রবিবার, ২২ জুলাই, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বরাক উপত্যকায় বিশ্বকাপ উন্মাদনায় বন্যার থাবা


তাজ উদ্দিন, করিমগঞ্জ (আসাম), ২৪ জুন : বিশ্বকাপ ফুটবল এলে গোটা বিশ্বে এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। আসামের বরাক উপত্যকা এর চেয়ে কোনও অংশে ব্যতিক্রম ছিল না অতীত দিনগুলিতে। তবে এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে বরাকের কাছাড়, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ জেলায় তেমন উৎসাহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। মূলত বন্যার জলের নিচে চলে গেছে বরাকের বিরাট একটা অংশ। এতেই বিশ্বকাপের উৎসাহে ভাঁটা পড়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল এখন বরাক সফরে রয়েছেন।
বরাক থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে বেশ কয়েকজন ফুটবলপ্রেমী মাঠে বসে খেলা দেখেন। ফিফার প্রাক্তন সহকারী রেফারি মৃণালকান্তি রায় এবং শিলচর ডি এস এ সভাপতি বাবুল হোড় তো বিশ্বকাপ সফরে যাওয়া রুটিন করে ফেলেছেন। মায়ের অসুখ রেখেও মৃণালবাবু এখন রাশিয়ার মাটিতে। আর, গত বছর হার্টের বাইপাস সার্জারির পরও বাবুল হোড় কিন্তু বসে নেই। একুশতম বিশ্বকাপের টিকিট এবং ফ্যান আই ডি ইতিমধ্যে তাঁর হাতে। দু-তিনদিনের মধ্যে মস্কোর বিমানে চাপবেন। এছাড়াও শিলচর এবং লক্ষীপুর শহর থেকে আরও কয়েকজন ক্রীড়াপ্রেমী এবারের বিশ্বকাপের আসরে হাজির থাকছেন।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থা চত্বরে দর্শকদের খেলা দেখার জন্য জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হয়েছে। মাসব্যাপী খেলা দেখানোর আয়োজন হয়েছে আসাম সরকারের পক্ষ থেকে। শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় মোটামুটি ভিড়ও হচ্ছে।
এত কিছুর পরও শিলচর -করিমগঞ্জে নেই বিশ্বকাপ উন্মাদনা। বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা বিশ্বকাপ উপলক্ষে অন্যান্য বছরের মতো পণ্যের প্রচারও করছে না। টেলিভিশন বিক্রির অফার সহ সাইনবোর্ড লাগেনি। এর উপর রয়েছে বন্যার প্রাদুর্ভাব। বন্যার জন্য বিদ্যুৎ নেই, বিদ্যুৎ থাকলেও মন ভাল নেই। ফলে বিশ্বকাপ দেখার আগ্রহও নেই। বিশ্বকাপকে উপলক্ষ করে ফুটবলের যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাতে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগায় স্থানীয়ভাবে আয়োজিত টুর্নামেন্টগুলি। বন্যার মরশুম হওয়ায় তা-ও এবার উধাও।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সময় শিলচরের মানুষজন সরাসরি মারাদোনার খেলা দেখতে পারেননি। টেলিভিশন চ্যানেলে খেলা দেখা সম্ভব ছিল না। বরং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী করিমগঞ্জে বিটিভির মাধ্যমে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা যেতো। শিলচর থেকে করিমগঞ্জ গিয়ে অনেকে খেলাও দেখেছেন। সেই ফুটবল উন্মাদনার বরাক উপত্যকায় এবার স্মারক, জার্সি, পতাকা ইত্যাদি বিক্রিও কমে গেছে। ক্রীড়া সামগ্রীর দোকান সাজিয়ে তেমন ক্রেতা পাচ্ছেন না সত্যব্রত রায়। বাকিদেরও একই অবস্থা। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা, জার্মানির মতো দল গ্রুপ থেকে ছিটকে গেলে তাদের ব্যবসা আরও মার খাবে।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.