বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বৃহত্তর কালিগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা’র আত্মপ্রকাশ  » «   আদালতে ১৬৪ধারায় সেই ঘাতকের জবানবন্দী  » «   পরীক্ষার হলে শিক্ষিকা ঘুমে জানালেন উপজেলা চেয়ারম্যান  » «   সাংবাদিক আহসান হাবীবের মা অসুস্থ, দোয়া কামনা  » «   লন্ডনে যুব সংহতির সভায় হুইপ সেলিম উদ্দিন এমপি  » «   ওমর মিয়াদ হত্যার অভিযোগে জকিগঞ্জের তোফায়েল আটক  » «   সাইফুল আলম হত্যা; এনামকে একমাত্র আসামী দিয়ে থানায় হত্যা মামলা  » «   ইছামতি কলেজের ছাত্র সাইফুল আলমের হত্যাকারির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি  » «   একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী কিশোর; ঘাতক হত্যাকারি রেহাই পায়নি  » «   পাশের ঘরের চাচাতো ভাই সাইফুল আলমকে হত্যা করে  » «  

একটি শিশু,একজন শিক্ষক,একটি কলম ও একটি বই বদলে দিতে পারে পুরো পৃথিবী

মালালারায়হান আহমেদ তপাদারঃ  নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মালালার জাতিসংঘে দেওয়া একটি ভাষণের কথাগুলো আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে আর তাই আমাদের নতুন প্রজন্মের মনোবলকে সম্প্রসারিত করার জন্য আমার এই ছোট্ট আয়োজন।আশা করি
তরুণকণ্ঠের পাঠকদের জন্য সময়োপযোগী হবে আর পথ চলতে সহায়ক হবে আমাদের তরুণ সমাজের জন্য।আজকের যোগের তরুণ সমাজের সব মানুষের জন্য যারা নিজের অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছেন।এমন প্রচুর মানুষ আছেন যারা মানবাধিকার আইন রক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলেছেন।তাদের এই সংগ্রাম শিক্ষা,শান্তি ও সমতার লক্ষ্যে।সন্ত্রাসীরা এই শান্তি ও শিক্ষার সন্ধানে উন্মুখ,নিজের অধিকার বজায় রাখার প্রশ্নে আপসহীন মানুষদের কে নির্বিচারে মেরে ফেলছে অথবা আহত করছে।অথচ খুব বেশি কিছু চাহিদা নেই এই মানুষগুলোর।শুধু মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু নিয়ে বাঁচতে চায়।সন্ত্রাসীরা চিন্তা করছে এই সমাজকর্মীদের মেরে ফেললেই হয়তো উন্নয়নের সকল পথ বন্ধ হয়ে যাবে,সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হয়ে যাবে।কিন্তু না!কিছুই পরিবর্তন হয়নি বরং দুর্বলতা,ভয় আর নিরাশার লজ্জাজনক মৃত্যু ঘটেছে।আর সেই মৃত অনুভূতির জায়গায় স্থান করে নিয়েছে শক্তি,ক্ষমতা ও সাহস।

আমরা তখনই অন্ধকারের মর্যাদা বুঝতে পারি যখন আমরা ডুবে যাই অন্ধকারে,তখনই শব্দের তাত্পর্য অনুধাবন করি যখন নীরবতা এসে গ্রাস করে।যখন আমরা চোখের সামনে বন্দুক দেখতে পেলাম,তখন বুঝতে পারলাম বই ও কলমের প্রয়োজনী য়তা আর কলমের কালি বন্দুকের গুলির চাইতে শক্তিশালী’ এই কথা পুরোপুরি সত্য।এইসব চরমপন্থিরা কলমের কালিকে ভয় পায়,বইয়ের জ্ঞানকে ভয় পায়।নারীকণ্ঠের তীব্রতা তাদেরকে ভীত করে।আর সেজন্যই তারা নির্বিবাদে ১৪ জন মেডিকেল শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছে কুয়েতে এজন্যই তারা খাইবার পুখতুন খাভা এবং এফএটিএ-তে নারী শিক্ষক ও পোলিও কর্মীদের হত্যা করেছে।কলমের কালির ভয়েই তারা দিনের পর দিন স্কুলগুলো সব বোমা মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে।কারণ,যেই পরিবর্তনের আলো আমরা এই অন্ধকার সমাজে নিয়ে আসব,তারা সেই পরিবর্তন আর সমতার ভয় পেয়েছে সবসময়,আর ভবিষ্যতেও পাবে।একটি ছেলেকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল,
