মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বারহালে আওয়ামীলীগ এর মতবিনিময় সভায় আলহাজ্ব মাসুক উদ্দিন আহমদ  » «   বারহা‌লে দি স্টু‌ডেন্ট ডে‌ভেলাপ‌মেন্ট ক্লাব(চক বুরহানপুর)এর ক‌মি‌টি গঠন   » «   জেলা পর্যায়ে মেধা বৃত্তি পেলেন জকিগঞ্জের ইছামতি কামিল মাদ্রাসার নয় মেধাবী শিক্ষার্থী  » «   জকিগঞ্জ উপজেলা উন্নয়ন পরিষদ ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আলী রেজার পরিবারকে নগদ অর্থ প্রদান  » «   ওসিসি থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই ভয়ংকর নারী প্রতারক পপি আটক  » «   মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন   » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালন  » «   বারহালে মাদক,সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আলোচনা সভা সম্পন্ন  » «   আটগ্রামে স্কুল ছাত্র সাজুর ইন্তেকাল  » «   আটগ্রামে সরকারি গোপাট উন্মুক্ত করতে ইউএনও বরাবরে অভিযোগ  » «  

কোটা প্রথা কি? বাংলাদেশে কোটা পদ্ধতি কিভাবে এলো?

বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন, বিক্ষোভ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে কী এই কোটা ব্যবস্থা এবং কেন এটা নিয়ে বিক্ষোভ? কোটা ব্যবস্থা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল? বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে।

১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সন্তানদের সুবিধা দেবার জন্য প্রথমে এ কোটা চালু করা হয়েছিল।

১৯৭২ সালে প্রথম এই কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এই কোটার পরিধি বেড়েছে।

এখন মুক্তিযোদ্ধাদের নাতী-নাতনীদের জন্য এ কোটা প্রযোজ্য হচ্ছে। ৬৪টি জেলার জন্য কোটা আছে। মূলত দেশের অনগ্রসর মানুষকে সুবিধা দেবার জন্যই কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে এখন ২৫৮ ধরনের কোটা আছে। বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সূত্রমতে প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে মোট পাঁচটা ক্যাটাগরিতে কোটার ব্যবস্থা রয়েছে।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটায়।

প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা:

  • মুক্তিযোদ্ধা কোটা: ৩০ শতাংশ
  • জেলা কোটা: ১০ শতাংশ
  • নারী কোটা: ১০ শতাংশ
  • উপজাতি কোটা: ৫ শতাংশ
  • প্রতিবন্ধী কোটা: ১ শতাংশ

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে এখন ২৫৮ ধরনের কোটা আছে। বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সূত্রমতে প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে মোট পাঁচটা ক্যাটাগরিতে কোটার ব্যবস্থা রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটায়।

কোটা সংস্কারের দাবিগুলো কী?

‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ’এর ব্যানারে যে পাঁচটি বিষয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে সেগুলো হল-

• কোটা-ব্যবস্থা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা (আন্দোলনকারীরা বলছেন ৫৬% কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ। সেটিকে ১০% এ নামিয়ে আনতে হবে)

• কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া

• সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়স-সীমা- (মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে চাকরীর বয়স-সীমা ৩২ কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০। সেখানে অভিন্ন বয়স-সীমার দাবি আন্দোলনরতদের।)

• কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নেয়া যাবে না ( কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকরি আবেদনই করতে পারেন না কেবল কোটায় অন্তর্ভুক্তরা পারে)

• চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলাদেশে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা শুধু শিক্ষার্থী বা চাকরি-প্রার্থীদের মাঝেই রয়েছে তেমনটি নয়, বিশেষজ্ঞদেরও মতামত রয়েছে কোটা সংস্কারের পক্ষে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এক সাক্ষাতকারে সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব আকবর আলি খান বলেন, বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সন্তানদের সুবিধা দেবার জন্য প্রথমে এ কোটা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এখন মুক্তিযোদ্ধাদের নাতী-নাতনীদের জন্য এ কোটা প্রযোজ্য হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।

আকবর আলি খান বলেন, এ কোটা ব্যবস্থার কারণে অনেক মেধাবী প্রার্থীরা চাকরির পরীক্ষা দিতে রাজী হয় না।

সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৯ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।

এই অনুচ্ছেদের ২৯ এর (৩) এর (ক) তে বলা হয়েছে, নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা হইতে, রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

 

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.