বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বৃহত্তর কালিগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা’র আত্মপ্রকাশ  » «   আদালতে ১৬৪ধারায় সেই ঘাতকের জবানবন্দী  » «   পরীক্ষার হলে শিক্ষিকা ঘুমে জানালেন উপজেলা চেয়ারম্যান  » «   সাংবাদিক আহসান হাবীবের মা অসুস্থ, দোয়া কামনা  » «   লন্ডনে যুব সংহতির সভায় হুইপ সেলিম উদ্দিন এমপি  » «   ওমর মিয়াদ হত্যার অভিযোগে জকিগঞ্জের তোফায়েল আটক  » «   সাইফুল আলম হত্যা; এনামকে একমাত্র আসামী দিয়ে থানায় হত্যা মামলা  » «   ইছামতি কলেজের ছাত্র সাইফুল আলমের হত্যাকারির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি  » «   একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী কিশোর; ঘাতক হত্যাকারি রেহাই পায়নি  » «   পাশের ঘরের চাচাতো ভাই সাইফুল আলমকে হত্যা করে  » «  

জকিগঞ্জে বিরল রোগে আক্রান্ত স্কুল ছাত্র

এখলাছুর রহমান: জকিগঞ্জে বিরল রোগে আক্রান্ত এক স্কুল ছাত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। উপজেলার বারঠাকুরী ইউপির তিনগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ছাত্রের সন্ধান মিলে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে ড্রেস পরে বসে আছে আব্দুন নূর নামের অস্বাভাবিক আকৃতির এক শিক্ষার্থী। এই শিক্ষার্থীর শরীরের চামড়াশুষ্ক ও ঝুলে পড়ছে, মাথাটা বড়, চুল ও চোঁখের উপরে ভ্রু নেই। মুখটাও ছোট, হাত ও আঙ্গুলের হাড়গুলো স্পষ্ট ভেসে উঠেছে, চলাফেরায় ধীরগতি। এই শিক্ষার্থীর চেহারা দেখতে ৩০/৪০ বছরের বয়স্ক মানুষের মত লাগে। ছেলেটি কজাপুর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল বাসিতের পুত্র।
এ রোগ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মেহেদীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ রোগটি পজেরিয়া (চৎড়মবৎরধ) নামের জ্বীন ঘটিত একটি বিরল রোগ। যার ফলে এ রোগে আক্রান্ত অল্প বয়সের শিশুগুলোকেও দেখতে বয়স্ক মনে হয়। আমাদের দেশে এ ধরণের কোন রোগীর সন্ধান ইতিপূর্বে মেলেনি। জকিগঞ্জেই প্রথম এই ধরণের রোগের সন্ধান পাওয়া গেছে। এটি বংশানুক্রমিক বা উত্তরাধিকারসূত্রের কোন রোগ নয়। এ রোগ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদেরও অনেক কিছু অজানা। এ রোগ নিরাময়ে কোনো চিকিৎসাই সফল হয়নি। রোগটি চিহ্নিত করা গেলেও তাঁর চিকিৎসা জানা নেই। পজেরিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুরা গড়ে ১৩-১৫ বছর বাঁচে।
তিনগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরেময় নাথ জানান, বিরল রোগে আক্রান্ত এই শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় অনেকটা মেধাবী। সে কথা বলে খুবই আস্তে। অন্য শিক্ষার্থীরা রোগে আক্রান্ত এ ছাত্রকে ভয় পায়।
শিশুটির মা রাবিয়া বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ রোগটি শিশুটির জন্মের। রোগটি থেকে রেহাই পেতে অনেক চিকিৎকের দ্বারস্থ হয়েছি কিন্তু নিরাময় হয়নি। চিকিৎকরা জানিয়েছেন এ রোগের কোন চিকিৎসা নেই। শিশুটি পুষ্টির অভাবে এখন শুকিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম সিরাজী বলেন, আমার চাকুরী জীবনে এ রোগে আক্রান্ত কোন শিশু দেখিনি। আমরা এই শিক্ষার্থীকে প্রতিবন্ধিদের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.