শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জকিগঞ্জে বৃহত্তর খলাছড়া প্রবাসী কল্যান সংস্থার আহবায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ  » «   জকিগঞ্জ বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ  » «   পাঠানচক প্রবাসী জনকল্যাণ সংস্থার কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শনিবার  » «   প্রতিবন্ধী ও দরিদ্রদের মধ্যে জকিগঞ্জ এইচটিএ সেবা ফাউন্ডেশনের চাল বিতরণ  » «   সিলেট তিব্বিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর, জকিগঞ্জের সন্তান আব্দুর রবের ইন্তেকাল  » «   দূর্ঘটনায় নিহত জকিগঞ্জের সালমান আহমদ সুমনের দাফন  » «   দরিদ্র, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে জকিগঞ্জ এইচটিএ সেবা ফাউন্ডশনের ইফতার  » «   বারহাল ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন  » «   জকিগঞ্জে ফার্মাসিউটিকেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ এসো: কমিটি গঠন  » «   বাসের ধাক্কায় জকিগঞ্জের সুমনের মর্মান্তিক মৃত্যু  » «  

ফেসবুকে প্রেম, তাসপিয়ার লাশ মিলল পতেঙ্গায়

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা কর্ণফুলী নদীর পাড় থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত তরুণীর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। লাশটি স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিনের মেয়ে তাসপিয়া আমিনের বলে জানিয়েছে পুলিশ। পতেঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত তাসপিয়া নগরীর সানশাইন ইংলিম গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বুধবার সকালে লাশটি উদ্ধার হওয়ার পর লাশের ছবি গণমাধ্যমসহ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে মোহাম্মদ আমিনের এক আত্মীয় থানায় এসে মরদেহটি তাদের মেয়ে তাসপিয়ার বলে নিশ্চিত করেছেন। ওই আত্মীয় আমাদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে তাসপিয়া বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাসপিয়ার মৃত্যুতে তার মা-বাবাসহ পুরো পরিবার শোকার্ত। এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ হয়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলবো।’

এর আগে বুধবার (০২ মে) সকালে পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ঘাটে কর্ণফুলী নদীর তীরে লাশটি দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

এদিকে, এ ঘটনায় তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনান মির্জাকে আটক করেছে পুলিশ। আদনান নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকায় থাকে। তাদের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নে। আর পড়ালেখা সানশাইন গ্রামার স্কুলেই।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর ওআর নিজাম রোডের গোল পাহাড় মোড়ে চায়না গ্রিল নামে একটি রেস্টুরেন্টে প্রেমের এক মাস পূর্তি উৎসবে মিলিত হয় তাসপিয়া ও আদনান। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে তারা দুজন।

রেস্টুরেন্টের বয় উজ্জ্বল জানান, মঙ্গলবার শবেবরাত ও মে দিবসের ছুটির কারণে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রেস্টুরেন্ট খোলা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর অর্থাৎ ৫টা ২০ মিনিটের দিকে রেস্টুরেন্টে আসে এক তুরণ-তরুণী যুগল। তারা রেস্টুরেন্টের ৮নং কেবিনে বসে। এরপর খাবার ওর্ডার নিতে গেলে শুধুমাত্র ২টা আইসক্রিম অর্ডার করে তারা।

প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অবস্থানের পর চলে যায়। এ সময় দুইটি আইসক্রিমের মূল্য ১৫০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা এবং ৭৫ টাকা ভ্যাট ও ট্যাক্স মিলেয়ে ৩৭৫ টাকা পরিশোধ করে আদনান। এরপর সপ্তম তলার এই রেস্টুরেন্ট থেকে লিফটে একই সাথে নেমে যায় তারা। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই তাসপিয়াকে একটি সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে দেয় আদনান। পরে আরেকটি সিএনজি অটোরিকশাটিযোগে আদনানও স্থান ত্যাগ করে।

তাসপিয়ার পরিবারের সাথে আলাপকালে স্বজনরা জানান, তাসপিয়ার ব্যবসায়ী বাবা মো. আমিন মঙ্গলবার বিকেলে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন মসজিদে। বাসায় তাসপিয়ার আম্মু ব্যস্ত ছিলেন গৃহস্থালি কাজে। তাসপিয়া বাসা থেকে কাউকে না বলেই বেরিয়ে গেছে।

