শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
এলংজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণ  » «   ইনামতি স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের গণ গ্রন্হাগারের উদ্বোধন  » «   শাবিপ্রবিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদেরকে জেডএসও এর অভিনন্দন  » «   জকিগঞ্জ বাজারে ভাই ভাই হিরো ক্লাবের অফিস উদ্বোধন  » «   জকিগঞ্জ পৌর এলাকায় শুক্রবার সারাদিন বিদ্যুৎ থাকবে না  » «   কারাদন্ডপ্রাপ্ত দিপুরাম; জকিগঞ্জ বার্তাকে যা বললেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  » «   জকিগঞ্জে যুবদল নেতা জুবেল আহমদের জন্মদিন পালন  » «   জকিগঞ্জে মাছ চুরির অভিযোগে দিপুরামকে কারাদন্ড; এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া  » «   নব গঠিত মানিকপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল  » «   জকিগঞ্জের কান্দিগ্রামে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু  » «  

জকিগঞ্জের প্রথম শহীদ শিশু ”ফরিদ”

ফরিদ উদ্দিন, পিতা মৃত: শরফান আলী, মাতা: মৃত: রঙ্গই বিবি, গ্রাম: পিরেরচক, জকিগঞ্জ, সিলেট। শিশু ফরিদ ছিলেন জকিগঞ্জের প্রথম শহীদ। শিশু ফরিদের শাহাদাত দিনের করুণ পরিণতির সংক্ষিপ্ত কিছু বিবরণ…..সেদিন ছিল ১৮ই এপ্রিল, রোজ: রবিবার। শিশু ফরিদের বয়স তখন ৮বছর মা-বাবার অতি আদরের ছোট ছেলে শিশু ফরিদ, বর্তমান ছাউনিঘাট সংলগ্ন স্থানে তখন ছিল জমজমাট হাট-বাজার শিশু ফরিদ সেখানে তার মামার দোকানে ছিল, চারদিকে যখন আসরের আযানর সুর শোনার কথা, তখন শোনা যায়, পাকিস্তানি পাকহানাদার বাহিনীর বাজার ছেড়ে যাওয়ার বাশির সুর। পাক-হানাদার বাহিনীর ৭/৮ জনের একদল একটি খোলা জীপ গাড়ি নিয়ে জকিগঞ্জ চৌমূহনী স্থলে গাড়ি থামিয়ে বাশি বাজিয়ে জানিয়ে দিল ৫মিনিটের মধ্যে বাজার ছেড়ে দেওয়ার জন্য। বাজার ছেড়ে দেওয়ার জন্য সবাই যখন তাদের নিজেদের প্রাণ বাচানোর জন্য হা হুতাশ করছে, ঠিক তখন মিরজাফরের দল, হারামী বাহিনী ৫মিনিট বাজার পূবেই ঘাটের দিকে গুলি ছোড়ে দেয়। শিশু ফরিদ প্রাণের ভয়ে মামার দোকান থেকে বের হয়ে রাস্তার ও পাশ্বে যাওয়ার জন্য ছুটছিল, কি আর হবে! একটি গুলি শিশু ফরিদের মূখ বরাবর গালে অংশের সাথে লেগে যায় ছোট শিশু ফরিদ গড়িয়ে গড়িয়ে মাটিতে লুটে পড়লো। বাজার একদম নিস্তব্দ কোন মানুষ নেই ঘাট-বাজারে, প্রায় ১৫মিনিট পরে কে যেন শিশু ফরিদের মামার বাড়িতে এসে তার মামাকে খবর দে আপনার ভাগ্না ফরিদের গায়ে গুলি লেগেছে এ খবর শুনার সাথে সাথে তার মামাতো ভাই(আমার পিতা, মো:কালাই মিয়া) শিশু ফরিদের খেলার সাথী ছিলেন বলে তার প্রতি মায়ারটান ছিল বেশী আমার পিতা সব ভয় ডিঙ্গীয়ে ছুটে চলেন শিশু ফরিদের কাছে শিশু ফরিদের কাছে গিয়ে শিশু ফরিদের এ করুণ পরিণতি দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে যান। শিশু ফরিদ মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করছে তাকে পানি দেওয়ার জন্য ইঙ্গিত করছে আমার পিতাকে, আমার পিতা ভাবলেন, তার এমন অবস্থা ছিল যে, “তার মূখে পানি দেওয়ার মতো কোন জায়গা ছিল না পুরো মুখ তেতলিয়ে গেছে” আমার পিতা দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে সবাইকে নিয়ে এলে, হাজী সামছুর রহমান সমছু, বর্তমান পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি, মৃত মখলিছুর রহমান (পিরেরচক) এবং শিশু ফরিদের মামা মৃত: শফিকুর রহমান মিলে তাকে পুরাতন হাসপাতারে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে বেন্ডীর করে সামান্য ঔষধ দিয়ে বাড়িতে নিয়ে কালিমার দেওয়ার জন্য বলেন। ঐ রাত প্রায় ১১.৪০ মিনিটের সময় শহীদ শিশু ফরিদ এ নিখিল পৃথিবী ছেড়ে অজানা ভূবনে চলে যায়। পরদিন সোমবার, ১৯শে এপ্রিল পীরেরচক গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মা ছেলে মারা যাওয়ার কষ্ট সহ্য না করতে পেরে পাগল হয়ে যান, এবং পাগল অবস্থায় প্রায় ১৪ বছর পর মৃত্যু বরণ করেন।

আজ বাংলার মধ্যে ‌প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসাবে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার আশাবাদী হয়ে প্রথম শহীদ শিশু ফরিদের জন্য আমরা জকিগঞ্জের শিশূ-কিশোর, যুব সমাজ এবং সকলে মিলে শহীদ শিশু ফরিদের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করি, হে মহান রাব্বুল আলামীন শিশু ফরিদ ও তার মাকে জান্নাতবাসী করুন। আমীন——–। লেখক: মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, পিতা: মো: কালাই মিয়া, সাং- পিরেরচক, জকিগঞ্জ পৌরসভা।সূত্র: হাজী খলিল উদ্দিন, মেয়র, জকিগঞ্জ পৌরসভা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, (শিশু ফরিদের আপন বড় ভাই মো: ফজলুল হক(বড়াই) সাবেক মেম্বার ৪নং খলাছড়া ইউ/পি, জকিগঞ্জ, এবং মো: কালাই মিয়া, পীরেরচক, জকিগঞ্জ পৌরসভা

 

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.