বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বারহালে আওয়ামীলীগ এর মতবিনিময় সভায় আলহাজ্ব মাসুক উদ্দিন আহমদ  » «   বারহা‌লে দি স্টু‌ডেন্ট ডে‌ভেলাপ‌মেন্ট ক্লাব(চক বুরহানপুর)এর ক‌মি‌টি গঠন   » «   জেলা পর্যায়ে মেধা বৃত্তি পেলেন জকিগঞ্জের ইছামতি কামিল মাদ্রাসার নয় মেধাবী শিক্ষার্থী  » «   জকিগঞ্জ উপজেলা উন্নয়ন পরিষদ ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আলী রেজার পরিবারকে নগদ অর্থ প্রদান  » «   ওসিসি থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই ভয়ংকর নারী প্রতারক পপি আটক  » «   মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন   » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালন  » «   বারহালে মাদক,সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আলোচনা সভা সম্পন্ন  » «   আটগ্রামে স্কুল ছাত্র সাজুর ইন্তেকাল  » «   আটগ্রামে সরকারি গোপাট উন্মুক্ত করতে ইউএনও বরাবরে অভিযোগ  » «  

নতুন বাজেট হবে ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা

আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের আকার চার লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা থেকে চার লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর নির্বাচনী বছর। প্রতিবার যে ধরনের উচ্চাভিলাষী বাজেট দেওয়া হয়, এবার হয়তো তা থাকবে না। বলা যেতে পারে বাজেট উচ্চাভিলাষী হবে না। আগের বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারের বাজেট দেওয়া হবে।’ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় টিআর-কাবিখা বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলেও মত দেন অর্থমন্ত্রী। এটি হবে বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট।

প্রতিবারের ধারাবাহিকতা এবারও বাজেট তৈরির আগে বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল বৈঠক ছিল অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সঙ্গে। গতকালের প্রাক-বাজেট আলোচনায় নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী বাজেট সাজানোর প্রস্তাব করেছেন সংসদ সদস্যরা। সাধারণ জনগণের উপকারে বেশি বেশি উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। এ জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বাড়ানো, স্কুল-কলেজের উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সহজ করা, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাব করেছেন। চালের দাম কমানোর জোর প্রস্তাব করেছেন কয়েকজন এমপি। এ জন্য কৃষকদের প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়ারও সুপারিশ করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের দুর্নীতি বন্ধ, ব্যাংক ব্যবস্থায় সুশাসন, সুদহার কমানোরও পরামর্শ এসেছে। একই সঙ্গে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ব্যবস্থা বন্ধ করে চলতি বাজেটেই থোক বরাদ্দ বাড়ানোরও দাবি করেছেন এমপিরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আপনি (অর্থমন্ত্রী) চালের দাম প্রতি কেজিতে ৪০ টাকার নিচে নামা ঠিক হবে না বলেছেন। কিন্তু আমি এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। চালের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। আমি গ্রামাঞ্চলে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তাদের প্রতি কেজি ধান উত্পাদনে খরচ পড়ে ২০ থেকে ২২ টাকা। মাঝখানে মধ্যস্বত্বভোগী আছে। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার বেশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। বর্তমান শিক্ষার করুণ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য থাকাকালে টাঙ্গাইলে এক কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষককে জিডিপি কী, মূল্যস্ফীতি কী, মুদ্রানীতি কিভাবে প্রণীত হয়—এসব বিষয় জানতে চাইলাম। তিনি আমাকে সদুত্তর দিতে পারেননি। একজন অর্থনীতির শিক্ষকের যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের অবস্থা কেমন হবে, তা সহজেই বোঝা যায়। উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে চাকরির জন্য আবেদন করা এক শিক্ষার্থীকে কলেজ বানান লিখতে বললাম। পারল না। ফুটবল বানানও লিখতে পারল না। এই হলো আমাদের মাস্টার্সের করুণ দশা। আমাদের দেশে বহুজাতিক সংস্থাগুলোতে যারা এমডি ও সিইও হিসেকে দায়িত্ব পালন করে, তাদের সবাই বিদেশি। আমাদের এত বিশ্ববিদ্যালয়। সরকারি ও বেসরকারি। পাস করে সবাই কোথায় যায়।’ শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আলোচনায় বক্তব্য দেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এমপি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট উচ্চাভিলাষী হবে না। ২০১৮ নির্বাচনের বছর। তাই নতুন করে কোনো চ্যালেঞ্জ নেওয়া হবে না। আগের ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেট দেওয়া হবে। বরাদ্দের ক্ষেত্রেও কোনো চমক থাকবে না। মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ছে। এই ধারাবাহিকতা সামনের বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।’

টিআর-কাবিখা বন্ধ করে থোক চান এমপিরা : বৈঠকে উপস্থিত সব সংসদ সদস্যই বলেন, সরকারি অর্থের সবচেয়ে বেশি অপচয় হচ্ছে এ ব্যবস্থায়। এখন কাবিখার বরাদ্দের অর্ধেক ব্যয় করতে হয় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে। কিন্তু জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের সম্প্রসারণের ফলে এ বরাদ্দ ব্যয় করার উপযুক্ত জায়গা নেই। ফলে এমপিরা বাধ্য হয়ে অপ্রয়োজনীয় খাতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করে কাবিখার বরাদ্দ ব্যয় করছেন বলে জানান আব্দুর রাজ্জাক। কুষ্টিয়ার খোকসার এমপি আব্দুর রউফ বলেন, কাবিখা-কাবিটা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া উচিত। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেহেরপুর সদরের এমপি ফরহাদ হোসেনসহ উপস্থিত অন্য এমপিরা কাবিখা ও কাবিটা বন্ধ করার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে ৪০ দিন ও ১০০ দিনের কর্মসূচিও বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন তাঁরা। পাশাপাশি থোক বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন এসব এমপি। তাঁরা বলেন, চলতি বছর এমপিদের থোক বরাদ্দ ছাড়ে অনেক দেরি হয়েছে। ফলে এমপিরা অনেক কাজ করতে পারেননি। আগামীতে নির্বাচন। ফলে ২০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে এলাকার প্রয়োজনীয় উন্নয়ন হবে না। বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে।

সরকারি কাজের মান খারাপ : সরকারি হিসাবসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজেই শত শত কোটি টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে। মাত্র ১০ শতাংশ কাজ অডিট করে এ ধরনের আপত্তি আসছে। এমপি শামসুল হক চৌধুরী বলেন, প্রকল্পে অনিয়ম নিয়ে আইএমইডি প্রতিবেদন দিলেও সংস্থাগুলো আমলে নেয় না। তিনি বলেন, রাস্তায় কার্পেটিং হচ্ছে, এক মাসের মধ্যে উঠে যাচ্ছে।

এমপিদের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য খাত : স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বিস্তর অভিযোগ এমপিদের। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক বলেন, ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে স্বাস্থ্য খাতে দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। হাসপাতালগুলোর মেশিনপত্র নষ্ট থাকে। অনেক জায়গায় হাসপাতাল আছে, জনবল নেই।
কালেরকন্ঠ)

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.