বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
হাফছা কলেজ ছাত্রী তানিয়া আক্তার ঝুমার বিষ পানে মৃত্যু  » «   প্রবাসীর মেয়ে ইসমত আরা বিসিএস ক্যাডার হতে চায়  » «   জকিগঞ্জ পৌর এলাকায় গ্যাসের সন্ধান; বাপেক্স কর্মকর্তাদের স্থান পরিদর্শন  » «   জকিগঞ্জে অমর একুশে বই মেলা শুরু  » «   হাজী আব্দুল আজিজ তাপাদার গার্লস একাডেমির শিক্ষা সফর  » «   বালাউট ছাহেব বাড়ি সংলগ্ন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন  » «   আলোর দিশারী সংস্থার পুরস্কার প্রদান ও সৌর বিদ্যুৎ লাইটের উদ্বোধন  » «   ২০১৯ সালের ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারী হাড়িকান্দি মাদ্রাসার শতবার্ষিকী পালন করা হবে  » «   ইছামতি কামিল মাদরাসার ৭২তম বার্ষিক মহাসম্মেলন আগামীকাল রবিবার  » «   নান্দিশ্রী ছাত্র কল্যাণ সংস্থার আত্মপ্রকাশ  » «  

প্রবাসীদের চাকরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন আয়েশি জীবনযাপনে অভ্যস্ত উপসাগরীয় দেশগুলোকে কিছুটা হলেও অর্থনীতির রাশ টেনে ধরতে হয় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পড়ে যাওয়ায়। কয়েক বছরের এ পতনে দেশগুলোতে বাজেট ঘাটতি ও অর্থনৈতিক মন্থরতা তৈরি হওয়ায় বেড়েছে বেকারত্ব। ফলে বৈচিত্র্যায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশগুলো। যার বড় চাপটি এসে পড়ে দেশগুলোতে জীবিকা নির্বাহ করা লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের ওপর।

বাংলাদেশিসহ সবচেয়ে বেশি প্রবাসী রয়েছে বর্তমানে সৌদি আরবে; কিন্তু এ দেশটির পাশাপাশি ওমান এবং কুয়েত সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন খাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ সীমিত করেছে। বাকি দেশগুলোও সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে স্থানীয় নিয়োগ উৎসাহিত করছে। এ ছাড়া লিবিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও সিরিয়া এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত। অথচ এ দেশগুলোও একসময় বিদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎস ছিল।

সৌদি আরবের বিভিন্ন খাতে বর্তমানে ১০ লাখ বাংলাদেশিসহ ১ কোটি ৭৯ লাখ প্রবাসী কাজ করছে। অর্থনীতি শক্তিশালী করতে গত বছর ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করে দেশটি। এতে বলা হয়, সৌদি আরবে বর্তমানে খুচরা খাতে কর্মীর সংখ্যা ১৫ লাখ। এর মধ্যে মাত্র ৩ লাখ সৌদি নাগরিক। আগামী ২০২০ সাল নাগাদ এ খাতে স্থানীয় কর্মী করা হবে ১০ লাখ।

সেই লক্ষ্য পূরণে গত বছরের ২১ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনে সৌদি সরকার জানিয়ে দেয়, এখন থেকে শপিংমলগুলোতে প্রবাসীরা চাকরি করতে পারবে না। এর আগে নিষিদ্ধ করা হয়, মোবাইল ফোন, বোরকার দোকান, রেন্ট-এ কার, হিসাবরক্ষণ, নারীদের তৈরি পোশাকের দোকানে কাজ। গত মাসে নতুন করে ১২ ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবাসীদের কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়।

এ প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে—ঘড়ির দোকান, চশমার দোকান, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিকস, গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি, গৃহ নির্মাণ সামগ্রী, কার্পেট, অটোমোবাইল, হোম ফার্নিচার, তৈরি অফিস সামগ্রী, তৈরি পোশাক বিক্রি, শিশু ও পুরুষের জামাকাপড়, গৃহস্থালি পণ্য এবং পেস্ট্রি সোপ ইত্যাদি। এতে বেকার হয়ে পড়ছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ শ্রমিক। সৌদি আরবের অর্থনীতি ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ আলী-তুওয়াইজিরি জানান, তাঁর মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কাজ হচ্ছে বিদেশি শ্রমিকের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনা।

টাইমস অব ওমানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ওমান সরকার তাদের দেশে ৮৭টি পেশায় বিদেশিদের ভিসা প্রদান সাময়িক স্থগিত করেছে। এ আদেশ আপাতত ছয় মাসের জন্য দেওয়া হয়েছে। দেশটি স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পেশার মধ্যে রয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি খাত, হিসাব ও অর্থ, বিপণন ও বিক্রি, প্রশাসন ও মানবসম্পদ, বীমা, মিডিয়া, স্বাস্থ্যসেবা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা।

অন্যদিকে কুয়েত সরকার সরাসরি কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা না করলেও দেশটির সরকারি চাকরিতে ক্রমান্বয়ে বিদেশিদের সরিয়ে স্থানীয়দের স্থলাভিষিক্ত করা হচ্ছে। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি করা বেশসংখ্যক প্রবাসীকে বলা হবে বিধি অনুযায়ী তাদের চাকরি থেকে বিদায় নিতে। সে স্থান পূরণ করা হবে দেশের নাগরিকদের দিয়ে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সৌদি আরবে বর্তমানে বেকারত্বের হার ১২.৮ শতাংশ, ওমানে ১২ শতাংশ, এ ছাড়া কুয়েতে ২.২ শতাংশ। বিপুলসংখ্যক বেকারকে চাকরির সুযোগ করে দিতে দেশগুলো সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে নানাভাবেই স্থানীয়দের কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করছে। অনেকের মতে, এ দেশগুলোর এসব পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশিসহ লাখ লাখ প্রবাসী চাকরি হারাবে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণত যেসব খাতে বিদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ নিষিদ্ধ করছে সেসব খাতে বাংলাদেশ শ্রমিক কমই আছে। বিশেষ করে নির্মাণ খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। তবে তাদের এ সিদ্ধান্তে দোকানসহ ও ভালোমানের চাকরিতে থাকা কিছুসংখ্যক বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি খুব বেশিসংখ্যক না হলেও বাংলাদেশ সরকার সুসম্পর্ক এবং দক্ষ কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশিদের সহযোগিতা করতে পারে।’

তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন পেশায় প্রবাসীদের বিতাড়িত করতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে এসব পদক্ষেপ কাজে লাগাতে পারছে না। কারণ স্থানীয়রা এখনো সব কাজের জন্য প্রস্তুত নয়। ফলে আমাদের খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে অবশ্যই বড় শ্রমবাজার হিসেবে এ বিষয়ে আমাদের সরকারকে নজরে রাখতে হবে।’ গাল্ফ নিউজ, সৌদি গেজেট, আরব নিউজ।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.