মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জকিগঞ্জে ইয়াবাসহ নারী আটক  » «   জকিগঞ্জের দপ্তরী নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন; পুলিশের বাঁধা  » «   জকিগঞ্জে প্রতিবন্ধিদের মধ্যে ক্র্যাচ বিতরণ  » «   জকিগঞ্জে পল্লী চিকিৎসকদের কমিটি গঠন  » «   জকিগঞ্জ বনাম বিশ্বনাথের খেলা ২১অক্টোবর; খেলোয়াড় বাছাই ১৭অক্টোবর  » «   জকিগঞ্জে দুর্গাপূজা শুরু, ৯৮টি পূজা মন্ডপে ৪৮টন চাল বিতরণ  » «   জকিগঞ্জসহ সারাদেশে প্রাইমারী দপ্তরী নিয়োগ স্থগিত করলেন মন্ত্রী  » «   শিলচরে বাংলাদেশী বন্দিদের খোঁজ নিলেন ডেপুটি হাই কমিশনার  » «   ইছামতি কামিল মাদ্রাসায় সংবর্ধনা পেলেন ডক্টর আহমদ আল কবির এবং আলহাজ্ব শামীম  » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন  » «  

বরকতময় শবে বরাত

হাফেজ নুর মোহাম্মদ: মহান আল্লাহ অসীম করুণায় তাঁর অনুগত বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য ১২ মাসের মধ্যে কিছু সময় বা রাত অন্য কোনো সময় বা রাতের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ করেছেন, ওই সব বরকতময় রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিদান করে থাকেন। সেইসব রাতের মধ্যে অন্যতম শবেবরাত। যে রাতটি হাদিসে মধ্য শাবানের রাত হিসেবে পরিচিত। এটি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। সলফে সালেহিন এবং বিজ্ঞ মুসলিম মনীষীরা এই রাতটিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছেন। সাধারণ মুসলমানরা তাই এই রাতে মর্যাদার সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগি করে থাকেন।
‘শবেবরাত’ ফারসি শব্দ। আর ফার্সিতে ‘শব’ এর অর্থ রাত। আর ‘বরাত’ অর্থ ভাগ্য। সুতরাং ভাগ্যরজনী। আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে এরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আমি একে (কোরআন) নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। আর বণ্টন করে দেওয়া হয় প্রত্যেক হিকমতময় কাজ।’ (সূরা দুখান : ৩-৪)। বর্ণিত আয়াতে মোবারক তথা বরকতময় রাত দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে এ বিষয়ে মুফাসসিরদের দুটি মত পাওয়া যায়। তন্মধ্যে প্রথমত, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.), হজরত কাতাদা (রা.) ও হজরত মুজাহিদ (রা.) এর মতে, লাইলাতুম মোবারকা বলতে লাইলাতুল কদর বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, হজরত ইকরামা (রা.) এর মতে, লাইলাতুম মোবারকা বলতে ১৪ শাবান দিবাগত রাত তথা শবেবরাতকে বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে দুররে মানসুর : ৭/ ০১; তাফসিরে কাশফুল আসরার : ৯/৯৮)।
তাফসিরে জালালাইনে বর্ণিত আছে, লাইলাতুল মোবারক তথা বরকতময় রাত হচ্ছে হয়তো শবেকদর অথবা অর্ধ শাবানের রাত তথা শবেবরাত। (জালালাইন : ৪১০)। অবশ্য বিশুদ্ধ মতানুযায়ী মোবারক রাত বলতে এখানে শবে কদরকেই বোঝানো হয়েছে। যেমনটি বলেছেন ইবনে কাসির (রহ.)।
হজরত আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘অর্ধশাবানের রাতে আল্লাহ তায়ালা মুশরিক ও শত্রুতা পোষণকারী ব্যক্তি ব্যতীত সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে মাজাহ : ১৩৮৯; শুয়াবুল ঈমান : ৩/৩৮২)। অপর এক বর্ণনায় আছে, হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন আর কালব নামক গোত্রের ছাগলের সমুদয় পশমের চেয়েও বেশি সংখ্যক ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেন।’ (তিরমিজি : ৩/১১৬; শুয়াবুল ঈমান : ৩/৩৭৯)।
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) এরশাদ করেন, ‘যখন শাবানের ১৫ তারিখের রাত আগমন করে তখন তোমরা রাতে জাগ্রত থেকে মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করো এবং পরদিন রোজা পালন করো, কেননা ১৪ তারিখের সূর্য অস্ত যাওয়া তথা ১৫ তারিখের রাত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন। তিনি বলতে থাকেনÑ ‘আমার বান্দাদের মধ্য কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি? ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দেব, কেউ রোগাক্রান্ত আছ কি? আমি মুক্ত করে দেব। কেউ রিজিক চাওয়ার মতো আছ কি? আমি রিজিক দিয়ে দেব। কেউ আছ কি? কেউ আছ কি? এভাবে (সুবহে সাদেক) পর্যন্ত আহ্বান করতে থাকেন।’ (ইবনে মাজাহ)।
উল্লেখিত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, এ মহিমান্বিত রাতের আগমন মুসলমানের জন্য নিঃসন্দেহ অত্যন্ত সৌভাগ্য ও মর্যাদার কারণ। নিজ নিজ জীবনের পাপগুলো মাফ করিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এই মহান রাত। এ রাতের ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসগুলো নিয়ে হাদিসবিশারদরা বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করলেও বহু মোহাদ্দিস ও যুগশ্রেষ্ঠ মনীষীর মতে, সবগুলো হাদিস থেকে মৌলিকভাবে রাতটির ফজিলত অস্বীকার করার উপায় নেই। ইমাম ইবনে তাইমিয়া, ইবনে রজব হাম্বলিসহ বহু মনীষীর মতে, এ রাতে ব্যক্তিগত ইবাদত করতে কোনো বারণ নেই।
তাই আসুন আমরা এ মহান বরকতময় রাতে মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ব্যক্তিগতভাবে নির্জনে নফল নামাজ, রোজা, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ইত্যাদি আমল করার চেষ্টা করি। বিরত থাকি আতশবাজি, কোরআন-সুন্নাহ অসমর্থিত কথা ও কর্ম থেকে।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.