শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বিরশ্রীতে বিজিবির হাতে ইয়াবা-মোটরসাইকেলসহ আটক ৩  » «   ময়নুল হক রুহিনের প্রবাস যাত্রা উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা  » «   বালাউটি ছাহেব বাড়িতে ২৪ডিসেম্বর মাহফিল  » «   কালিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমানের ইন্তেকাল  » «   মরহুম ফুরুক আলীর পরিবারকে সান্ত্বনা দেন মাসুক উদ্দিন আহমদ  » «   ঈদগাহ বাজার উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা শুক্রবার  » «   সিলেটের মধ্যে সুপারীর সব চেয়ে বড় বাজার জকিগঞ্জে  » «   সুলতানপুরের হেলাল আহমদ খানের ইন্তেকাল; বিভিন্ন মহলের শোক  » «   শাবিপ্রবিতে ‘এ’ ইউনিটে ৩য় স্থান অধিকার করেছে জকিগঞ্জের নাসিম  » «   জকিগঞ্জে প্রথম মুক্ত দিবস পালন  » «  

রোহিঙ্গা ইস্যু : বাস্তব অভিজ্ঞতা

মানবতার অবক্ষয় কতটুকু হওয়াতে বিদেশি সাংবাদিক বৃন্দ অনবরত দেশে আসছেন?

আহমদ আল মনজুর::

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রোজ মঙ্গলবার রাত প্রায় ৮ ঘটিকার সময় টেকনাফে অবস্থান নিয়েছিলাম বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার প্রায় ৪০ জন সংশপ্তক কর্মী। যাদের ইচ্ছা সদ্য আগমনকারী রোহিঙ্গা মুজলুমদেরকে সাহায্য করতে এবং নাফ নদীর তীর পরিদর্শন করতে। বিশেষত তালামীযে ইসলামিয়ার সভাপতি জনাব রেদওয়ান আহমদ চৌধুরীরও মনের একান্ত ইচ্ছা যে, বিধর্মীদের দেশ থেকে অসহায়ভাবে পালিয়ে এসে মুসলমান দেশের মাটিতে এসে পা রাখার সেই স্বস্তির দৃশ্য টি অবলোকন করতে। তাদের ভাবনা যে এখানে তাদের কেউ নির্যাতিত হবেনা, তাদেরকে কেউ গুলি করবে না, ঘরবাড়ি পোড়াবে না, ভয়ংকর অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করবে না।

টেকনাফ যাবার পথে একজন শরণার্থী কে আমরা পাই যার এক ভাই কে বার্মিজ সেনা শহীদ করেছে। তারপর আসার পথে আমরা যে দৃশ্য দেখেছি তা এখনো চোখের পর্দা থেকে সরেনি। আমাদের টিমের সবাই দেখেছে বার্মার একটি গ্রাম জ্বালানোর করুণ দৃশ্য। নির্বাক হয়ে শুধু দেখেছিলাম এবং ভাবছিলাম সেসময় সেখানকার বাসিন্দাদের কি অবস্থা চলছে?

আমেরিকান সাংবাদিক, স্পেনিশ সাংবাদিক;ফটোগ্রাফার, ইতালিয়ান সাংবাদিক, জাপানিজ সাংবাদিক; ফটোগ্রাফার, আল জাজিরা ইংলিশ সাংবাদিক টিম সরাসরি এসেছে উখিয়া পরিদর্শন করতে এবং সরাসরি রিপোর্ট উপস্থাপন করতে। আমরা তাদেরকে শুধু দু’দিন দেখলাম। বাকি দিনগুলো তে কতো দেশের সাংবাদিকগণ এসেছেন তা অজানা। ইতালি এবং স্পেনের সাংবাদিক, ফটোগ্রাফারদেরকে আমাদের লঞ্চে তুলি নাফ নদীর তীরে যেতে। অন্ধকার রাত কোনোকিছু দেখা যাচ্ছে না, সেসময়টুকু তারা পার করছে শুধু মানবতার কারণে। তার পূর্বের দিন আমেরিকান সাংবাদিকগণ বালুখালি ২ নম্বর ক্যাম্পের শেষপ্রান্ত পর্যন্ত পরিদর্শন করেছেন। যাদের বয়স ৫০-৭০ এর কাছাকাছি। প্রখর রৌদ্রতেজে তাদের মুখ লাল হয়ে গেছে। এতটুুকু বিসর্জন তারা কীজন্য করছেন? নি:সন্দেহে মানবতার জন্য। কিন্তু অমানবিক নির্যাতন আর ঘরবাড়ি জ্বলানো-পোড়ানো, হত্যা, ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গাদের নিয়ে শান্তি তে নোবেল পাওয়া অং সান সু চির বক্তব্য নীরব এবং কোনো সাড়া নেই।