নামাজ পড়ে এসে তাকে বাসায় না পাওয়ায় বিচলিত হন বাবা। আগে থেকেই আদনানের সাথে তাসপিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি জানা ছিল তার। খোঁজাখুঁজির পর তাসপিয়াকে না পেয়ে তার বন্ধুদের কাছ থেকে আদনানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন বাবা। এরপর কল করে আনা হয় আদনানকে। তাকে নিয়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে যান তারা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিস্তারিত বোঝার চেষ্টা করেন।

আদনানও স্বীকার করে এক সাথে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা। এরপর তাসপিয়াকে আদনান সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দিয়েছিল বলেও জানায়। মঙ্গলবার বিকেল ৬টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ঘটনা আদনানের স্বীকারোক্তির সাথে মিলে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজও বলছে একই কথা। তবে এর পরের ঘটনা উল্টো।

অভিযোগ করা হয় নগরের পাঁচলাইশ থানায়। পুলিশ রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদনানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আদনানকে। সেখানে প্রায় দুই-দেড় ঘণ্টার মাথায় আদনানের দুই বড়ভাই সন্ত্রাসী ফিরোজ ও আকরাম তাসপিয়াকে বাসায় পাঠানোর শর্তে ছাড়িয়ে নেয় আদনানকে।

রফিকুল ইসলাম নামে তাসপিয়াদের এক নিকটাত্মীয় জানান, সন্ধ্যায় যখন তাসপিয়াকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তাসপিয়ার মা বেগম আমিন আদনানকে মোবাইল ফোন করে বাসায় ডাকেন। রাত ৮টার দিকে আদনান ওআর নিজাম রোডে তাসপিয়াদের বাসার সামনে গিয়ে তাসপিয়ার মায়ের সাথে দেখা করে। এ সময় তাসপিয়া কোথায় জানতে চাইলে আদনান জানায় রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই তাসপিয়া বাসায় চলে এসেছে। তবে তাসপিয়া সে সময়ও বাসায় ফিরেনি।

রফিকুল ইসলাম আরো জানান, ফেসবুক ও ইমোতে যখন ম্যাসেজ আদান-প্রদান হতো, বিষয়টি ঠিকই টের পেয়েছেন তাসপিয়ার মা। এ সময় থেকে মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তবে এর মধ্যেও যে এমন হবে?

নিহত স্কুলছাত্রী তাসপিয়া

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাসপিয়ার এক আত্মীয় জানান, তাসপিয়ার সাথে আদনানের সম্পর্কের কথা তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিনকে কয়েক দিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন তাসপিয়ার মা। ওই সময়ই তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন আদনানকে ডেকে শাসিয়ে দেন। মেয়ের পথ থেকে সরে যেতে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি।

এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার জানান, সকালে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধারের পর দুপুরের দিকে তাসপিয়াকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। এর আগে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও সিআইডি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

আনোয়ার জানান, তাসপিয়াকে পাথরের উপর উপুর হয়ে পড়ে থাকাবস্থায় পাওয়া গেছে। পরনে হালকা গোলাপি সালোয়ার কামিস। গায়ের রঙ ফর্সা। তবে দুই চোখ ও হাঁটুতে হাল্কা আঘাতের চিহ্ন আছে। মুখের মধ্যে ফেনা ছিল।

ধর্ষণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এই তদন্তকারী অফিসার জানান, সেটা সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে বলা যাবে। সে ব্যাপারে সিআইডি তাদের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বলা যাবে ঘটনাটি কী।
বিকেল ৫টায় নগরীর পতেঙ্গা থানা থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাসপিয়ার মৃতদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্য আরাফাত। এর কিছুক্ষণ পর একটি রাল রঙের মাইক্রো নিয়ে মর্গে আসে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন ও চাচা নুরুল আমিনসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন স্বজন ও প্রতিবেশী।

এ সময় তাসপিয়ার বাবা মিডিয়াকে বারবার এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। চাচা নুরুল আমিন জানান, তাসপিয়া পরিবারের সবার বড়। গ্রামের বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকায়। এখানে নগরীর ওআর নিজাম রোডে ভাড়া বাসায় স্বপরিবারে থাকেন। পরিবারের ৪ সন্তানের মাঝে তাসপিয়া সবার বড়। এরপর আরো দুই বোন। সর্বকনিষ্টজন ভাই। তবে পরিবারের সদস্য ছাড়া তাসপিয়া কখনো একা বাসা থেকে বের হয়নি। গাড়ি নিয়েই স্কুলে আসা-যাওয়া করতো। সাথে মা, না হয় বাবা থাকতেন। এর মধ্যেও ফেসবুকে সম্পর্ক হয়ে আজ এতো বড় ক্ষতি।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.