মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জকিগঞ্জে ইয়াবাসহ নারী আটক  » «   জকিগঞ্জের দপ্তরী নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন; পুলিশের বাঁধা  » «   জকিগঞ্জে প্রতিবন্ধিদের মধ্যে ক্র্যাচ বিতরণ  » «   জকিগঞ্জে পল্লী চিকিৎসকদের কমিটি গঠন  » «   জকিগঞ্জ বনাম বিশ্বনাথের খেলা ২১অক্টোবর; খেলোয়াড় বাছাই ১৭অক্টোবর  » «   জকিগঞ্জে দুর্গাপূজা শুরু, ৯৮টি পূজা মন্ডপে ৪৮টন চাল বিতরণ  » «   জকিগঞ্জসহ সারাদেশে প্রাইমারী দপ্তরী নিয়োগ স্থগিত করলেন মন্ত্রী  » «   শিলচরে বাংলাদেশী বন্দিদের খোঁজ নিলেন ডেপুটি হাই কমিশনার  » «   ইছামতি কামিল মাদ্রাসায় সংবর্ধনা পেলেন ডক্টর আহমদ আল কবির এবং আলহাজ্ব শামীম  » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন  » «  

মহানবী (সা.) এর দয়া ও উদারতা

মাহবুবুর রহমান নোমানি: মহানবী মুহাম্মদ (সা.) এই পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন করুণার আধার হয়ে। তাঁকে বলা হয় রহমতের নবী। রাহমাতুল্লিল আলামিন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন, ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া : ১০৭)। মানবিক যাবতীয় উত্তম গুণের সমাহার ঘটেছিল মহানবী (সা.) এর মধ্যে।