আমেরিকা, ইতালির সাংবাদিকগণ এবং স্পেনের ফটোগ্রাফারের সাথে আমি কথা বলেছি। আমি কথার শেষে সবাই কে একটা ই অনুরোধ করেছি যে, আপনাদের দেশের পত্রিকা এবং চ্যানেলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে খবর ছাপানোর পাশাপাশি একটা রিকুয়েস্ট আপনাদের সরকারের প্রতি জানাবেন যে, সরকার যেন মায়ানমার সরকারের সাথে এ বিষয়ের সমাধান নিয়ে আলোচনা করে।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জীবন অতিবাহিত করছে। তাদের আবাসস্থল অনিরাপদ। প্রতিটা পাহাড়ের সমস্ত অংশজুড়ে বেশিরভাগ শরণার্থীদের বসবাস। বৃষ্টি আসলে যেকোনো মানুষ ৫০/১০০ হাত উঁচু থেকে নিচে পড়ে মারা যেতে পারে। তারপর পাহাড় ভাঙার আশংকা। এসবের মধ্য দিয়ে ই শরণার্থীদের বসবাস।

সর্বপ্রথম গিয়ে ই আমরা কয়েকজন শরণার্থীর মনের ইচ্ছা জানতে চাইলাম। তারা বলল মায়ানমার সরকার নাগরিকত্ব প্রদান করলে তারা ফিরে যাবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমাধানের ব্যাপারে আমাদের দেশের সাংবাদপত্র ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি মনে করি। কারণ অন্যান্য দেশের সংবাদপত্রের চেয়ে বাংলাদেশি সংবাদপত্র তাদের সংবাদ ছাপানোর পাশাপাশি আবদার রাখার দাবি ও রাখতে পারে। যেহেতু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে বসবাস।

বাংলাদেশি সংবাদপত্র, সাংবাদিকবৃন্দ এবং কলামিস্টদের অনুরোধ করছি আপনারা এ বিষয়ে সমাধানের ক্ষেত্রে বেশি লিখুন। বিশেষ করে ইংরেজি পত্রিকা তে। কারণ বিদেশিগণ ইংরেজি পত্রিকা লক্ষ করবে। আমরা (তালামীয টিম) যখন উখিয়ায় যাই তখন প্রথম দ্যা ডেইলি ইনডিপেন্ডেন্ট পত্রিকা সাক্ষাতকার নেয় তালামীযে ইসলামিয়ার অফিস সম্পাদক জনাব মুজতবা হাসান চৌধুরী নোমানের কাছ থেকে। তারা তালামীযে ইসলামিয়ার ত্রাণসামগ্রীর খোঁজ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে। দুপুর ১২ ঘটিকার সময় যখন আমেরিকার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলি তখন এক সাংবাদিক আনজুমানে আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলামিয়ার ত্রাণের সংবাদ শুনে “ওয়াও” বলে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং টেকনাফে যাওয়ার পথে লঞ্চে তালামীযের এক কর্মী ভাই আদ্যোপান্ত সাক্ষাৎ দেন স্পেন-ইতালির সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারের কাছে।

তাই বলবো রোহিঙ্গা ইস্যু তে সমাধানের ব্যাপারে তাগিদ আনতে পারে বাংলাদেশের ইংরেজি পত্রিকাদি, কলামিস্ট, সাংবাদিকগণের লেখনীর মাধ্যমে। লেখাগুলো বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কুটনৈতিকগণও দেখবেন। তাই এ বিষয়টি লিখুন এবং লিখতে সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হবেও বলে আমি মনে করি সেখানকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। হেফাজত করুন সকল রোহিঙ্গা মুসলিম ভাইদেরকে।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.