মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জকিগঞ্জ কানাইঘাট আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন মামুনুর রশীদ  » «   বারহাল ছাত্র পরিষদের এক দশক পূর্তীতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচী আগামীকাল  » «   শাব্বির আহমদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ  » «   মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আমেরিকা প্রবাসী শরীফ লস্কর  » «   জকিগঞ্জ কানাইঘাট আসনে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন ফরম জমা দেন শরীফ  » «   সিলেট-৫ থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনলেন পাপলু  » «   জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে অ্যাডিশনাল এসপি এবং ওসির মতবিনিময়  » «   জকিগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা  » «   আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন হাফিজ মজুমদার  » «   জকিগঞ্জের হানিগ্রাম প্রবাসী ঐক্য পরিষদের কমিটি গঠন  » «  

নিরব প্রতিবাদ॥ ম.জ.ছালেহীন

14354950_327771447571282_7967767310661912183_n

 শিরোনাম দেখে অনেকেই বিভিন্ন চিন্তা-চেতনা শুরু করবেন। আসলে বিষয়টা সে রকম নয়। শিরোনামটি আমার মামণি সুষমার নিকট থেকে শুনা একটি গল্পের! আমাকে যারা জানেন কিংবা চিনেন তারা চোখ কপালে তুলে বলবেন, আরে সুষমা কে? হ্যা, তাইতো সুষমা কে? সুষমা হচ্ছে একটি মেয়ে যে আমাকে বাপী বলে ডাকে; আমিও তাকে ডাকি মামণি। সে আমার রক্তের কেউ নয়; কিন্তু যেন আত্মার আত্মীয়॥ আপনারা হয়তো ভাবছেন এ কি প্যাচাল শুরু করল! শুধু নিজের কথা বলে যাচ্ছে! আসলে ঘটনাটি ঘটে আজ সকালে! হিজরী নববর্ষের কারণে স্কুল ছুটি থাকায় বাড়িতে ভালো লাগছে না বলে বাড়ির বাহিরে পা রেখেছিলাম। আর ঠিক তখনি সুষমা বাপী বাপী ডেকে বুকে জড়িয়ে ধরে অবিরাম কাঁদছিল। ভাবলাম অনেকদিন পর বাপী ও মেয়ের মিলন হয়েছে বলে হয়তো সুষমা কাঁদছে। কিন্তু পরক্ষণে যখন হাসি হাসি মুখ করে বলল,” জানো বার্পী,আজ কিন্তু তোমাকে ছাড়ছি না। অনেক কথা জমা রয়েছে, সবকিছু শুনতে হবে আজ। না করতে পারবে না।” আমি বললাম পাগলী মেয়ে আজ আমার অনেক কাজ। অন্যদিন গল্প করব। কিন্তু সুষমা নাছোরবান্দা। কি আর করা! বাপী আর মামণি মিলে পাশের গাছতলায় বসে হাসি-আনন্দে অনেক গল্প করলাম। হঠাৎ দেখি আমার মামণি সুষমা অঝোর ধারায় কাঁদছে। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করতেই যা বলল তাই আজকের শিরোনামঃনিরব প্রতিবাদ॥

তখন সে যা বলেছিল তার সারমর্ম হলোঃ সম্প্রতি তাদের এলাকায় জনৈক প্রতিষ্টান ঐ এলাকার সকল স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। কিন্তু অজানা এক কারণে ঐ দিন ফলাফল দেওয়া হয় নি। ঐ দিন রাত্রে কমিটির পক্ষে সুষমাকে জানানো হয় সে প্রথম হয়েছে। আনন্দে সে তার পরিচিত সবাইকে জানায়। কিন্তু বিধিবাম! পরদিন পুরষ্কার নিতে এসে দেখে সে তৃতীয়। প্রতিকারের জন্য বললে কেউ সদুত্তর দিতে পারে নি বরং বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সুষমা যখন দেখল তার যথাযথ মূল্যায়ণ হয়নি তখন সে পুরষ্কার না নিয়ে চোখের দুফোঁটা অশ্রু বিসর্জন দিয়ে নিরবে নিভৃতে বাড়ি ফিরে! আমাকে জানায় এটা নাকি তার নিরব প্রতিবাদ॥ কেননা এই দেশে ঐ সকল নীতিবর্জিত মানবরূপী দুর্ণীতিবাজদের বিচার কখনো হবে না! গল্প শেষে যখন আমরা একে অন্যের নিকট থেকে বিদায় গ্রহণ করি তখন আমার মামণি সুষমার চোখের জলের মধ্যে যে ঘৃণার প্রকাশ দেখেছি তখন আমি নিজেকে এই ধরণীর সভ্য সমাজের মানুষ ভাবতে লজ্জাবোধ করেছি॥ প্রিয় পাঠকবর্গঃ আমি একজন বাপী হিসেবে আমার মামণি সুষমার অশ্রু নিবারণ করতে পারি নি; এমন কি অশ্রু নিবারণের কোন পথও বাতলে দিতে পারি নি! এ লজ্জা রাখি কোথায়? আমার এ লজ্জা নিবারণের কোন টোটকা যদি আপনাদের নিকট থাকে; তবে দয়া করে জানাবেন বৈকি॥

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.