘সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। অহংকার করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। সাত বছর শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি। প্রায় এক যুগ আগে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দিয়ে সামান্য একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে এখন আমি একটি কোম্পানীর মালিক।’

যুক্তরাজ্যে থাকলেও দেশের তরে মন পড়ে থাকে জাকির হোসেনের। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগময় সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। যার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় প্রলয়ঙ্কারী সিডর’র কথা। ওই সময় সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান প্রদান করেন জাকির। এছাড়া বাংলাদেশের গণমাধ্যমে আর্তপীড়িত মানুষের খবর দেখলে সাধ্যমতো প্রায়ই পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.