তালেবানরা কেন শিক্ষার বিরুদ্ধে? ছেলেটি তার বইয়ের দিকে আঙুল তাক করে বলেছিল কারণ একজন তালেবান জানে না এই বইয়ের ভেতর কী লেখা আছে?’তারা মনে করে স্রষ্টা কোনো গোঁড়া মানসিকতা সম্পন একজন, যিনি মেয়েদেরকে দোযখে পাঠাবেন শুধু স্কুলে যাওয়ার অপরাধে।তালেবানরা তাদের নিজেদের সুবিধার জন্য ইসলাম ও পশতুন সমাজের নাম ব্যবহার করছে।প্রকৃতপক্ষে, ইসলাম শান্তির ধর্ম,মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। শান্তি শিক্ষার পূর্বশর্ত।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষত পাকিস্তান, আফগানিস্তান এসব দেশে যুদ্ধ ও সংঘর্ষের ছোবল ছিনিয়ে নিয়েছে হাজারো শিশুর স্কুলে যাওয়ার অধিকার।শুধু শিশু নয়,সেই সাথে নারীরাও বঞ্চিত হচ্ছে বিভিন্ন সুবিধা থেকে। ভারতে দরিদ্র শিশুরা শিশুশ্রমের শেকলে বন্দী।একই চিত্র দেখা যায় আফগানিস্তানেও।সুতরাং আমরা আমাদের কাজ শুরু করতে পারি নিরক্ষরতা দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মধ্য দিয়ে।আমাদের উচিত আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র-বই ও কলম ব্যবহার করা।একটি শিশু,একজন শিক্ষক,একটি কলম ও একটি বই বদলে দিতে পারে পুরো পৃথিবী।একটি শিশু,
একজন শিক্ষক একটি কলম আর একটি বই বিশ্বের পুরো সমাজকে বদলে দিতে ২০১৩ সালের ১২ই জুলাই প্রথম বারের মত জাতিসংঘের সাধারন সভা বা জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্টের তত্ত্বাব ধানে তরুণদের নিয়ে জাতিসংঘ আয়োজন করে দ্যা গ্লোবাল ইউথ টেকওভার।পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা তরুণের সাথে ওই কনভেনশানে যোগ দেন তালেবানের হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়া শান্তিতে নোবেল বিজয়ী পাকিস্তানের শিক্ষাসংগ্রামী মালালার কনভেনশানে দেওয়া তাঁর অনুপ্রেরণা বক্তব্যটি আমাদের তরুণ ছেলে-মেয়েদের অনেক অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে আমার বিশ্বাস।
নোবেল বিজয়ী মালালা তার কথাগুলো এভাবে প্রকাশ করলেন:আজ অনেক দিন পর আবার কথা বলতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।এখানে এত গন্যমান্য মানুষের ভিড়ে থাকতে পারাটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।কোথা থেকে শুরু করবো জানিনা।আমি জানিনা সবাই আমার কাছ থেকে ঠিক কি আশা করছেন।তবে সর্বপ্রথম ধন্যবাদ সৃষ্টিকর্তাকে, যার কাছে আমরা সবাই সমান আর ধন্যবাদ সেই মানুষ গুলোকেও যারা আমার আরোগ্য আর নতুন জীবনের জন্যে প্রার্থনা করেছেন।ঠিক বিশ্বাস হতে চায়না মানুষ আমাকে এতটা ভালোবেসেছে!পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার কার্ড আর উপহার পেয়েছি আমি।তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।সেসব শিশুদেরকে ধন্যবাদ যাদের নিষ্পাপ কথা আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছে।বড়দেরকেও ধন্যবাদ দিতে চাই যাদের প্রার্থনা আমাকে দিয়েছে শক্তি।তা ষোলতম জন্মদিনে জাতিসংঘ থেকে এমন সম্মাননা পাবেন তিনি কল্পণাও করেননি আর তাই তিনি মহান আল্লা হর শুকরিযা আদায় করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।তাই এই দিনটিকে মালালা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।শিক্ষা নিয়ে দেয়া এক বার্তায় মালালা বলেন, আমাদের সবার উচিত বই ও কলম হাতে নেয়া।এ দুটি হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।একজন শিশু,একজন শিক্ষক, একটি কলম এবংএকটি বই পারে পুরো পৃথিবী বদলে দিতে।
পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় জঙ্গি হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ৯ মাস পর তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।আর এটি হবে জাতিসংঘে দেয়া তার প্রথম ভাষণ।সাধারণ অধিবেশনে ৫০০ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিনিধিত্ব করবেন মালালা।ভাষণ দেয়ার পাশাপাশি মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গেও তার দেখা করার কথা রয়েছে।নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে সফরকালে মুনের সঙ্গে দেখা করবেন মালালা।শ্রমিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে বলে দৃঢ় কন্ঠে উচ্চারণ করেন।  আমাকে সেরে উঠতে আর শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করার জন্যে পাকিস্তান ও ব্রিটেনের হাসপাতালের সমস্ত চিকিৎসক সেবিকা আর কর্মচারীদের এবংইউএই সরকারকেও ধন্যবাদ জানাই।বিশ্বশিক্ষার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিশেষ দূত জনাব গর্ডন ব্রাউনের কাজ ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের পদক্ষেপকে পুরোপুরি সমর্থন করি আমি।আর তাদের ক্রমাগত নেতৃত্বের জন্যেও দুজনকেই ধন্যবাদ জানাই।

এটা আমি নবী মোহাম্মদ (সঃ),যিশু খ্রিষ্ট এবং গৌতম বুদ্ধের কাছ থেকেই শিখেছি।আর পরবর্তিতে উত্তরাধিকারের মত এই ধারা আমি অর্জন এবংবহন করেছি মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলা আর মুহাম্দ আলি জিন্নাহের কাছ থেকে।এটা সেই অহিংসার দর্শন,যা আমি শিখেছি গান্ধিজি,বাচা খান এবংমাদার তেরেসার কাছ থেকে।এটা সেই ক্ষমাশীলতা যা আমি শিখেছি আমার বাবা আর মায়ের কাছ থেকে।শান্তিতে থাকা আর সবাইকে ভালোবাসা এটাই আমার আত্মা আমাকে সবসময় বলে।মালালা দিবস শুধু আমার দিন নয়।এ দিনটি প্রত্যেকটি নারী,ছেলে ও মেয়ের যারা নিজেদের অধিকারের জন্যে সোচ্চার হয়েছে।এমন হাজার হাজার মানবাধিকার কর্মী ও সমাজ কর্মী রয়েছেন যারা কেবল মানবাধিকারের জন্যই নয়,ক্রমাগত শিক্ষা,শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্যে কাজ করে চলেছেন।হাজার হাজার মানুষ সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিহত আর লাখ লাখ মানুষ আহত হয়েছেন।আমি তাদেরই একজন।
২০১২ সালের ৯ অক্টোবর তালেবানরা আমার কপালের বামপাশে গুলি করে।আমার বন্ধুদেরকেও রেহায় দেয়নি।ওরা ভেবেছিল গুলি আমাদেরকে চুপ করিয়ে দেবে।কিন্তু ওরা ব্যর্থ হয়েছে।এবংএরপর সেই নিরবতার ভেতর দিয়েই এসেছে হাজারো কন্ঠ।সন্ত্রাসীরা ভেবেছিল আমাদের লক্ষ্য আর আশাকে বদলে দিতে পারবে।কিন্তু নিজের ভেতরের দূর্বলতা ভয় আর প্রত্যাশাহীনতা মরে যাওয়া ছাড়া আমার জীবনে আর কোন পরিবর্তনই আসেনি।বরংশক্তি,সামর্থ্য আর সাহস জন্ম নিয়েছিল।আমি সেই একই আছি।আমার প্রত্যাশাও সেই একই আছে।এক আছে আশা।এক আছে আমার স্বপ্নও।আমি কারো বিরুদ্ধে নই।আমি এখানে তালেবান বা কোন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিজের ব্যাক্তিগত প্রতিশোধের জায়গা থেকেও আসিনি।আমি এখানে এসেছি প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকার নিয়ে কথা বলতে।আমি সমস্ত উগ্রপন্তী,বিশেষ করে সকল তালেবানের ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষা চাই।
