মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
কালিগঞ্জে তালামীযের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন  » «   বারহাল চক বুরহানপুর স্টুডেন্ড ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের উদ্যোগে ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সম্পন  » «   মহিদ পুর দিঘীর পার প্রবাসী বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্হা এর পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য বিতরণ  » «   জকিগঞ্জ প্রবাসী ঐক্য পরিষদের ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   জকিগঞ্জে আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিল  » «   জকিগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন কমিটির ইফতার  » «   আগামীকাল পবিত্র জুমাতুল বিদা  » «   হুসনাবাদ মসজিদে দারুল ক্বেরাতের বিদায় ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   বারঠাকুরীর কজাপুরে বিদ্যুৎ উদ্বোধন  » «   জকিগঞ্জ থানা পুলিশের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «  

প্রেমের টানে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ, দরিদ্র যুবককে বিয়ে

Natore-pic-20170518132553

ফেসবুকে প্রেম। অতঃপর ভালবাসার মানুষটিকে কাছে পেতে সুদুর থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের নাটোরে এসে প্রেমিক যুবককে বিয়ে। গল্পটি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আজাদ হোসেনের ছেলে মোবাইল মেকানিক অনিক খান (২২) ও থাই নাগরিক সুপুত্তো ওরফে ওম ওরফে সুফিয়া খাতুনের (৩৬)। গতকাল বুধবার নাটোর আদালতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

বর অনিকের নাটোরের শাহগোলা বাজারে একটি মোবাইলের দোকান রয়েছে। অনিক বলেন, ফেসবুকে প্রথমে সুপুত্তো ওরফে ওমের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। এরপর মোবাইলে কথা-বার্তা। অনিক খুববেশি লেখাপাড়া না জানলেও ভাঙা ভাঙা ইংলিশে কথা বলতে পারেন।

অনিক জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে তিনি প্রেমের টানে সুপুত্তো বাংলাদেশে ছুটে আসেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান অনিক। এতদিন যার সঙ্গে পরিচয় ছিল ভার্চ্যুয়াল জগতে, বাস্তবে তাকে দেখে আরও ভালো লেগে যায়।

সুপুত্তো বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সে অনিকের বাড়িতে আসে। এরপর অনিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, সে যাত্রায় অনিকের পরিবারের লোকজন বিয়ের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। মাত্র পাঁচ দিনের ভিসা নিয়ে আসায় ‘না’ সূচক উত্তর নিয়েই বাড়ি ফিরে যাই। এ মাসের প্রথম দিকে আবার তিনি ছুটে আসেন, পারিবারিক সম্মতি আদায়ে সফলও হন। তবে বিষয়টা খুব সহজ ছিল না। ওমের পরিবার রাজি থাকলেও অনিকের পরিবারের বিয়েতে ছিল আপত্তি। অবশেষে সকল বাধা অতিক্রম করতে পেরে খুশি তারা।

অনিক খান বলেন, সুপুত্তো আমাকে একটা ভালো মোবাইল ফোন সেট উপহার দিয়েছে। দুজনের ফোনেই সব সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে। আমরা ভিডিও কল করে দীর্ঘ সময় কথা বলি। এভাবেই পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেছি।

অনিক বলেন  ‘ও (সুপুত্তো) আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি ওর সঙ্গে সারা জীবন থাকতে চাই।’

সুপুত্তো বলেন, থাইল্যান্ডের সমাজে বহু বিবাহ একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এটা পছন্দ করি না। তাই বিয়ে করছিলাম না। হঠাৎ করে ফেসবুকে বাংলাদেশের অনিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওর সরলতা আমাকে মুগ্ধ করে। ধীরে ধীরে ওর প্রতি আমার আস্থা জন্মে। আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওকে আপন করে নেয়ার জন্য বারবার এ দেশে ছুটে এসেছি। এবার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বিয়ে করে আমি এখন দারুণ সুখী।

ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠা প্রসঙ্গে ৩৬ বছর বয়সী সুপুত্তো বলেন, পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে ব্যাংকে চাকরি করতেন। সেটা ছেড়ে দিয়ে এখন ফাস্ট ফুডের ব্যবসা করেন। দোকানে বসে ফেসবুক ব্রাউজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের ২২ বছরের তরুণ অনিক খানকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব (ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট) পাঠান। প্রথমে দুজনের মধ্যে ফেসবুকে কথা হতো। পরে ফোনে কথাবার্তা চলতে থাকে। পরস্পরের প্রেমে পড়ে যান তারা।

অনিকের বাবা আজাদ হোসেন বলেন, মেয়েটি খুব ভালো। আমাদের আপন করে নিয়েছে। আমরা গরিব, শিক্ষিতও না। কিন্তু এ নিয়ে ওর কোনো কষ্ট নেই।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.