বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বৃহত্তর কালিগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা’র আত্মপ্রকাশ  » «   আদালতে ১৬৪ধারায় সেই ঘাতকের জবানবন্দী  » «   পরীক্ষার হলে শিক্ষিকা ঘুমে জানালেন উপজেলা চেয়ারম্যান  » «   সাংবাদিক আহসান হাবীবের মা অসুস্থ, দোয়া কামনা  » «   লন্ডনে যুব সংহতির সভায় হুইপ সেলিম উদ্দিন এমপি  » «   ওমর মিয়াদ হত্যার অভিযোগে জকিগঞ্জের তোফায়েল আটক  » «   সাইফুল আলম হত্যা; এনামকে একমাত্র আসামী দিয়ে থানায় হত্যা মামলা  » «   ইছামতি কলেজের ছাত্র সাইফুল আলমের হত্যাকারির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি  » «   একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী কিশোর; ঘাতক হত্যাকারি রেহাই পায়নি  » «   পাশের ঘরের চাচাতো ভাই সাইফুল আলমকে হত্যা করে  » «  

মিয়ানমারের সু চির ভাষণে বিশ্ব মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভাষণ শেষ পর্যন্ত প্রশংসার বদলে সমালোচনাই কুড়িয়েছে। তাঁর ভাষণ নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বইছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও সমালোচনায় মুখর হয়েছে। বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সু চির ভাষণে দেওয়া কিছু বিষয় নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের ফিরিয়ে নেওয়া, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সু চির প্রতিশ্রুতির আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভাষণ শেষে সন্দেহ উদ্রেককারী কিছু বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে মিয়ানমার সরকারের কার্যত প্রধান স্টেট কাউন্সেলর সু চি সে সুযোগ দেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ গণমাধ্যমেই সু চির ভাষণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। সিএনএন অনলাইনে ‘রোহিঙ্গা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন অং সান সু চি : সমালোচনার ঝড় বইছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের কার্যত নেত্রী অং সান সু চি রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়ে তাঁর নীরবতা ভেঙেছেন। কিন্তু রাজধানী নেপিডোতে তাঁর এই বক্তব্যে যে উত্তর (সমাধান) পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল, তার চেয়ে প্রশ্নই বেশি উঠেছে। ’ সু চির ভাষণ নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তীব্র প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ৩০ মিনিটের এই ভাষণে সু চি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো নৃশংসতার কথা এড়িয়ে গেছেন।

অথচ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান জায়েদ রা’দ আল-হুসেইন বলে আসছেন, সেখানে জাতিগত নিধন চলছে। ভাষণে মিয়ানমার নেত্রী একবারের জন্যও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি। তবে কথিত ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’র কথা বলতে গিয়ে তিনি একবার পরোক্ষভাবে রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন।সু চি তাঁর ভাষণের বেশির ভাগজুড়েই রোহিঙ্গা সংকটটিকে একটি অভ্যন্তরীণ ইস্যু ও দ্বিমুখী সহিংসতার মোড়কে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি তাঁর ভাষণে দাবি করেন, ‘রাখাইনে সব মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই। কিন্তু তাঁর দাবি ছিল সিএনএনের প্রতিবেদক ইভান ওয়াটসনের প্রতিবেদনের বিপরীত। কারণ সম্প্রতি সরকারি সহায়তায় রাখাইনে সহিংস এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এই সু চির বক্তব্যের সত্যতা পাননি ইভান ওয়াটসন। গতকাল এই প্রতিবেদক সু চির ভাষণ কভার করতে নেপিডোতে অনুষ্ঠানে যান।

ইভান ওয়াটসন বলেন, সু চি দৃঢ়তার সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন। ভাষণ শেষে তিনি এ বিষয়ে সু চিকে জাতিগত নিধন বিষয়ে প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্টেট কাউন্সিলর সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান এবং মিলনায়তন ছেড়ে চলে যান।

মিয়ানমারবিষয়ক পর্যবেক্ষকরা সিএনএনকে বলেন, সু চি হিসেবি রাজনীতিবিদ। সেন্ট্রাল অব গ্লোবাল পলিসির সিনিয়র ফেলো ও রোহিঙ্গাবিষয়ক লেখক আজিম ইব্রাহিম বলেন, রোহিঙ্গারা কেবল তাঁর রাজনৈতিক পুঁজির বলি হবে। তিনি কখনোই শান্তির পক্ষে অভিযাত্রী নন। তিনি নিজেকে পূর্ণকালীন রাজনীতিবিদে মুড়িয়ে নিয়েছেন।

কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক প্যারি গ্রিন বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার সম্পর্ককে সু চি মূলত হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করতে চাইছেন।

‘সু চির বক্তব্যে পাঁচটি দাবি নিয়ে’ সন্দেহ শীর্ষক আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিএনএন। এতে বলা হয়, সু চি বলেছেন, “কেন রাখাইন থেকে লোকজন চলে যাচ্ছে তা আমরা খুঁজে বের করতে চাই। অথচ তাঁর এই বক্তব্য তাঁরই গঠিত কফি আনান কমিশনের বিপরীত। ওই কমিশনের রিপোর্টে এই কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। দ্বিতীয় সন্দেহের বিষয় হচ্ছে, সু চি ‘মিয়ানমার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয় ভীত নয়’ উল্লেখ করে রাখাইনে বিদেশি পর্যবেক্ষদের সেখানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়েও আন্তরিকতার অভাব আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কারণ সম্প্রতি সরকার যে বিদেশি প্রতিবেদকদের সেখানে যেতে দেয়, তাঁরা ছিলেন নিরাপত্তার নামে নিয়ন্ত্রিত। ” তৃতীয় সন্দেহটি হচ্ছে, সু চি বলেছেন, রাখাইনে অধিকাংশ মানুষই পালিয়ে যায়নি। সেখানে এখন ৫০ শতাংশ মানুষ রয়ে গেছে। অথচ এ মাসের শুরুর দিকেই তাঁর সরকার রোহিঙ্গা গ্রামগুলো সম্পর্কে বলেছিল, সেখানে ৩৭ শতাংশ গ্রাম জনশূন্য হয়েছে। এর মধ্যে কেটে গেছে আরো দুই সপ্তাহ। এ ছাড়া সব মানুষ শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার পাচ্ছে এবং শুদ্ধি অভিযান সত্য নয় বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতেও সুনির্দিষ্ট সন্দেহ আছে।

সু চির ভাষণ নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘রোহিঙ্গা সংকট : সু চি বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে ভীত নন’। প্রতিবেদনটিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে রাখাইনে কোনো শুদ্ধি অভিযান হচ্ছে না বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সমালোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি রাখাইন পরিস্থিতিকে ততটা খারাপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে কিছু বলেননি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তীব্র প্রতিক্রিয়া : আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ও তাঁর সরকার রাখাইন রাজ্যের ভয়াবহ রোহিঙ্গা পরিস্থিতির বিষয়ে বালিতে মাথা গুঁজে রেখেছে বলে সমালোচনা করেছে। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক জেমস গোমেজ মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.