সোমবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জকিগঞ্জসহ সারাদেশে প্রাইমারী দপ্তরী নিয়োগ স্থগিত করলেন মন্ত্রী  » «   শিলচরে বাংলাদেশী বন্দিদের খোঁজ নিলেন ডেপুটি হাই কমিশনার  » «   ইছামতি কামিল মাদ্রাসায় সংবর্ধনা পেলেন ডক্টর আহমদ আল কবির এবং আলহাজ্ব শামীম  » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন  » «   স্বর্ণ পদক’ অর্জন করায় শাহবাগে শিহাব উদ্দিন সংবর্ধিত  » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান বুধবার  » «   বারহালে আওয়ামীলীগ এর মতবিনিময় সভায় আলহাজ্ব মাসুক উদ্দিন আহমদ  » «   বারহা‌লে দি স্টু‌ডেন্ট ডে‌ভেলাপ‌মেন্ট ক্লাব(চক বুরহানপুর)এর ক‌মি‌টি গঠন   » «   জেলা পর্যায়ে মেধা বৃত্তি পেলেন জকিগঞ্জের ইছামতি কামিল মাদ্রাসার নয় মেধাবী শিক্ষার্থী  » «   জকিগঞ্জ উপজেলা উন্নয়ন পরিষদ ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আলী রেজার পরিবারকে নগদ অর্থ প্রদান  » «  

দৈহিক রােগের চিকিৎসার চেয়ে রুহানীর চিকিৎসা বেশি প্রয়োজন; লন্ডনে দীর্ঘ বক্তৃতায় আল্লামা হাবিবুর রহমান

এই দুনিয়ার নিয়ম হলো যখনই কোন মানুষ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয় সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার জন্য চলে যায় । মানুষের দেহে যেমন রোগব্যাধি আছে তেমনি রুহ বা ক্বলবের মধ্যেও রোগব্যাধি আছে । সত্যিকারের মানুষ হতে হলে দৈহিক রোগের চিকিৎসার চেয়ে রুহাণী রোগের চিকিৎসার প্রয়োজন অনেক বেশি।
দুনিয়ার নিয়মে যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা না করলে যেমন শরীরের ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করা যায় না, তেমনি আল্লাহওয়ালা হক্কানি ওলী আল্লাহদের পরামর্শ অনুযায়ী না চললে রুহাণী ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করা যায় না। রুহাণী ব্যাধি থেকে মুক্তি না পেলে গোনাহের কাজ থেকে বাঁচা সম্ভব নয় । আর গোনাহের কাজ থেকে মুক্তি না পেলে জাহান্নাম ছাড়া উপায় নেই। তাই জাহান্নাম থেকে বাঁচতে হলে হক্কানি ওলী আল্লাহদের কাছে গিয়ে রুহাণী ব্যাধির চিকিৎসা তথা আত্মশুদ্ধি করা আমাদের সবার কর্তব্য। শরীরে ব্যাধি হলে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। শরীর দুর্বল হয়ে যায়, বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা অনুভূত হয়, খাওয়ার রুচি থাকে না ইত্যাদি। প্রত্যেক ব্যাধির বিশেষ লক্ষণ আছে। এসব লক্ষণ দেখে যে-কেউ বুঝতে পারে তার শরীর রোগাক্রান্ত হয়েছে। ঠিক সেভাবে ক্বলব বা রুহে ব্যাধি হলেও কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন; নেক আমল করতে ভালো লাগে না, পাপকাজে আনন্দ পায়। এছাড়া লোভ, হিংসা, অহংকার, দুনিয়ার মোহ, কুচিন্তা, দুশ্চিন্তা, কুফর, শিরক, নিফাক ইত্যাদি অন্তরে বাসা বাধে। এসব লক্ষণ দেখা গেলে বুঝতে হবে কলব বা রুহ ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। শরীরে ব্যাধি হলে তা থেকে সুস্থতা লাভ করতে আমাদের চেষ্টার অন্ত থাকে না। এতে যত টাকা খরচ-ই হোক না কেন পরোয়া করি না। এমনকি আমরা আমাদের সর্বস্ব বিক্রি করে হলেও চিকিৎসা করি। কিন্তু খুব দুঃখজনক ব্যাপার হলো, শরীরের ব্যাধির চিকিৎসায় আমরা সচেতন হলেও ক্বলব বা রুহের ব্যাধির চিকিৎসায় আমরা উদাসীন। ব্যাধিগ্রস্ত ক্বলব বা রুহের চিকিৎসা করা জরুরি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয়ই শরীরের ভেতরে একটি গোশতের টুকরো আছে। যদি তা ভালো থাকে তাহলে দেহের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভালো থাকে। আর যদি তা খারাপ হয় হয়, তাহলে অন্য সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খারাপ হয়। সে গোশতের টুকরো হচ্ছে ক্বলব।’ (বোখারি : হাদিস নং ৫২)।

