সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জকিগঞ্জে মহান বিজয় দিবস উদযাপন  » «   প্রিন্সিপাল আল্লামা বালাউটি ছাহেব বাড়ির সন্নিকটে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) মাহফিল  » «   বীর মুক্তিযোদ্ধা নোমান উদ্দিনের কিছু বীরত্ত্ব গাঁথা স্মৃতি।  » «   জকিগঞ্জে বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মীদের নিয়ে সভা করলেন মাসুক উদ্দিন আহমদ  » «   নব নির্মিত জকিগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা জানানো হবে  » «   মহান দিবস উপলক্ষে জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক কর্মসূচি  » «   মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জকিগঞ্জ বার্তার শুভেচ্ছা  » «   জকিগঞ্জে ধানের শীষ সমর্থক ফ্রন্ট গঠন  » «   জকিগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে আজ সন্ধ্যায় নাটক ও সংগীতানুষ্ঠান  » «   যথাযথ মর্যাদায় জকিগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ  » «  

প্রশাসন ক্যাডারের মতো ‘সুপার নিউমারারি’ পদোন্নতি চায় পুলিশ

প্রশাসন ক্যাডারের মতো সুপার নিউমারারি পদোন্নতি চায় পুলিশ। পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত আইজি পদমর্যাদার মোট ৪৯৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে সুপার নিউমারারি পদে পদোন্নতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাত সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। যদিও সেই কমিটি এখনও এ বিষয়ে কোনও প্রতিবেদন দেয়নি।

পুলিশের পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মকর্তারা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সামনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে বিষয়টি ঝুঁলে যাবে। কারণ সেসময় সবকিছু করতে হবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী। এজন্য তারা নির্বাচনকালীন সরকারের আগেই বিষয়টির সুরাহা চান।

গত ৪ জুলাই পুলিশ সদর দফতরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ওঅ্যান্ডএম) এস এম আখতারুজ্জামানের সই করা চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেন-দরবার চলছে পুলিশের।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

সুপার নিউমারারি পদোন্নতি সংক্রান্ত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে। ক্যাডার সার্ভিসে বিসিএস প্রশাসন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন্দ্রীয় ক্যাডার হিসেবে বিবেচিত। প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে পুলিশ ক্যাডারের সম্পর্ক ঐতিহ্যগতভাবে খুবই ঘনিষ্ঠ। দুটি বিভাগই সরকারকে মাঠ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করে। প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোর তুলনা করলে পুলিশ ক্যাডারের তদারকি পর্যায়ে পদের অপ্রতুলতা খুব সহজে দৃষ্টিগোচর হয়।

চিঠিতে প্রশাসন এবং পুলিশ ক্যাডারের সাংগঠনিক কাঠামোর তুলনা করে বলা হয়, গ্রেড-১ পদমর্যাদার সচিব পদে ৮৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৬৭টি মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে। সুপার নিউমারারিসহ সচিব পদে ৬৭ জন কর্মরত রয়েছেন। সেখানে গ্রেড-১ পদমর্যাদার অতিরিক্ত আইজিপি পদে মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে দুটি। প্রশাসন ক্যাডারে কর্মরত পদ সংখ্যার অনুপাতে পুলিশের পদ ৩৮টি। গ্রেড-২ পদমর্যাদার অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ১২১টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৯০টি মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে। কিন্তু এই পদে ৩৭৪ জন কর্মরত রয়েছেন, এর মধ্যে ২৮৪টি সুপার নিউমারারি পদ। পুলিশে গ্রেড-২ পদমর্যাদার মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে ১৩টি। প্রশাসন ক্যাডারে কর্মরত পদ সংখ্যার অনুপাতে পুলিশের পদ ২২৭টি।

গ্রে-১ ও গ্রেড-২ ছাড়াও চিঠিতে গ্রেড-২-এর তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রসাশন ছাড়াও অন্যান্য ক্যাডার সড়ক ও জনপদ, ফরেন সার্ভিস, শুল্ক ও আবগারি, কর ইত্যাদির তুলনায়ও বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চতর পদে ব্যাপক ঘাটতি তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের নেতৃত্ব পর্যায়ে কর্মস্পৃহা, মনোবল, মর্যাদা, শৃঙ্খলা এবং গতিশীলতা নিশ্চিত করতে উচ্চতর পদের আনুপাতিক ও তুলনামূলক অপর্যাপ্ততা একটি বড় অন্তরায়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাচের অনেকের পদবঞ্চিত থাকার খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ৪৯৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে সুপার নিউমারারি বা ইনসিটু পদোন্নতি করার ক্ষেত্রে সরকারের (সম্ভাব্য) মাত্র চার লাখ ৯৮ হাজার ৪৮০ টাকা আর্থিক সংশ্লেষের প্রয়োজন হবে।

পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র জানায়, সুপার নিউমারারি বা ইনসিটু পদোন্নতির জন্য গত কয়েক মাস ধরেই কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ বৈঠক করছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টির মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বিষয়টি এখনও আটকে আছে।

পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রত্যাশিত ২৫ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা বলেন, তাদের চাকরির বয়স প্রায় ১৩ বছর হতে চলছে। তাদের একই ব্যাচের অন্যান্য ক্যাডারের সহকর্মীরা প্রত্যাশিত পদোন্নতি পেয়ে গেছেন। শুধু পুলিশের বেলায় পদোন্নতি নিয়ে নানারকম জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যে এই পদোন্নতি না হলে নির্বাচনের কারণে আরও অন্তত ছয় মাস পিছিয়ে যাবে। যথাসময়ে পদোন্নতি না পেলে কর্মস্পৃহা কমে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেই বিষয়টির সুরাহা হবে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবও বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরবেন। অক্টোবরের প্রথমদিকেই পুলিশ ক্যাডারে সুপার নিউমারারি পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। তবে পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী ৪৯৫ জন পদোন্নতি না পেলেও বেশির ভাগেরই পদোন্নতি হবে বলে সূত্র জানায়।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.