রবিবার, ১৯ আগষ্ট, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন   » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালন  » «   বারহালে মাদক,সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আলোচনা সভা সম্পন্ন  » «   আটগ্রামে স্কুল ছাত্র সাজুর ইন্তেকাল  » «   আটগ্রামে সরকারি গোপাট উন্মুক্ত করতে ইউএনও বরাবরে অভিযোগ  » «   কালিগঞ্জ বাজারে একটি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি  » «   রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কুন্টি মিয়ার দাফন সম্পন্ন  » «   জকিগঞ্জে ডিজিটাল কনটেন্ট বিষয়ে দিন ব্যাপি কর্মশালা  » «   নৌকার সমর্থনে মাসুক উদ্দিন আহমদের গণ সংযোগ  » «   ৯ইউপি ও ১পৌরসভায় ত্রাণ বিতরণ করবে জকিগঞ্জ সোসাইটি অব ইউএসএ ইন্ক  » «  

বাংলাদেশে ফিরতে চান ১০২ বছরের বৃদ্ধা

শিলচর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে উনমতী বিশ্বাস

তাজ উদ্দিন, শিলচর (আসাম), ১ জুন : নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে চরম বিতর্কের মধ্যে বুধবার জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা হলেন ১০৪ বছরের বৃদ্ধা উনমতি বিশ্বাস ও তাঁর ছেলে ধাতু বিশ্বাস। কোনও লুকোচুরি নেই, পুলিশ-আদালত থেকে শুরু করে সব জায়গায় জানিয়ে এসেছেন, নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে চলে এসেছেন তারা। ভারতেই থাকতে চেয়েছিলেন। আদালতের রায়, ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তাদের ভারতে থাকতে আপত্তির কিছু নেই। তাই তাদের জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হোক। জেল সুপার প্রশ্ন তোলেন, কার জিম্মায় দেওয়া হবে তাঁদের। মুক্তির নির্দেশের পর নিকটাত্মীয়কে এসে কয়েদিকে জেল থেকে নিয়ে যেতে হয়। তাঁদের বেলায় কী হবে? খুব বেশি জলঘোলার আগেই শিলচরের হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এগিয়ে আসে। সংগঠনের পক্ষে রাজীব নাথ ও পঙ্কজকান্তি দে বাংলাদেশি মা-ছেলেকে নিয়ে যান তাঁদের কার্যালয় গোবিন্দবাড়িতে।
মা-ছেলেকে ২০১৭ সালের ২৫ মে পুলিশ শিলচর সর্বোদয় বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে গ্রেফতার করেছিল। তখন তাঁরা জানিয়েছিলেন, এক আত্মীয়বাড়ি উঠেছেন। কিছুদিন পরই তাঁরা তাড়িয়ে দেন। পরে ঘরভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু হাতের টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় স্কুলের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন। ভিক্ষা করে কোনওদিন খাওয়া জুটত, কখনও উপোস থাকতে হয়েছে। তাই গ্রেফতারের পর উনমতিদেবী বলেন, জেলে গিয়ে অন্তত দুবেলা দুমুঠো ভাত জুটবে। নিজস্ব আইনজীবী নেওয়ার সাধ্য পর্যন্ত ছিল না তাদের। আদালতই জেলা আইনি সহায়তা কেন্দ্রের কাউন্সেল রঞ্জু দেবকে দায়িত্ব দেয়। রঞ্জুবাবু গেজেট বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গ টেনে জানান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে কোনও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন ভারতে এসে আশ্রয় নিলে, সরকার তাকে সুরক্ষা দেবে। তারা প্রয়োজনে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে জেল থেকে
বেরিয়েই অবশ্য ধাতু বিশ্বাস জানান, বাংলাদেশে তাদের বাড়িঘর, জমিজমা রয়েছে। সেখানে আছে তার স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে। তাই ভারত সরকার যেন তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করে দেন। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মকর্তারা তাদের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে। তাঁদের কথায়, ‘এঁরা থাকতে চাইলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানানোর ব্যবস্থা করা হবে। ফিরে যেতে চাইলেও তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সঙ্গে কথা বলব।’

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.