বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
চােখের জলে ইকবাল তালুকদারকে শেষ বিদায়  » «   ওসমানী থেকে জকিগঞ্জের আলী আশরাফের এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন  » «   পাতানো নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না-উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ  » «   মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জকিগঞ্জবাসী; পৌরসভা-ইউপির পদক্ষেপ নেই  » «   জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শাপলার ফলক উন্মোচন  » «   সড়ক সংস্কার বিষয়ে যা বললেন ইউএনও-সিএন্ডবি কর্মকর্তারা  » «   জকিগঞ্জ-বটরতল সড়ক সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ  » «   বারঠাকুরী ও কসকনকপুর ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক প্রাথীদের জীবন বৃত্তান্ত আহ্বান  » «   উত্তরকুল মোশাহিদীয়া দাখিল মাদ্রাসা তালামীযের কমিটি গঠন  » «   তালামীযের জকিগঞ্জ পৌরসভা শাখার কমিটি গঠন  » «  

জকিগঞ্জে একই পরিবারে ৫ জন অন্ধ…..

এখলাছুর রহমান: ‘চোঁখের নজর এমনি কইরা একদিন খইয়া যাবে/জোয়ার ভাটায় পইড়া দুই চোঁখ নদী হইয়া যাবে/পোড়া চোঁখে যা দেখিলাম তাই রইয়া যাবে।’ সৈয়দ আবদুল হাদীর সেই অবিস্মরণীয় গানে চোখের গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে। চোঁখকে বাঁচিয়ে রাখার সাধ মানুষের চিরন্তন। পৃথিবীকে ‘দেখার সাধ’ মানুষের চিরদিনের। চোঁখের সাহায্যেই মানুষ সুন্দর পৃথিবীর রংধনু, নীল আকাশ, রূপ রং, প্রিয় মুখ, আকাশ, পাহাড়, নদী, পাখি, ফুলসহ যাবতীয় সৌন্দর্য উপভোগ করে। মুগ্ধ হয়। চোঁখ মানেই জগতের আলো। মনের আয়না। কর্মব্যস্ত জীবনে চোঁখের গুরুত্ব তারাই বুঝেন যারা পৃথিবীকে দেখতে পান না, তারাই কেবল জানেন বেঁচে থাকার জন্য চোঁখ কতোটা অপরিহার্য! যার চোঁখ নেই, সে-ই বুঝে যে চোঁখ কত অমূল্য সম্পদ। যেকেউ চোঁখ হারানোর পর চোঁখ হারা মানুষের না-বলা কথাগুলো অনুভব করতে পারেন। অপরূপ এ জগতে সবাই দেখতে পান না। কেউ চশমা ব্যবহার করে জীবন পার করেন, আবার সমাজে অনেক মানুষ আছেন যারা চোঁখে একটুও দেখতে পান না পৃথিবীর সোনালী আলো। চশমা দিয়েও না। তাদের আমরা অন্ধ বলি। অন্ধ মানুষের জীবন অন্ধকারেই কাটাতে হয়। দিনের আলো, রাতের অন্ধকার সবই যেন তাদের কাছে সমান। অন্ধরাই বুঝেন অন্ধত্বের যন্ত্রনা। দুনিয়াটা দেখার জন্য ছটফট করে তাদের মন। মূর্খ লোকও বলে কথা, তাদের মনে বাড়ে জ্বালা ব্যাথা। যেখানে যায় কানা লোক, আবর্জনা মনে করে সমাজের লোক।
অন্ধ মানুষের জীবন যাপনের চিত্র খুজতে গিয়ে জকিগঞ্জের বারহাল ইউনিয়নের খিলোগ্রাম ৩০ঘর এলাকায় একটি অন্ধ পরিবারের সন্ধান মিলেছে। পরিবারটির ৫ জন লোকই অন্ধ। তারা পৃথিবীর আলো একেবারেই দেখতে পায়না।
এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সাবেক দফাদার মৃত মাহমদ আলীর ৫ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছেন। এর মধ্যে ৪ ভাই আব্দুল মতিন, আলমাছ উদ্দিন, নোমান উদ্দিন, আজমল উদ্দিন ও ১ বোন খানম বেগম অন্ধ। জন্মের পর থেকেই তাদের এই দশা। সহায় সম্বলহীন এই অন্ধ পরিবারটির লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনাহারে, অর্ধাহারে কাটে দিন। টাকার অভাবে তারা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত।
সম্প্রতি এ প্রতিবেদক তাদের বাড়িতে গেলে দেখতে পান, ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরেই তাদের বসবাস। ঘরের বারান্দায় বসে আছেন অন্ধ চার ভাই আব্দুল মতিন, আলমাছ উদ্দিন, নোমান উদ্দিন, আজমল উদ্দিন ও অন্ধ বোন খানম বেগম।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই অন্ধ খানম বেগম হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। কেদে কেদে তিনি তার জীবনের লাঞ্চনার কথা বলতে গিয়ে বলেন, বিয়ে হয়েছিলো একই ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে। দুই বছর স্বামীর সাথে সংসার করার পর চোঁখে না দেখার কারনে স্বামী তালাক দিয়েছেন। এখন ভিক্ষাবৃত্তি ও এলাকার লোকজনের সাহায্যে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
অন্ধ আব্দুল মতিন জানান, তাদের পরিবারে ৫ জন অন্ধ হলেও বোন খানম বেগম ও ভাই নোমান উদ্দিন ছাড়া আর কেউ প্রতিবন্ধির ভাতা পাননা। দুঃখে কষ্টে তাদের জীবন যাচ্ছে। সুচিকিৎসা পেলে তারা সুন্দর এ ভূবনের স্বাদ নিতে পারবে এমনাটাই তার ধারণা। অন্ধ সকল ভাইদের সন্তানাদি থাকলেও টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের মা এখনো জীবিত আছেন তবে খুবই বৃদ্ধ। বয়সের কারণে রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনিও বিনা চিকিৎসায় দিন কাটাচ্ছেন। অন্ধত্বের দৈন্যদশা থেকে মুক্তি পেতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সহযোগীতা কামনা করেছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতায় অন্ধ মানুষদের চোঁখে আলো ফিরে আসবে। তারাও সুন্দর পৃথিবীকে সুন্দর চোঁখে দেখতে পাবে।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.