মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জকিগঞ্জে প্রথম মুক্ত দিবস আজ; পালন হবে বিভিন্ন কর্মসূচি

জকিগঞ্জ বার্তা: স্বীকৃতির অপেক্ষায় দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা। ১৯৭১ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম মিছিল বের হয় জকিগঞ্জে। পাকিস্তানের পতাকায় ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন।
স্বাধীনতার কয়েক যুগ অর্থাৎ ৪৬বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো স্বীকৃতির অপেক্ষা করছেন এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা। দেশে প্রথম বিজয়ের প্রভাতে নিঃশ্বাস নেওয়া এই অঞ্চলের লাখো মানুষের দাবিও এখন এটি। ২১ নভেম্বর প্রথম মুক্তাঞ্চল দিবস হিসেবে পালিত হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে না।
তবে মঙ্গলবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সন্তান কমান্ড বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল ১০টায় জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন। বেলা ১১টায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হবে। দুপুর ১২টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে সকলের উপস্থিতি কামনা করেছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও পৌরসভার মেয়র হাজী খলিল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘‘১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর রাতে যৌথ বাহিনীর এক সাঁড়াশি অভিযানের ফলে ২১ নভেম্বর ভোরে মুক্ত হয় জকিগঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধে জকিগঞ্জ ছিল ৪নং সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত। অধিনায়ক ছিলেন মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত। মরহুম সাবেক মন্ত্রী এমপি দেওয়ান ফরিদ গাজী ছিলেন এই সেক্টরের বেসামরিক উপদেষ্টা। ৬টি সাব সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন মাহবুব রব সাদী, লে. জহির উদ্দিন ও ক্যাপ্টেন এম.এ.রব।
মুক্তাঞ্চলের প্রথম আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ড বিহার প্রদেশের চাকুলিয়ায় বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত জকিগঞ্জের সন্তান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জকে মুক্ত করার পরিকল্পনা অনুসারে ২০ নভেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী ৩টি দলে বিভক্ত হয়ে প্রথম দল লোহার মহলের দিকে ও দ্বিতীয় দল অমলসীদের দিকে অগ্রসর হয়।
মূল দল জকিগঞ্জের কাষ্টমঘাট বরাবর করিমগঞ্জ কাষ্টমঘাটে অবস্থান নেয়। প্রথম ও দ্বিতীয় দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে কুশিয়ারা নদী অতিক্রম করে জকিগঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়। পাক বাহিনী খবর পেয়ে দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করে।
মুক্তিবাহিনী তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে ভেবে তারা আটগ্রাম-জকিগঞ্জ সড়ক দিয়ে পালাতে থাকে ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় দল জকিগঞ্জ পৌঁছে যায়।
মূল দল কুশিয়ারা নদীতে রাবারের বালিশ দিয়ে সেতু তৈরি করে জকিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। তখন পাক সেনাদের বুলেটে শহীদ হন ভারতীয় বাহিনীর মেজর চমন লাল ও তার দুই সহযোগী।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.