আমি এমনকি আমাকে গুলিবিদ্ধ করা তালেবানকে ঘৃণাও করিনা!এমনকি যদি আমার হাতে একটি বন্দুক থাকে আর সে আমার সামনে দাড়ায়,আমি তাকে গুলি করব না।এটা আমি নবী মোহাম্মদ (সঃ),যিশু খ্রিষ্ট এবংগৌতম বুদ্ধের কাছ থেকেই শিখেছি।আর পরবর্তিতে উত্তরাধিকারের মত এই ধারা আমি অর্জন এবংবহন করেছি মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলা আর মুহাম্দ আলি জিন্নাহের কাছ থেকে।এটা সেই অহিংসার দর্শন, যা আমি শিখেছি গান্ধিজি,বাচা খান এবং মাদার তেরেসার কাছ থেকে।এটা সেই ক্ষমাশীলতা যা আমি শিখেছি আমার বাবা আর মায়ের কাছ থেকে।শান্তিতে থাকা আর সবাইকে ভালোবাসা এটাই আমার আত্মা আমাকে সবসময় বলে।অন্ধকারেই কেবল আলোর গুরুত্ব বুঝি আমরা।নিঃস্তব্ধতার ভেতর দিয়েই বুঝতে পারি কণ্ঠস্বরের গুরুত্ব।ঠিক তেমনি ভাবে উত্তর পাকিস্তানের সোয়াতে থাকার সময় বন্ধুক দেখে আমরা বুঝেছি বই আর কলমের গুরুত্ব।পৃথিবীর বেশ কিছু অংশে,বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাস,যুদ্ধ ও সংঘাত শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।আমরা সত্যিই এই যুদ্ধ দেখতে দেখতে ক্লান্ত।পৃথিবীর নানা প্রান্তে নানাভাবে নারী আর শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে।বাংলাদেশ ও ভারতে নিষ্পাপ আর দরিদ্র শিশুরা শিশুশ্রমের শিকার হচ্ছে।নাইজেরিয়ার অনেক বিদ্যালয় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

জ্ঞানীরা বলেছেন-অসির চাইতে মসি বেশি শক্তিশালি।কথাটা সত্যি।উগ্রপন্থিনা কলম আর বইকে ভয় পায়।শিক্ষার শক্তি আর নারীরা তাদেরকে ভয় পাইয়ে দেয়।নারীদের কন্ঠের শক্তিকে ভয় পায় তারা।আর তাই কিছুদিন আগে কুয়েটাতে ১৪ জন নিষ্পাপ মেডিকেল শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলেছে তারা।খাইবার পাখতুন খাওয়াতেও এত নারী শিক্ষক আর পোলিওকর্মীকে মেরে ফেলেছে।কারণ তারা আমাদের সমাজের পরিবর্তন আর সাম্যতাকে সবসময়েই ভয় করে আর এখনো করছে।মনে পড়ে আমার বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন তালেবানরা কেন শিক্ষার বিরুদ্ধে? সে খুব সোজা একটা জবাব দিয়েছিল।সে নিজের বই দেখিয়ে বলেছিল কারণ একজন তালেবান জানেনা এর ভেতরে কি লেখা আছে।তারা সৃষ্টিকর্তাকে এতটাই ক্ষুদ্র আর সংকীর্ণ ভাবে যিনি বিদ্যালয়ে যাওয়ার অপরাধে মেয়েদের সোজা দোজখে পাঠিয়ে দেবেন।নিজেদের ব্যাক্তিগত স্বার্থের জন্যে সন্ত্রাসীরা ইসলামকে ব্যবহার করছে কেবল।বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র।সবাই নিজেদের ছেলে-মেয়ের জন্যে শিক্ষা চায়।এবংইসলাম শান্তি,মানবিকতা আর সম্প্রীতির ধর্ম।ইসলাম বলে শিক্ষা কেবল একজন শিশুর অধিকার নয়,তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও।

শিক্ষার জন্য শান্তি দরকার।পৃথিবীর বেশ কিছু অংশে,বিশেষ করে পাকিস্তান,
আফগানিস্তান ও আরও অন্যান্য অনেক দেশে সন্ত্রাস,যুদ্ধ ও সংঘাত শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।আমরা সত্যিই এই যুদ্ধ দেখতে দেখতে ক্লান্ত।পৃথিবীর নানা প্রান্তে নানাভাবে নারী আর শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে।ভারতে নিষ্পাপ আর দরিদ্র শিশুরা শিশুশ্রমের শিকার হচ্ছে।নাইজেরিয়ার অনেক বিদ্যালয় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।আফগানিস্তানের মানুষেরা যুগ যুগ ধরে উগ্রপন্থীদের ঝামেলা সহ্য করে চলেছে।