রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বাবা-মাকে হারিয়ে আমি একা, মিয়ানমার ফেরত বালক মাহবুব  » «   জকিগঞ্জ শেওলা সড়কের পীরনগরে গাছের চারা রোপন  » «   জকিগঞ্জ এসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন  » «   বারহালে সেতুবন্ধন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিষদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  » «   জকিগঞ্জে আল ইসলাহ-তালামীযের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।  » «   বৃহস্পতিবার ত্রাণ নিয়ে জকিগঞ্জ থেকে টেকনাফ যাত্রা  » «   জকিগঞ্জ-শেওলা-সিলেট সড়কে গাছ রোপন করবে সেতুবন্ধন  » «   আলোর ঝলক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের শেষ সময় ৭অক্টোবর  » «   জকিগঞ্জ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অসহায় রোহিঙ্গাদেরকে সহায়তা প্রদান  » «   ঢাবি ভর্তি মেধা তালিকায় জকিগঞ্জের ফখরুল  » «  

এসপির সহযোগিতায় ধুমধামে বিয়ে হলো অনাথ হাবিবার

ধুমধামে বিয়ে হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারের কন্যা হাবিবার। শুক্রবার দুপুরে শিশু পরিবারের বরযাত্রী আগমনের পর দুপুরে বিয়ে পড়ানো হয়। এ বিয়ের আয়োজন করেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

জুমা নামাজের পর শুরু হয় খাওয়া-দাওয়া। বিকালে নব-দম্পত্তিসহ বর পক্ষের অতিথিরা পুলিশ সুপারের বাসভবন থেকে আপ্যায়ন শেষে হাবিবার শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।

প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই বিয়েতে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক হাবিবাকে দেন এক সেট গহনা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী নবদম্পতির বসবাসের জন্য বরের বাড়িতে নির্মাণ করে দেবেন একটি ঘর। জেলা প্রশাসক মো. রেজওয়ানুল রহমান উপহার দেন সোনার চেইন, বিয়ের শেরোয়ানি, পাগড়ি, নাগরা ও কালার টেলিভিশন।

পুলিশ সুপারের সহধর্মিনী দেন বিয়ের শাড়ি ও গহনা। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হাবিবার বিয়েতে উপহার দেন স্টিলের আলমারি এবং সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা হাবিবাকে দেবেন একটি সেলাই মেশিন।

হাবিবার স্বামী জেলার কসবা উপজেলার সোনারগাঁও গ্রামের মো. জাকারিয়া আলম। সম্প্রতি পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দিয়েছেন তিনি।

বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক এ কে এম খায়রুল আরম, জেলা প্রশাসক রেজওযানুর রহমান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তিন শতধিক অতিথি।

প্রসঙ্গত, ১০ বছরআগে ‘অনাথ শিশু’ হিসেবে হাবিবার ঠাঁই হয় সরকারি শিশু পরিবারে। হাবিবার বতর্মান বয়স ১৮ বছর। শিশু পরিবারের নীতিমালা অনুযায়ী তাকে সে জায়গাতে আর থাকা হবে না। তাই ডাকা হলো হাবিবার মামা আর মামিকে।

মামা-মামির হাতে হাবিবাকে তুলে দেয়ার সময় সূচনা হলো নতুন এক অধ্যায়। শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরার আঁচল ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন হাবিবা। তখন রওশনারাকে বিচলিত ও বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। পেছনে দিকে তাকিয়ে একবার দেখলেন হাবিবাকে।

তারপর রওশনারা শিশু পরিবারের পরিচালনা কমিটিকে জানালেন হাবিবার পুনর্বাসনের জন্য। পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বলা হলো- হাবিবা আপাতত শিশু পরিবারেই থাকবে। তাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

হাবিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মমতাময়ী রওশন আরা কথা বলেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সাথে।  ভালো ছেলের সন্ধান পেলে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ারও অনুরোধ জানান রওশনারা। আলোচনার পর রওশনারা পুলিশ সুপারের ইতিবাচক সাড়া পেয়ে শিশু পরিবারে ফেরেন। একপর্যায় পাত্রের সন্ধান মিলল।

হাবিবার মামা-মামির সঙ্গে কথা বলে বিয়ের বিষয়টি পাকাপোক্ত করা হলো। হাবিবার জন্য ঠিক করা পাত্রের চাকরির ব্যবস্থা করলেন পুলিশ সুপার। পরে পুলিশ সুপার নিজেই হাবিবার বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার দায়িত্ব নেন।

আর অতিথি আপ্যায়ন এবং যাবতীয় খরচ বহন করলেন পুলিশ সুপার নিজেই।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.