মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জকিগঞ্জে ইয়াবাসহ নারী আটক  » «   জকিগঞ্জের দপ্তরী নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন; পুলিশের বাঁধা  » «   জকিগঞ্জে প্রতিবন্ধিদের মধ্যে ক্র্যাচ বিতরণ  » «   জকিগঞ্জে পল্লী চিকিৎসকদের কমিটি গঠন  » «   জকিগঞ্জ বনাম বিশ্বনাথের খেলা ২১অক্টোবর; খেলোয়াড় বাছাই ১৭অক্টোবর  » «   জকিগঞ্জে দুর্গাপূজা শুরু, ৯৮টি পূজা মন্ডপে ৪৮টন চাল বিতরণ  » «   জকিগঞ্জসহ সারাদেশে প্রাইমারী দপ্তরী নিয়োগ স্থগিত করলেন মন্ত্রী  » «   শিলচরে বাংলাদেশী বন্দিদের খোঁজ নিলেন ডেপুটি হাই কমিশনার  » «   ইছামতি কামিল মাদ্রাসায় সংবর্ধনা পেলেন ডক্টর আহমদ আল কবির এবং আলহাজ্ব শামীম  » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন  » «  

বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত জকিগঞ্জ হাসপাতাল

সিলেট জেলা সদর হতে দূরবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জের হাসপাতালটি হাজার সমস্যায় জর্জরিত
অথচ জকিগঞ্জ উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষের চিকিৎসার
একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। এ হাসপাতালে
সাধারণ লোকের ভিড়ই তুলনামূলকভাবে বেশি।
প্রতিদিন এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয় ২০/২৫ জন।
রোগী সংখ্যা থাকে প্রতিদিন ই ৫০ জনের উপরে কিন্তু হাসপাতালে বেড সংখ্যা মাত্র ৪০ টি।
কয়েকদিন আগে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন তারুণ্য ছাত্র ঐক্য পরিষদ এর একটি টিম শান্ত পাটওয়ারীর নেতৃত্বে
হাসপাতালটি সরেজমিনে দেখতে গিয়ে অনেক
সমস্যা প্রত্যক্ষ করে এসেছে। তাদের তথ্য মতে,ড্রেনের সঙ্গে
হাসপাতালের পয়ঃনিষ্কাশনের সংযোগ ঘটায় এবং
ওয়ার্ডে ও করিডোরে যত্রতত্র কফ, থুথু ও পানের পিক
ফেলায় ময়লা আবর্জনায় একাকার। সর্বত্র দুর্গন্ধে
এক দমবন্ধ পরিবেশ। বিছানার চাদর ময়লা ও
নোংরা যা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়না।
বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের কোন ব্যবস্থা নেই, ফ্যান থাকলেও বাতাস নেই, নার্স নেই,ডাক্তার সংকট,সরকারি ঔষুধ সরবাহের সংকট সহ হাসপাতাল টি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত।
ওই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মেডিকেল পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মেহেদি, মেডিকেল অফিসার(আবাসিক) ডাঃখালেদ এর সাথে মতবিনিময় করলে ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মেহেদি বলেন যে, হাসপাতাল টি সত্যি খুবি সুবিধা বঞ্চিত,হাসপাতালের নির্দিষ্ট কোন বরাদ্ধ না থাকায় হাসপাতালের উন্নয়ন সাধন করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে আমাদের ডাক্তার -নার্স সংকট। হাসপাতালে ডাক্তার সংখ্যা মাত্র ৪-৫ জন, নার্স থাকার কথা ১২ জন কিন্তু এখন আছে মাত্র ৪ জন।
ডাক্তার বা নার্স কেউ ই জকিগঞ্জে এসে থাকতে চায় না,জকিগঞ্জে গ্যাস নেই,যোগাযোগ ব্যবস্থা সমস্যা ভালো শিক্ষা প্রতিষ্টান এর সমস্যা ইত্যাদি অজুহাত দেখিয়ে কেউ ই জকিগঞ্জে আসেন না। কয়েকদিন আগে গাইনী বিভাগের একজন মহিলা ডাক্তার সকালে হাসপাতাল জয়েন করে বিকালে বদলি হয়ে চলে যান।
আরো জানা যায় যে, এই হাসপাতালে চারজন ডাক্তারের বসার কোন জায়গা নেই।
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ও ওয়ার্ডে সাকার
