বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
হাফছা কলেজ ছাত্রী তানিয়া আক্তার ঝুমার বিষ পানে মৃত্যু  » «   প্রবাসীর মেয়ে ইসমত আরা বিসিএস ক্যাডার হতে চায়  » «   জকিগঞ্জ পৌর এলাকায় গ্যাসের সন্ধান; বাপেক্স কর্মকর্তাদের স্থান পরিদর্শন  » «   জকিগঞ্জে অমর একুশে বই মেলা শুরু  » «   হাজী আব্দুল আজিজ তাপাদার গার্লস একাডেমির শিক্ষা সফর  » «   বালাউট ছাহেব বাড়ি সংলগ্ন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন  » «   আলোর দিশারী সংস্থার পুরস্কার প্রদান ও সৌর বিদ্যুৎ লাইটের উদ্বোধন  » «   ২০১৯ সালের ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারী হাড়িকান্দি মাদ্রাসার শতবার্ষিকী পালন করা হবে  » «   ইছামতি কামিল মাদরাসার ৭২তম বার্ষিক মহাসম্মেলন আগামীকাল রবিবার  » «   নান্দিশ্রী ছাত্র কল্যাণ সংস্থার আত্মপ্রকাশ  » «  

বিশ্বনাথে বাথরুমে পানিতে চুবিয়ে দুই শিশু হত্যা

বিশ্বনাথ উপজেলায় নিজ বসতবাড়ির বাথরুম থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় একই জায়গা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাদের মা রনি বেগমকে (২৬) উদ্ধার করা হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের কোনাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানদের পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর ওই নারী ‘ডেটল’ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে রনি বেগম বিষয়টি অস্বীকার করে তার স্বামীকে অভিযুক্ত করেছেন। নিহতরা হলো কোনাউড়া গ্রামের কৃষক কবির আলীর ছেলে নাহিদুল ইসলাম (৩) ও ওয়াহিদুল ইসলাম রোমান (১৮ মাস)।

জানা গেছে, বসতঘরের অব্যবহৃত একটি বাথরুমের দুটি বড় বালতির মধ্যে পানিতে ডুবিয়ে (চুবিয়ে) নাহিদুল ও ওয়াহিদুলকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের বাবা কবির আলী বলেন, ‘সকালে দুই ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় রেখে কৃষিকাজের জন্য ক্ষেতে যাই। কাজ শেষ করে নগরের বন্দরবাজার থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। বাসার ছাদসহ সব কটি কক্ষে খুঁজে না পেয়ে অব্যবহৃত বাথরুমে খুঁজতে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকানো দেখতে পাই। এ সময় ধাক্কাধাক্কি করেও দরজা ভেতর থেকে না খোলায় শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি পৃথক বালতিতে দুই ছেলের পা ওপরের দিকে এবং মাথা নিচের দিকে দেওয়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।’ এ সময় ছোট ছেলের মরদেহের পাশে স্ত্রী রনিকে বসে থাকতে দেখেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনার পর থেকে নিহত দুই শিশুর মা ও বাবা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে মা রনি বেগমকে জড়িত সন্দেহ করলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, স্বামী কবির আলী পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে তাঁর সন্তানদের হত্যা করেছেন। রনি বেগম বলেন, ‘আমার সঙ্গে আমার স্বামীর কিছুদিন ধরে কলহ চলছিল। তিনি আরেকটি বিয়ে করতে চাইলে পারিবারিক মনোমালিন্য শুরু হয়। তখন থেকেই বাচ্চারাও আমার স্বামীর চোখের বিষে পরিণত হয়।’ ঘটনার দিন তিনি পুকুর ঘাটে ছিলেন দাবি করে রনি বেগম বলেন, ‘ভাসুরের স্ত্রীর ইন্ধনে আমার স্বামী নিজের শিশুপুত্রদের হত্যা করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।’

এ ঘটনায় নিহতদের বাবা কবির আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে জানিয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের লাশ ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে রনি বেগম জড়িত থাকার ধারণা করছি। পারিবারিক কলহ থেকেই শিশুদের হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। হত্যার পর তিনি ‘স্যাভলন’ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।” খবর পেয়ে পুলিশ রনি বেগমকে আটক করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক বলেন, ‘স্যাভলন খেয়ে অসুস্থ অবস্থায় রনি বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। তবে তিনি মানসিক রোগী কি না

জানতে তাঁকে মানসিক বিভাগে স্থানান্তর করা হবে।
(কালেেরকন্ঠ)

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.