মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং নবীজির সুন্নত

বিষয়টি এমন নয় যে, ধর্মের সত্যতা বিজ্ঞান দিয়ে মাপা হচ্ছে। বরং ধর্ম তো ঐশীবাণীর ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু যারা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে ধর্মকে অবজ্ঞা করেন তাদের ভালো করে বোঝা দরকার যে, ধর্ম যা বলেছে অবশেষে বিজ্ঞান তাই আবিষ্কার করছে। আর এমন তথ্য দেখে মোমিনের বিশ্বাস আরও পাকাপোক্ত হবে, হৃদয়ে প্রশান্তি লাভ করবে এবং অবিশ্বাসীর ইসলামের প্রতি আস্থা সৃষ্টি হবে- এটা শুধু অনুমান নয়, বহু বিজ্ঞানীর ক্ষেত্রে এমন হয়েছে বলে পৃথিবী দেখে নিয়েছে। ড. মরিস বুকাইলির কথাই ধরতে পারেন।সাম্প্রতিক গবেষকদের কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা আমার চোখে পড়ল; যেগুলো হাজারও বছর পূর্বে আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছিলেন এবং আজ অবধি তাঁর সেই বাণীগুলো হাদিসগ্রন্থাদিতে বিশুদ্ধ ও বিশ্বস্ত সূত্রে বর্ণিত ও সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে প্রিয় পাঠকদের জ্ঞাতার্থে দুটি প্রসঙ্গ তুলে ধরছি:

এক. গত ২৮ অক্টোবর’১৭ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত ডেইলি মেইল একটি জরুরি প্রতিবেদন ছেপেছে। সেখানে বলা হয়েছে, আধুনিককালে পশ্চিমা বিশ্বে (এবং তাদের অনুসরণে প্রাচ্যে) টয়লেটে পরিচ্ছন্নতার জন্য যে টিস্যু ব্যবহার করা হয় তা আদৌ যথেষ্ট নয়। বরং টিস্যু ব্যবহারের পরও যথাস্থানে মল থেকে যায়; এথেকে স্বাস্থ্য জনিত সমস্যা ও ইনফেকশন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান।

দি বিগ নেসেসিটির লেখক রোজ জর্জ বলেন, ‘আমি মনে করি এটা এমন বিভ্রান্তিকর ব্যাপার যে, লক্ষ লক্ষ মানুষ নোংরা অ্যানাসিসের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। টয়লেট পেপার এটি সরাতে পারে না।

মূলত এটাই ইসলামের শিক্ষা। পানিশূন্য আরবের মরুভূমিতে যে ইসলামের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জন্ম; সেই তিনি আজ থেকে হাজার বছর আগেই মানবজাতিকে এই থিওরি পেশ করে গেছেন। ঢিলা ব্যবহারের সঙ্গে পানিও ব্যবহার করতে বলেছেন এবং এমন উত্তম অভ্যাসের কথা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে সপ্রসংশ উল্লেখ করেছেন।

তার মানে পাশ্চাত্যের আধুনিকতা মূলত ইসলামের শিক্ষা থেকেই ধারকৃত। তবে ওরা কখনও তা বোঝাতে দেবে না। সেজন্য আলোচিত বিষয়েও সরাসরি পানির কথা না বলে তরল মিশ্রিত টিস্যু বা ওয়াইপ ব্যবহারের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সুতরাং দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, ইসলামই হলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, সময়োপযোগী এবং চির আধুনিক জীবনবিধান। দিনদিন সেটা প্রমাণিত ও প্রকাশিত হতেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।

দুই. গত ২১ নভেম্বর’১৭ সকালে ‘ডেইলি মেট্রো’ হাতে নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন চোখে পড়ল। সেখানে বলা হয়েছে, ‘অন্তঃসত্ত্বা নারী যদি ব্যাক বা পিঠের ওপর ভর করে ঘুমান তবে তার সন্তান মৃত জন্ম হওয়ার কিংবা নিদেনপক্ষে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল আশংকা রয়েছে। অতএব ওই প্রতিবেদনে গবেষকরা অন্তঃসত্ত্বা নারীগণকে কাত হয়ে ঘুমাতে পরামর্শ দিয়েছেন। টমি নামক একটি দাতা সংস্থার ব্যবস্থাপনায় প্রফেসর আলেকজান্ডার হিজেল এর নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। ‘ (মেট্রো, ২১.১১.১৭)

সুবহানাল্লাহ! এটা কিন্তু ইসলামেরই শিক্ষা। ইসলামি শরিয়তে ঘুমানোর সময় ডান কাতে হয়ে শোয়া সুন্নাত। উপুড় হয়ে শয়ন করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এভাবে শয়ন করাকে আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন না। (সহিহ বোখারি: ৬৩১৪)

অবাক করার মতো বিষয় হলো, আধুনিক বিশ্বে মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড আর ডলার ব্যয় করে রিসার্চ বা গবেষণা পরিচালনা করে যে বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে গবেষকগণ উপনীতহচ্ছেন বা যা আবিষ্কার করেছেন- সেই বিষয়টা খুবই সহজে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাজারো বছর পূর্বে আমাদের জানিয়ে দিয়ে গেছেন। তখন তো আর এই বিজ্ঞান ছিল না। হ্যাঁ এই বিজ্ঞান ছিল না, তবে এই বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের জ্ঞান দাতা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে নবীর কানেকশন ছিল বলেই তিনি এসব অনায়াসে বলে যেতে পেরেছেন। সুতরাং ইসলাম ও ইসলামের নবীরসত্যতা প্রশ্নাতীত। আধুনিক বিজ্ঞান সেই সত্য ধীরে ধীরে আরও উন্মোচন করে দেবে।

লেখক :মাহফুয আহমদ, আলোচক, ইকরা টিভি, লন্ডন
ইমেইল : mahfujahmed783@gmail.com

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.