সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জকিগঞ্জে মহান বিজয় দিবস উদযাপন  » «   প্রিন্সিপাল আল্লামা বালাউটি ছাহেব বাড়ির সন্নিকটে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) মাহফিল  » «   বীর মুক্তিযোদ্ধা নোমান উদ্দিনের কিছু বীরত্ত্ব গাঁথা স্মৃতি।  » «   জকিগঞ্জে বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মীদের নিয়ে সভা করলেন মাসুক উদ্দিন আহমদ  » «   নব নির্মিত জকিগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা জানানো হবে  » «   মহান দিবস উপলক্ষে জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক কর্মসূচি  » «   মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জকিগঞ্জ বার্তার শুভেচ্ছা  » «   জকিগঞ্জে ধানের শীষ সমর্থক ফ্রন্ট গঠন  » «   জকিগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে আজ সন্ধ্যায় নাটক ও সংগীতানুষ্ঠান  » «   যথাযথ মর্যাদায় জকিগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ  » «  

ঐতিহ্যের বাংলা নববর্ষ

মো. আবু তালহা তারীফ: আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হলেই মানুষে মানুষে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আবহ তৈরি হবে। এবারের নববর্ষে আমরা সেই আবহের সর্বপ্লাবী আহ্বান আশা করব। আসুন, নববর্ষ সম্পর্কে সঠিক বাণী অন্যদের জানিয়ে দেই। পাপকর্ম থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা নিজেদের এবং পরিবারের লোকদের আগুন থেকে বাঁচাও।’ (সূরা তাহরিম : ৬)

বৈশাখের প্রথম দিনের উৎসবটি গ্রামবাংলার মানুষের পছন্দের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। আমরা না জানার কারণে আমাদের নববর্ষকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসব মনে করছি। বাঙালি হিসেবে নববর্ষটা আমাদেরই। পহেলা বৈশাখের ইতিহাস ও ঐতিহ্য মুসলমানদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ইরানি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতুল্লাহ শিরাজী ভারতবর্ষের মুঘল সম্রাট আকবরের নির্দেশে খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য ফসলি সন প্রবর্তন করার জন্য গবেষণা করেন। তিনি হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জিকে সৌর বর্ষপঞ্জিতে রূপান্তরিত করেন। ৯৯৮ হিজরি মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর এ হিজরি সৌর বর্ষপঞ্জির প্রচলন করেন। তিনি ঊনত্রিশ বছর আগে তার সিংহাসন আরোহণের বছর থেকে নতুন পঞ্জিকার সূচনা তারিখ নির্ধারণের নির্দেশ দেন। এ জন্য ৯৬৩ হিজরি সন থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। আগে বঙ্গে প্রচলিত শতাব্দ বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস ছিল চৈত্র। কিন্তু ৯৬৩ হিজরি সনের মহররম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস। তাই বৈশাখ মাসকে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বছরের প্রথম মাস ধরা হয়।

আজ আমরা বাঙালি হয়ে আমাদের ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলার অপেক্ষায় রয়েছি। আমরা ভুলে গেছি বাংলা নববর্ষ প্রবর্তনের গোড়ার কথা। ফলে শূন্যস্থানটি দখল করে সেখানে ইসলামবহির্ভূত কর্মকা-সহ অপসংস্কৃতি চর্চার মিলনমেলা বসানো হচ্ছে। আমরা যদি নববর্ষকে কেন্দ্র করে এলাকার যুবকদের নিয়ে ইসলামি মাহফিল, হামদ-নাত প্রতিযোগিতা, সাহিত্য আসর, পুঁথিপাঠ প্রভৃতির অনুষ্ঠান করতে পারিÑ তাহলে সমাজের ছেলেমেয়েরা অপসংস্কৃতি ও পাপকর্ম থেকে বিরত থাকার প্রেরণা পাবে। আমরা দুই হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করতে পারিÑ ‘প্রভু আমাদের গত বছরের ইবাদত-বন্দেগি কবুল করে নাও। জানা-অজানা, ইচ্ছা-অনিচ্ছায় যত পাপ করেছি, মাফ করে দাও। সামনের বছরটিতে শিলাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, কালবৈশাখি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও বজ্রপাত থেকে আমদের রক্ষা করো। বিশেষত অপসংস্কৃতির ছোবল থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করো।
আমাদের ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে চর্চা করতে না পারায় যারা অন্য পথে এগুচ্ছে তাদের ঘৃণা না করে পাপকে ঘৃণা করা উচিত। মানুষের প্রতি দরদি হয়ে সুন্দর ও সঠিক জিনিসটি সমাজের সামনে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনাচারে সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারলে নিশ্চয়ই মানুষ সেদিকে আকৃষ্ট হবে। কোরআন মজিদে মানুষকে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষ যাতে নৈতিকতার শিক্ষা পায়, একে অপরকে ভালোবাসে। সমাজে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির চর্চা হয়। আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হলেই মানুষে মানুষে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আবহ তৈরি হবে। এবারের নববর্ষে আমরা সেই আবহের সর্বপ্লাবী আহ্বান আশা করব। আসুন, নববর্ষ সম্পর্কে সঠিক বাণী অন্যদের জানিয়ে দেই। পাপকর্ম থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা নিজেদের এবং পরিবারের লোকদের আগুন থেকে বাঁচাও।’ (সূরা তাহরিম : ৬)।

 

 

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.