মেয়ে শিশুদেরকে জোর করে গৃহকাজ কিংবা বিয়ে করতে বাধ্য করা হচ্ছে।দারিদ্রতা অজ্ঞতা,অবিচার,বর্ণবাদ আর বঞ্চনা প্রতিটি নারী-পুরুষের প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।আজ আমি নারী অধিকার আর শিশুশিক্ষার ওপর বেশি জোর দিচ্ছি কারণ তারাই সবচাইতে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে।এমন একটা সময় ছিল যখন নারী সমাজকর্মীরা পুরুষদেরকে তাদের কথা বলার জন্যে দাড়াতে বলত।কিন্তু এবার আমরা নিজেদের কথা নিজেরাই বলব।আমি পুরুষদেরকে নারী অধিকারের কথা বলতে নিরুৎসাহিত করছি না বরং চাইছি নারীরা নিজেরাই নিজেদের জন্যে যুদ্ধ করার মত স্বাধীন হয়ে উঠুক।

কথা বলার এখনই সময়।আর তাই আজ আমি বিশ্বনেতাদেরকে বলব শান্তি আর সমৃদ্ধির পক্ষে নিজেদের কৌশল আর পদ্ধতিকে পরিচালনা করতে।তাদেরকে বলব যে সবধরনের শান্তিচুক্তিতে নারী আর শিশু অধিকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।নারী মর্যাদা আর অধিকারের বিরুদ্ধে থাকা কোন চুক্তিই গ্রহনযোগ্য নয়।প্রতিটি সরকারকেই বলব প্রত্যেকটি শিশুর জন্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষার নিশ্চয়তা রক্ষা করতে।তাদেরকে বলব সন্ত্রাস আর সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়তে,
হিংস্রতা আর ক্ষতিগ্রস্থতা থেকে শিশুদেরকে রক্ষা করতে।উন্নত দেশগুলোকে বলব উন্নয়নশীল বিশ্বের নারীশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারনে কাজ করতে।ধর্ম,বর্ণ,জাত, লিঙ্গভিত্তিক সবধরনের অসমতাকে পাশ কাটিয়ে সব সম্প্রদায়কেই আমন্ত্রণ জানাব সহনশীল হতে।নারী উৎকর্ষের জন্যে তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে।কারণ অর্ধেক পিছিয়ে পড়া মানুষ নিয়ে আমরা এগোতে পারব না।পৃথিবীর সব বোনকে বলব সাহসী হতে নিজেদের শক্তি আর সম্ভাবনাকে বুঝতে।প্রতিটি শিশুর জন্যে আমরা বিদ্যালয় ও শিক্ষা চাই।শান্তি আর শিক্ষার প্রতি আমাদের এই যাত্রা আমরা সবসময়ই চালিয়ে যাব।কেউ আমাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।আমরা আমাদের অধিকারের জন্যে বলব এবং আমাদের কন্ঠ দিয়েই পরিবর্তন আনব।আমাদের কথার শক্তি আর সামর্থ্যে আমাদের বিশ্বাস রাখা উচিত।আমাদের কথা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে।কারণ আমরা সবাই শিক্ষার জন্যে একসাথে আছি।আর তাই যদি লক্ষ্য অর্জন করতে হয় তাহলে আমাদেরকে জ্ঞানের অস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী আর একতার মাধ্যমে সুরক্ষিত হতে দিন।

আমাদের ভুললে চলবে না যে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিনিয়ত অবিচার,দারিদ্র আর অজ্ঞতায় ভুগছে।আমাদের ভুললে চলবে না যে লক্ষ লক্ষ শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে।আমাদের ভুললে চলবে না যে আমাদের ভাই বোনেরা উজ্জ্বল এক ভবিষ্যতের জন্যে অপেক্ষা করছে। আর তাই আসুন বই আর কলম তুলে নিয়ে বিশ্ব নিরক্ষরতা,দারিদ্রতা আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই।এবংসামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় গড়ে তুলি।আবারও মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য বলতে হচ্ছে;একজন শিশু,একজন শিক্ষক,একটি বই আর একটি কলম বিশ্বকে বদলে দিতে পারে।শিক্ষাই একমাত্র সমাধান।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.