রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
গঙ্গাজল (ক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু  » «   বারঠাকুরী ইউপি সদস্য সুনাম আহমদের দাফন; এলাকায় শােকের ছায়া  » «   ফেসবুক জুড়ে ইকবাল তালুকদারের মৃত্যুর স্ট্যাটাস  » «   ইকবাল তালুকদারের ইন্তেকাল; জকিগঞ্জে শােকের ছায়া  » «   ঢাকায় মি’রাজুন্নবী সা. উপলক্ষ্যে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল  » «   আমেরিকা প্রবাসীদের উদ্যোগে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত  » «   বারহাল কলেজ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ আপাতত প্রত্যাহার  » «   জকিগঞ্জ থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল সিলেটে উদ্ধার  » «   কালিগঞ্জ বাজার থেকে ব্যাটারিসহ ৩চোর আটক  » «   উৎসব মুখর পরিবেশে আটগ্রাম বাজার কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন  » «  

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন

ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন শামসুন্নাহার। স্কোর লাইনটা বোঝাতে পারছে না ম্যাচে বাংলাদেশের দাপট। বল পজিশনে অনেক এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে আগের ম্যাচের মতো পুরো প্রাধান্য দেখাতে পারেনি গোলাম রব্বানীর শিষ্যরা। আসলে অঙ্ক কষেই মাঠে নেমেছিল ভারত।

বাংলাদেশের মেরুদণ্ড দুই মিডফিল্ডার অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা ও মনিকা চাকমাকে কড়া নজরে রেখে সফলতা দেখিয়েছে তারা। তবুও অদম্য বাংলাদেশকে থামানো যায়নি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে এক গোলও হজম করেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। অপরাজিত এই ট্রফিটি প্রয়াত সাবিনাকে উৎসর্গ করেছে বাংলাদেশ।
গতকাল ফাইনালে বাংলাদেশের রক্ষণ দেয়াল ভাঙতে পারেনি ভারত। তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহামুদাকে সময়মতো পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এসে দু-একটা বল ক্লিয়ার করতে হয়েছে। ফাইনালে এমন পরীক্ষা দিতে হবে এটা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। তাইতো বাংলাদেশের খেলার ধারায় এনেছিলেন পরিবর্তন। এদিন সেটপি  ছাড়া একটি বারের জন্য উপরে উঠতে দেখা যায়নি আখি খাতুনকে। মারিয়া মনিকাকে মার্কিয়ে রাখা হবে এটা বুঝেই নাকি নিলাকে মাঝ মাঠের জন্য তৈরি করেছিলেন নারী ফুটবলের এই জাদুকর। ‘আসলে ফাইনালতো এমন হবে। ভারত তাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে। এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম আমরা’- বলেন তিনি। আত্মবিশ্বাসী ছোটনের বিশ্বাস এই মেয়েদের দিয়েই দেশের ফুটবল বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে। সত্যিই তাই। পুরুষদের সাফে বাংলাদেশ সর্বশেষ ফাইনাল খেলেছে ২০০৫ সালে। এর পরের পাঁচ আসরের চারটিতেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। ভুটান লজ্জার পর গত এক বছরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে মামুনুলরা। সেখানে মেয়েদের ফুটবল দিন দিন বড় বিজ্ঞাপন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা বিক্রি করে দেশের ফুটবল এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলে ডাক পান মারিয়া। তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে তার সহ-অধিনায়কত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। গত বছর ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দলের সহ-অধিনায়কও ছিল মারিয়া। এরপরে জায়গা করে নেয় মূল জাতীয় দলে। শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত সাফে বাংলাদেশের রানার্সআপ হওয়ার পেছনে ছোট মারিয়ার অবদান কম নয়। যার ফলস্বরূপ অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে তার বাহুতেই বেঁধে দেয়া হয় বাংলাদেশের আর্মব্যান্ড। গতকাল শিরোপা জিতে মারিয়া বলেন, বড়দিনের আগে শিরোপা পেয়ে খুব ভালো লাগছে। বড়দিনের উৎসবটা ভালো হবে।’ গত বছর সাফ ফাইনালে শিলিগুড়িতে ভারতের বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ভারতকে দেশের মাটিতে সাফ অ-১৫ হারিয়ে কিছুটা তৃপ্ত কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘বিজয়ের মাসে এমন জয় আমাদের মহিলা ফুটবলের জন্য বড় তৃপ্তের।’ এই চ্যাম্পিয়নশিপ অনেককে উৎসর্গ করেছেন অধিনায়ক ও কোচ, ‘দেশের বিজয়ের জন্য শহীদদের, ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলে থাকার কথা প্রয়াত সাবিনাকে এই ট্রফি উৎসর্গ করছি।’ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন আখি খাতুন। গোল্ডেন বুট নিয়ে আখির মন্তব্য, ‘সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়ে ভালো লাগছে। নিজে এই পুরস্কার না পেয়ে অন্য কেউ পেলেও কষ্ট পেতাম না। দল জিতেছে এতেই খুশি।’ ডিফেন্ডার হলেও এই টুর্নামেন্টে খেলেছেন ফরোয়ার্ড হিসেবে। ফাইনালের একমাত্র গোলটিও করেছেন শামসুন্নাহার। ময়মনসিংহের এই ফুটবলার কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে পেরে খুশি, ‘আপনারা প্রশ্ন করেছিলেন শামসুন্নাহার ফরোয়ার্ডে পারবে কিনা। আমি গোল করে দেখিয়ে দিয়েছি- পেরেছি। কোচের কথা রেখেছি।’ কোচও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন শামসুন্নাহারকে, ‘ও একজন কমপ্লিট ফুটবলার।’ ভারতের কোচ ময়মল রকি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ খুব ভালো খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তারা সবদিক থেকে ভালো দল। আমরা চেষ্টা করেছিলাম গোল শোধের পারিনি।’
রোড টু ফাইনাল
বাংলাদেশ ৬-০ নেপাল
চার দলের রাউন্ড রবীন লীগ পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টে নেপালকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন তহুড়া খাতুন। আনুচিং মোগেনি করেন দুই গোল। অপর গোলটি এসেছে মনিকা চাকমার পা থেকে। সেরা খেলোয়াড় হন মনিকা চাকমা
বাংলাদেশ ৩-০ ভুটান
লীগের দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে মার্জিয়ারা জিতেছিলেন ৩-০ ব্যবধানে। এই ম্যাচে দুই গোল করেন আখি খাতুন। অপর গোলটি করেছেন সাজেদা খাতুন।  জোড়া গোল করে ম্যাচ সেরার খেতাব পান আখি খাতুন।
বাংলাদেশ ৩-০ ভারত
লীগের শেষ ম্যাচে ভারতকে ৩-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। আনুচিং, ডিফেন্ডার শামসুন্নাহার ও মনিকা গোল তিনটি করেন। আবারও ম্যাচ সেরা হন মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা।
ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বৃত্ত পূরণ
ফাইনালে শামসুন্নাহারের একমাত্র গোলে ভারতকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। লীগের তিন ম্যাচ আর ফাইনাল মিলিয়ে প্রতিপক্ষের জালে মোট ১৩ বার বল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। বিপরীতে একটি গোলও হজম করেনি।
টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়: আখি খাতুন (বাংলাদেশ)
সেরা গোলদাতা: প্রিয়াঙ্কা দেবী (ভারত) ৪ গোল
ফেয়ার প্লে ট্রফি: বাংলাদেশ

(মানবজমিন)

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.