সাহাবাদের অভ্যাস ছিল যখনই ক্বলব বা রুহাণী রোগে আক্রান্ত হতেন সাথে সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে গিয়ে চিকিৎসা করাতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেকের রোগ নির্ণয় করে ঔষধ দিতেন! আমরা হাদিস শরীফ থেকে এর প্রমান খোঁজে পাই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, কোন আ’মল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথা সময়ে নামাজ আদায় করা। আরেকজন জিজ্ঞেস করলেন, কোন আ’মল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন “পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। অন্য আরেকজন জিজ্ঞেস করলেন, কোন আ’মল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ্ (আল্লাহর পথে জিহাদ)। (বুখারি/মুসলিম/আহমাদ)।

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো; প্রশ্ন একটি, উত্তর দাতা একজন, কিন্তু উত্তর তিনটি এবং ভিন্ন । রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন রুহাণী চিকিৎসক, তাই প্রত্যেকের রোগ নির্ণয় করে সঠিক ঔষধ সেবন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

অন্য হাদীসে দেখা যায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের নামাজের পরে বলছেন “আমি সামন দিকে যেমন দেখতে পারি পিছন দিক থেকেও তেমনি দেখতে পারি” তাই তোমার নামাজে কখনো একাগ্রতাহীন হয়োনা। (নও মুসলিম সাহাবাদের এমনটি হতো)। রোগ নির্ণয় করে ঔষধ দেওয়ার সাথে সাথে নামাজে তাদের একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় ।

আরো যে সব আমল করলে আমরা রুহ বা ক্বলবের রোগব্যধি থেকে বাঁচতে পারব তা হলো:
#অবনত মস্তকে সাজদা করা! সাজদার মাধ্যমেই বান্দাহ আল্লাহর কুরবাত লাভ করে। কেয়ামতের দিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাজদায় পড়ে আল্লাহর রাগকে প্রশমিত করবেন।
#বেশি বেশি দুরুধ শরীফ পাঠ করা।
#বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়া।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওয়ারিস বা উত্তরসূরি হলেন আলেম উলামা, হক্বানী ওলী আল্লাহ!! তাই রুহাণী ব্যাধি থেকে থেকে বাঁচতে হলে হক্কানি আল্লাহভীরু ওলী আল্লাহ ও উলামায়ে কেরামের কাছে গিয়ে ক্বলবের ব্যাধির চিকিৎসা তথা আত্মশুদ্ধি করা আমাদের সবার কর্তব্য। আমাদের নসিব ভাল যে আমরা যুগের শ্রেষ্ঠ রুহাণী ডাক্তার আল্লামা সাহেব কিবলাহ ফুলতলী রাহিমাহুল্লাহকে আমাদের মুরশিদ হিসেবে পেয়েছিলাম ।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার মদিনা মসজিদ ও ইসলামী সেন্টার ওল্ডহ্যামে (UK) নসিহত পেশ করতে গিয়ে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন, হাদিস জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা হাবিবুর রহমান সাহেব (মুহাদ্দিস সাহেব কিবলাহ)।

মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত শতশত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উপস্থিতিতে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয় । পরিশেষে দোয়ার মাধ্যমে সভার সমাপনী ঘোষণা করা হয় ।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.