বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বৃহস্পতিবার ত্রাণ নিয়ে জকিগঞ্জ থেকে টেকনাফ যাত্রা  » «   জকিগঞ্জ-শেওলা-সিলেট সড়কে গাছ রোপন করবে সেতুবন্ধন  » «   আলোর ঝলক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের শেষ সময় ৭অক্টোবর  » «   জকিগঞ্জ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অসহায় রোহিঙ্গাদেরকে সহায়তা প্রদান  » «   ঢাবি ভর্তি মেধা তালিকায় জকিগঞ্জের ফখরুল  » «   জকিগঞ্জের ইউএনও এবং এ্যাসিল্যান্ডকে সেতুবন্ধনের বিদায় সংবর্ধনা  » «   জকিগঞ্জের ইউএনও এবং এসিল্যান্ড বদলী  » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনের ২য় সাময়িক পরিক্ষার ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন  » «   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরিক্ষার মেধাতালিকায় জকিগঞ্জের ফখরুল  » «   পিল্লাকান্দির আব্দুস ছালাম চৌধুরী অসুস্থ; দোয়া কামনা  » «  

নিশ্চিত মৃত্যু ভেবে পরিচয়পত্র হাতে নেন আতিয়ার বাসিন্দারা

222220170327133532

আতিয়া মহলের বাসিন্দারা ভেবেছিলেন, তারা আর বাঁচবেন না। সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করার পর তারা খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা ভেবেছিলেন জঙ্গিরা তাদের নিশ্চিত মেরে ফেলবে। মৃত্যুর পরে আত্মীয়-স্বজন যেন তাদের লাশ সনাক্ত করতে পারেন, তাই তারা পরিচয়পত্র হাতে নেন।

সিলেটের শিববাড়িতে আতিয়া মহল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও সেখানে আর ফিরতে চান না দীর্ঘদিন ভবনটিতে বসবাস করা বাসিন্দারা। গেল বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ওই বাড়িতে আটকে ছিলেন।

ভবনটির বাসিন্দা শিরিন আক্তার জানান, পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলেও আর কখনও আতিয়া মহলে ফিরতে চান না তিনি। প্রতি মূহুর্তে মৃত্যুর শঙ্কায় ৩০ ঘন্টা কাটিয়ে আসার পর ওই বাড়িতে আর দৈনন্দিন জীবন-যাপন করা সম্ভব না।

তিনি জানান, গোলগুলির শব্দে তারা ধরে নিয়েছিলেন, এ ভবন থেকে আর জীবিত বের হতে পারবেন না তারা। মৃতদেহের পরিচয় যেন নিশ্চিত হতে পারে সবাই, সেজন্য জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়েছিলেন পুরোটা সময়। কিন্তু শিরিন সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে যান, যখন তার স্কুল পড়ুয়া শিশুকন্যা জানতে চায়, মা আমার তো পরিচয়পত্র নাই, আমার কি হবে? আমাকে কি মেরে ফেলবে?

শিরিন জানিয়েছেন, নতুন ভাড়টিয়াদের তেমন একটা চিনতেন না তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন মাইকে মর্জিনা বেগমকে বের হয়ে আসতে বলছিল, তারা বুঝতে পারছিলেন না কাকে ডাকা হচ্ছে।

একই কথা বলছেন ওই বাড়ির পঞ্চম তলার আরেক বাসিন্দা আনিসুর রহমান। আটকে থাকার পুরো সময়টাতে ফ্ল্যাটের মেঝেতে লেপ আর তোষক ফেলে শুয়েছিলেন রহমান ও তার স্ত্রী। তারা ভেবেছিলেন, অভিযানে জঙ্গিদের সঙ্গে তারাও মারা পড়বেন।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে প্রতি মূহুর্তের গোলাগুলির শব্দে ভেবেছি মৃত্যু আমার দরজায় কড়া নাড়ছে। মৃত্যু আসন্ন জেনে প্রায় সব আত্মীয়কে ফোন করে কথা বলে নিয়েছিলেন তিনি।

শনিবার সকাল ১০-১১টার দিকে, যখন তার দরজায় টোকা পড়ে, উকি দিয়ে দেখলেন দরজায় সেনাসদস্যরা। ইশারায় চুপ থাকতে বলে একে তাদের বের করে নিয়ে আসে সেনা সদস্যরা। কিন্তু বের হওয়ার পরও আতংক কাটেনি রহমানের। স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেছেন সিলেট শহরে। তিনিও আর কখনও ফিরতে চান না আতিয়া মহলে। সব স্বাভাবিক হয়ে গেলেও না।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.