শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতির কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের সাথে জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার মতবিনিময় সভা ও কমিটি পুনঃগঠন অনুষ্ঠিত  » «   ইকবাল আহমদ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনোনীত  » «   জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত  » «   ফের বরখাস্ত উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ  » «   জকিগঞ্জে ৪০৫০পরিবার মাসে ৩০কেজি চাল-নগদ ৫০০টাকা পাবেন  » «   জেলা ছাত্রদল সদস্য শাহানের সৌদি যাত্রা উপলক্ষ্যে বিদায় সংবর্ধনা  » «   জকিগঞ্জ আদালতের সহায়তায় ২২বছর পর পরিবারের কাছে ফিরলেন দুই বৃদ্ধ  » «   ফয়ছলের পিতার ইন্তেকালে জকিগঞ্জ বার্তা সম্পাদক এনামুল হক মুন্নার শোক  » «   প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ  » «   বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জকিগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত  » «  

নিশ্চিত মৃত্যু ভেবে পরিচয়পত্র হাতে নেন আতিয়ার বাসিন্দারা

222220170327133532

আতিয়া মহলের বাসিন্দারা ভেবেছিলেন, তারা আর বাঁচবেন না। সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করার পর তারা খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা ভেবেছিলেন জঙ্গিরা তাদের নিশ্চিত মেরে ফেলবে। মৃত্যুর পরে আত্মীয়-স্বজন যেন তাদের লাশ সনাক্ত করতে পারেন, তাই তারা পরিচয়পত্র হাতে নেন।

সিলেটের শিববাড়িতে আতিয়া মহল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও সেখানে আর ফিরতে চান না দীর্ঘদিন ভবনটিতে বসবাস করা বাসিন্দারা। গেল বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ওই বাড়িতে আটকে ছিলেন।

ভবনটির বাসিন্দা শিরিন আক্তার জানান, পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলেও আর কখনও আতিয়া মহলে ফিরতে চান না তিনি। প্রতি মূহুর্তে মৃত্যুর শঙ্কায় ৩০ ঘন্টা কাটিয়ে আসার পর ওই বাড়িতে আর দৈনন্দিন জীবন-যাপন করা সম্ভব না।

তিনি জানান, গোলগুলির শব্দে তারা ধরে নিয়েছিলেন, এ ভবন থেকে আর জীবিত বের হতে পারবেন না তারা। মৃতদেহের পরিচয় যেন নিশ্চিত হতে পারে সবাই, সেজন্য জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়েছিলেন পুরোটা সময়। কিন্তু শিরিন সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে যান, যখন তার স্কুল পড়ুয়া শিশুকন্যা জানতে চায়, মা আমার তো পরিচয়পত্র নাই, আমার কি হবে? আমাকে কি মেরে ফেলবে?

শিরিন জানিয়েছেন, নতুন ভাড়টিয়াদের তেমন একটা চিনতেন না তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন মাইকে মর্জিনা বেগমকে বের হয়ে আসতে বলছিল, তারা বুঝতে পারছিলেন না কাকে ডাকা হচ্ছে।

একই কথা বলছেন ওই বাড়ির পঞ্চম তলার আরেক বাসিন্দা আনিসুর রহমান। আটকে থাকার পুরো সময়টাতে ফ্ল্যাটের মেঝেতে লেপ আর তোষক ফেলে শুয়েছিলেন রহমান ও তার স্ত্রী। তারা ভেবেছিলেন, অভিযানে জঙ্গিদের সঙ্গে তারাও মারা পড়বেন।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে প্রতি মূহুর্তের গোলাগুলির শব্দে ভেবেছি মৃত্যু আমার দরজায় কড়া নাড়ছে। মৃত্যু আসন্ন জেনে প্রায় সব আত্মীয়কে ফোন করে কথা বলে নিয়েছিলেন তিনি।

শনিবার সকাল ১০-১১টার দিকে, যখন তার দরজায় টোকা পড়ে, উকি দিয়ে দেখলেন দরজায় সেনাসদস্যরা। ইশারায় চুপ থাকতে বলে একে তাদের বের করে নিয়ে আসে সেনা সদস্যরা। কিন্তু বের হওয়ার পরও আতংক কাটেনি রহমানের। স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেছেন সিলেট শহরে। তিনিও আর কখনও ফিরতে চান না আতিয়া মহলে। সব স্বাভাবিক হয়ে গেলেও না।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.