বোখারির বর্ণনায় এসেছে, প্রথম ওহিপ্রাপ্ত হয়ে নবীজি (সা.) স্ত্রী খাদিজাকে বললেন, ‘আমাকে চাদর দাও, আমার ভয় ভয় লাগছে। তিনি তখন নবীজিকে সান্ত¡না দিলেন এভাবেÑ আপনার ভয়ের কোনো কারণ নেই। কেননা, আপনি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। অসহায়, অভাবীদের উপার্জন করে দেন। মেহমানদের আপ্যায়ন করেন। বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান।’ (বোখারি : ৩)।
দয়ামায়া ও ভালোবাসা ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মজ্জাগত স্বভাব। শুধু মানুষের প্রতি নয়, পশু-পাখিদের প্রতিও তার দয়া, ভালোবাসা, সহানুভূতির আচরণ ছিল তুলনাহীন। এক সাহাবি পাখির বাসা থেকে পাখির ছানা ধরে এনেছেন। মা পাখিটি ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সাহাবির পেছনে পেছনে ছুটে এসেছে। বিষয়টি দৃষ্টি এড়ায়নি নবীজির। তিনি বললেন, কে এই পাখিটিকে কষ্ট দিয়েছে? সাহাবি বাচ্চাগুলো ছেড়ে দিলেন। নবীজি ঘোষণা করেন, ‘সব সৃষ্টিই আল্লাহর পরিবার। সুতরাং যে আল্লাহর পরিবারের প্রতি সদয় হয়, সে-ই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়।’
জানের শত্রুকে হাতের মুঠোয় পেয়েও মহানবী (সা.) ক্ষমা ও ঔদার্য প্রদর্শন করে পৃথিবীতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নবম হিজরিতে আরবের বনু তাঈ গোত্রের সঙ্গে যুদ্ধ হয় মুসলমানদের। তাঈ সম্প্রদায় পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায় সিরিয়ার দিকে। আর অনেকে বন্দি হয়ে মুসলমানদের হাতে আসে। বন্দিদের মধ্যে পৃথিবীখ্যাত দাতা হাতেম তাঈয়ের কন্যাও ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ডেকে বললেন, ‘হে তাঈকন্যা! তোমার বাবা ছিলেন ঈমানদারের চরিত্রে উদ্ভাসিত। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার ও দাতা চরিত্রের মানুষ। যাও, তোমার বাবার খাতিরে তোমাকে মাফ করে দিলাম। তাঈকন্যা বলল, আমি আশা করি, আমার সঙ্গে গোত্রের সব বন্দিকে ছেড়ে দেবেন। নবীজি (সা.) কন্যার মধ্যে মানবিকতার গুণ দেখে মুগ্ধ হলেন। তিনি তার আবেদন মেনে নিয়ে সবাইকে মুক্ত করে দিলেন। এবং পথের খরচসহ তাদের সিরিয়ায় পাঠিয়ে দিলেন। শত্রুপক্ষের এক অচেনা নারীর প্রতি এমন উদারতা পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে?
মক্কার কাফেরদের অমানবিক নির্যাতনে অসহ্য হয়ে প্রাণের জন্মভূমি ত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন দুই জাহানের বাদশাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)। দীর্ঘ ৮ বছর পর সেই প্রাণের মক্কা তার পদতলে আসে। কাফেররা ভয়ে টতস্থ। আর বুঝি রক্ষা নেই। মুহাম্মদ আমাদের থেকে বদলা নেবে। কিন্তু রহমতের নবী সবাইকে অবাক করে ঘোষণা করেন, ‘আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। তোমরা সবাই মুক্ত। আমি তোমাদের থেকে কোনো প্রতিশোধ নেব না।’ বিশ্বনবীর এ ক্ষমা ও উদারতাকে ঐতিহাসিক গিবস এভাবে চিত্রিত করেছেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) তাঁর পায়ের তলায় অনবনত অবস্থায় সব শত্রুকে পেয়েও তাদের প্রতি ক্ষমা করে যে অনুপম আদর্শ স্থাপন করেছেন এর নজির পৃথিবীর ইতিহাসে নেই।’
রাসুল (সা.) বলেন, ‘দুটি অভ্যাস আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। আর দুটি অভ্যাস আছে, যা আল্লাহর কাছে খুবই নিন্দনীয়। যে দুটি অভ্যাস আল্লাহর কাছে প্রিয়, তা হলোÑ দান ও উদারতা। আর আল্লাহর কাছে ঘৃণ্য দুটি অভ্যাস হলোÑ মন্দ চরিত্র ও কৃপণতা।’ (শুয়াবুল ঈমান)। অন্য একটি হাদিসে নবীজি (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যারা অন্যের প্রতি দয়া করে, দয়াময় আল্লাহও তাদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা জগদ্বাসীর প্রতি দয়া করো, তাহলে আকাশের অধিপতি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (আবু দাউদ)।
ইসলামের অনুপম শিক্ষাই হচ্ছে অন্যের প্রতি দয়া করা। মানুষের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা। তাই ইসলামের ঘোর শত্রুদের মুখেও ইসলামের প্রশংসাবাণী উচ্চারিত হয়েছে। প্রখ্যাত ভারতীয় বুদ্ধিজীবী গৎ. ক.খ. এধঁনধ তার চৎড়ঢ়যবঃ ড়ভ ঃযব উবংবৎঃ গ্রন্থের ২১৫ পৃষ্ঠায় লেখেছেন, ‘ইসলাম একটি শান্তি ও সহিষ্ণুতার ধর্ম। ইসলামের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যা তার নাম দ্বারাই বোঝা যায়।’ ইসলাম শব্দটি এসেছে ‘সিলমুন’ মূলধাতু থেকে। যার অর্থ শান্তি, নিরাপত্তা। আল্লাহ তায়ালার একটি গুণবাচক নাম ‘সালাম’। তার অর্থ ‘শান্তিদাতা’। মুসলমানরা পরস্পর সাক্ষাতের সময় যে সালাম বিনিময় করেন তার অর্থ হচ্ছে, ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.