মেশিন নেই। অক্সিজেন সিলিন্ডার খুবই কম।
প্যাথলজি বিভাগে একটি পুরনো অণুবীক্ষণ যন্ত্র
আছে, পরীক্ষা করার কোন রি এজেন্ট নেই। একটি
ফ্রিজ ও একটি অ্যাম্বুলেন্স ছিল। দীর্ঘদিন ধরে
অকেজো হয়ে পড়ে আছে। স্টেরিলাইজেশন মেশিন
নষ্ট। অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির
অভাব রয়েছে যেগুলো আছে সেগুলো বহুদিনের
পুরনো। ফলে বর্তমানে হাসপাতালে কোন
অপারেশন করা হয় না।চল্লিশ বেডের এই হাসপাতালে ২ টি ওয়ার্ড রয়েছে।
কিন্তু প্রতিদিন ই হাসপাতালে গড় রোগীর ভর্তি সংখ্যা ধারায় ৫০ এর উপরে কিন্তু পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে সমস্যা হয়। গত ২ বছর আগে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়, কিন্তু ঠিকাদারি গাফলতি কারণে ভবন নির্মানের পরপর ই ভবন ফাটল দেখা যায়,তাই ভবন টি এখনো চালু করা যায় নি। এক্সরে বিভাগটির
দৃশ্য করুন। দুটি পুরনো এক্সরে মেশিনের মধ্যে একটি
দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। প্রোটেকশনের ভালো ব্যবস্থা
না থাকায় এক্সরে বিভাগ থেকে রেডিয়েশন
হ্যাজার্ড হচ্ছে বলে ডাক্তাররা জানান। কোন
টেকনিশিয়ান নেই। তাই বিভাগটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা।
গর্ভবতী মহিলাদের প্রসবের সময় একটু জটিলতা দেখা দিলে সুদূর সিলেট পাঠিয়ে দেয়া হয় ফলে মা ও বাচ্চার মৃত্যু ঝুকি দেখা দেয়।
পর্যাপ্ত বরাদ্ধ না থাকায় হাসপাতালে কোন উন্নয়ন করা যাচ্ছে না।ডাঃ মেহেদি বলেন,বরাদ্ধ না থাকা স্বত্তেও নিজে নিজের ব্যক্তিগত পক্ষ হতে হাসপাতালের উন্নয়নে সাহায্য করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ই হাসপাতাল পরিষ্কার করা হয়।রোগীদের সাথে থাকা আত্মীয় স্বজন রা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও সেটা ব্যবহার না করে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে হাসপাতাল এর পরিবেশ দুষণ করছেন, যার ফলে চারিদিকে গন্ধ ছড়াচ্ছে।
এম্বুলেন্স সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে ডাক্তার রা জানান, জকিগঞ্জ হাসপাতাল এর যে এম্বুলেন্স টি ছিল তা বিএনপি-জামাতের ডাকা হরতালে নাশকতার সময় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়,পরবর্তীতে অন্য জায়গা থেকে রিপিয়ারিং করে একটি এম্বুলেন্স দিলেও এটির সার্ভিস তেমন ভালো না কয়েকদিন পর পর নষ্ট হয়ে যায়।
প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, নার্স, ডাক্তার এবং ওষুধ
সরবরাহের অভাবে চিকিৎসার সুযোগ খুব কম।
তারুণ্য ছাত্র ঐক্য পরিষদ এর সভাপতি শান্ত পাটওয়ারী আমাদের জানান,হাসপাতাল টির এই দূর অবস্থার জন্য চিকিৎসার অভাবে অনেকে প্রাণহানি ঘটছে। গত নভেম্বর মাসে, আমার মা এর অসুস্থতা বেড়ে গেলে এম্বুলেন্স এর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে এম্বুলেন্স এ যান্ত্রিক ত্রুটি থাকার কারণে এম্বুলেন্স পাই নি।ফলে আমার মা কে হারাতে হয়।
এ রকম টা যেন আর না হয় সেই লক্ষ্যে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতাল টির সংস্কার এর জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
অনতিবিলম্বে এ হাসপাতালের দুরবস্থা
কাটিয়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের বলিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

★লেখা-Santho Patwary

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.