মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জকিগঞ্জে মাছ চুরির অভিযোগে দিপুরামকে কারাদন্ড; এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া

সংবাদ দাতা: জকিগঞ্জে অভয়fশ্রমের মাছ চুরির কথিত অভিযোগ এনে এক মুক্তিযোদ্ধা ও মৎস্যজীবি পরিবারের যুবককে আটকের পর নির্যাতন করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট নিয়ে যান স্থানীয়রা এমনটাই জানিয়েছেন সাজাপ্রাপ্ত যুবকের পরিবার। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নাহিদুল করিম তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। এ ঘটনায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত যুবক পশ্চিম গোটারগ্রামের সোনারাম দাসের ছেলে দিপু রাম দাস (৩৫)।

দিপু বিশ্বাসের স্ত্রী স্মৃতি রানী দাস অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীকে মারধর করে অভয়াশ্রম থেকে মাছ চুরির ভূয়া অভিযোগে সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার। মঙ্গলবার রাতে আমার বাড়ীতে হামলা করেছে। তারা হুমকি দিয়েছে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী খলিল উদ্দিন ও ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মোতলিব বলেন, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে একজন মুক্তিযোদ্ধার নাতিকে কথিত অভিযোগে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। আবার তাদের বাড়ী ঘরে হামলার খবর শুনেছি। যা মোটেও কাম্য নয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্ঠান ঐক্য পরিষদ আহবায়ক বিভাকর দেশমূখ্য ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি সঞ্জয় চন্দ্র নাথ ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় বিশ্বাস ঘটনার সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নাহিদুল করিম জকিগঞ্জ বার্তাকে বলেন মৎস্য সংরক্ষণ আইনে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। সে অভয়াশ্রম থেকে মাছ ধরতো বলে স্বীকার করেছে।চাইলে সাজা কম দেওয়া যেতো এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন এই আইনটির সর্বনিম্ন সাজা হচ্ছে ১বছর। আমিও চেয়েছিলাম, তাকে সাজা কমিয়ে দিতে, আইনের কারণে কিছুই করার ছিল না। এর পরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আপিল করলে আশা করি সাজা কমতে পারে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির গায়ে শীতের কাপড় না থাকায় তার পরিবারকে বলেছি, তারা যেনো কাপড় দেন। আমি চেয়েছিলাম যতটুকু সম্ভব আসামীর প্রতি সদয় ব্যবহার করতে, কিন্তু আইনের কারণে কিছুই করা যায়নি বলে তিনি জানান।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু তাহের চৌধুরী বলেন, সরকার অভয়াশ্রমকে খুব বেশী গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। অভয়াশ্রমকে রক্ষা করতে স্থানীয়ভাবে একটি কমিটি রয়েছে। এ কমিটি অভয়াশ্রমকে দেখাশুনা করেন। যারা অভয়াশ্রমকে দেখাশুনা করেন তারা অভয়াশ্রম থেকে মাছ ধরার অভিযোগে একজনকে আটক করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে অবগত করলে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আটক ব্যক্তিকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান জুলকার নাইন লস্কর বলেন, অভয়াশ্রমের মাছ ধরার অভিযোগে দিপুরাম দাসকে আটক করে ইউপি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। অবশ্য তার সাথে মাছ পাওয়া যায়নি। ইউপি অফিসে দিপু রামসহ কাউকে মারধরও করা হয়নি। আটক করে শুধু উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের হাতে সোর্পদ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অভয়াশ্রমের মাছ ভাগ বাটোয়ারা করে কমিটির লোকজন নেন এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.