শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
২২টি গ্রামে বৃহত্তর ইছামতি কালিগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা’র ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   সোনাপুর-সুপ্রাকান্দি ডেভল্যাপমেন্ট সোসাইটির ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   কাতারে জকিগঞ্জের আব্দুল মুহিম মিনুর মৃত্যু  » «   জকিগঞ্জে ১৩০বোতল অফিসার চয়েজসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   শাহ মোঃ ফয়ছল চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন  » «   বৃহত্তর আটগ্রাম প্রবাসী সমাজ কল্যাণ পরিষদের ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   প্রতিবন্ধী ও দরিদ্রদের মধ্যে স্পেন প্রবাসী মাসহুদের ইফতার  » «   ইউএনও শহীদুল হকের ইন্তেকালে এইচটিএ সেবা ফাউন্ডেশনের শোক  » «   জকিগঞ্জে এমপি প্রার্থী এম জাকির হোসাইনের সমর্থনে ইফতার  » «   জকিগঞ্জের সাবেক ইউএনও শহীদুল হকের দাফন  » «  

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৪ বিচ্ছিন্ন রাঙামাটিতে জ্বালানি সংকট, খাবারের দাম চড়া

0460823daea4aaf8ead80b0e4d0e13d6-5942f9dad5719

রাঙামাটি শহরের কল্যাণপুর এলাকার ‘তান্যাবি এন্টারপ্রাইজ’ পেট্রলপাম্পের সামনে সাদা কাগজে বড় করে লেখা ‘ডিজেল নেই’। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় এই পেট্রলপাম্পের অকটেন ভাউজারের (পাইপের মাধ্যমে গাড়িতে অকটেন দেওয়ার ব্যবস্থা) সামনে প্লাস্টিকের বোতল ও ছোট গ্যালন হাতে অন্তত ২৫ ব্যক্তি লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাম্পের কর্মীরা জানান, একজনের কাছে তিন লিটারের বেশি অকটেন বা পেট্রল বিক্রি করছেন না তাঁরা।
বেলা একটার পর এই পেট্রলপাম্পসহ রাঙামাটি শহরের চারটি পেট্রলপাম্পেই তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাম্পমালিকদের দাবি, তেল ফুরিয়ে গেছে। অবশ্য জ্বালানি তেলের সংকটের সুযোগে বিকেলে শহরের কিছু জায়গায় খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রল ও অকটেন বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। অথচ শহরের পাম্পে সকালে অকটেন ও পেট্রল বিক্রি হয়েছে প্রতি লিটার ৮৯ টাকায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত সোমবার রাঙামাটিতে সর্বশেষ জ্বালানি তেলবাহী গাড়ি আসে। মঙ্গলবার ভোর থেকে পাহাড়ধসের কারণে এই জেলার সঙ্গে দেশের অন্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রাঙামাটি শহরে জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে এলপি গ্যাস, কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সবজিসহ খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। এটা ঠিক হতে বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে। এ কারণে পণ্য আসছে না। চারটি স্টিমারযোগে প্রয়োজনীয় পণ্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংকটের সুযোগ নিয়ে দাম বাড়ানো হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।
পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত রাঙামাটির বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি। সোমবার রাত থেকে অন্ধকারে ডুবে আছে গোটা শহর। তেলের অভাবে জেনারেটরগুলোও ঠিকমতো চলছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কাজ। ১০০ শয্যার রাঙামাটি সদর হাসপাতালে রোগীর কমতি নেই। অন্ধকারেই রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুতের মতো পানিও না থাকায় হাসপাতালের রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মং কেউচিং মারমা বলেন, দুই রাত জেনারেটর দিয়ে কোনোভাবে পার করা গেছে। বুধবার রাত থেকে তেলের অভাবে জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় ছোটখাটো যেসব অস্ত্রোপচার করা হতো, সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিদ্যুতের অভাবে মুঠোফোনে চার্জ দিতে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। কিছু কিছু দোকানে জেনারেটর চালিয়ে চার্জ দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। রাম চাকমা নামের এক যুবক বলেন, একটি দোকানে জেনারেটরে কিছুক্ষণ ফোনে চার্জ দিতে এলে তাঁর কাছ থেকে দোকানি ৩০ টাকা নিয়েছেন।
পিডিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দুলাল হোসেন বলেন, যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা অকল্পনীয়। এখনো বিদ্যুতের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। গত রাত নয়টায় শহরের কিছু এলাকায় সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের বোতলপ্রতি দামও তিন দিনে ৮৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ১০০ টাকা হয়েছে। রানা চাকমা নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এভাবে যদি রাস্তা বন্ধ থাকে তাহলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও বাড়বে। তখন না খেয়ে মানুষ মরবে।
জ্বালানিসংকটের কারণে যানবাহন চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে। শহরে গুটি কয়েক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন নেই। মো. লিয়াকত নামের এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘তেলের দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। কীভাবে গাড়ি চালাই।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের ১০৯টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব সড়কের ৩৩টি জায়গায় বড় আকারে ভেঙেছে।
সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু মুছা বলেন, কবে নাগাদ রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক চালু করা যাবে, সেটা বলা কঠিন।
এদিকে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটেও পড়েছে রাঙামাটির মানুষ। শহরের বনরূপা এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যুতের অভাবে পানি তোলা যাচ্ছে না। পানি কিনে চলতে হচ্ছে। লোকজন দিয়ে হ্রদ থেকেও পানি সংগ্রহ করছে কেউ কেউ।
রাঙামাটিতে যোগাযোগ বন্ধের প্রভাব পড়েছে ভোগ্যপণ্য ও কাঁচাবাজারে। হু হু করে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। গতকাল বনরূপা বাজারে আলু বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকায়। কাঁকরোল কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙে ৭০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, ডিমের ডজন ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি নিয়ে বসেছেন মাত্র গুটি কয়েক দোকানি। তাও কাঁকরোল, পটোল ও শসা ছাড়া আর কিছু নেই।
বাজারে আসা এক চাকমা তরুণী জানান, তিন দিন আগেও আলু ১৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাঁকরোল ও পটোল ৩০ টাকায়। কিন্তু এখন দ্বিগুণের বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন দোকানিরা। বাজারে সব সবজিও পাওয়া যাচ্ছে না।
গতকাল দুপুরে রাঙামাটির বনরূপা বাজারে পাইকারি ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী মিন্টু চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘গত রোববারের পর আর কোনো পণ্য আনতে পারিনি। তবে পাইকারি দাম আগের মতো রয়েছে। খুচরা বাজারে হয়তো কিছু কিছু জিনিসের দাম বাড়ছে।’
একই বাজারের পাইকারি দোকান রাম ভান্ডারের মালিক বিশু চৌধুরী বলেন, রোববার চট্টগ্রাম থেকে মালামাল কিনেছেন তিনি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ওই পণ্য ট্রাকে তুলতে পারেননি। এরপর থেকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের হাতে পর্যাপ্ত পণ্য নেই বলে তিনি জানান। (প্রথম আলো)

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.