রবিবার, ২২ জুলাই, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ইন্টারনেটের দাম কমানোই প্রথম কাজ : মোস্তাফা জব্বার

নবনিযুক্ত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও  তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আমার প্রথম কাজ হবে ইন্টারনেটের দাম কমানো ও গতি বৃদ্ধি করা। ইন্টারনেট ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ আলোচনায় থাকবে না।

আজ শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিডিবিএল ভবনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ফুল ও ক্রেস্ট  দিয়ে মন্ত্রী ও বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বারকে শুভেচ্ছা জানায় বেসিসের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরাসহ বেসিস সচিবালয় ও বিআইটিএম। পরে বেসিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবার কথা বলেন মোস্তাফা জব্বার।

এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, মোস্তাফা জব্বারকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে সরিয়ে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে দেওয়া হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

বেসিসের সভাপতি থাকাকালীন মন্ত্রিত্বের নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর সহকর্মীদের কাছ থেকে আগের মতোই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন কম্পিউটারে বাংলা ফ্রন্টের উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, আইসিটি খাতের মন্ত্রিত্ব পাওয়া তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের সেরা সাফল্য। তবে তাঁর মন্ত্রিত্ব আরো আগেই পাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি জানান, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ক্যানসারে আক্রান্ত। অনেক কর্মকর্তাই জানিয়েছেন, একটা কানা গলির মধ্যে দিয়ে সবাই। সেই অবস্থা থেকে আমাদের বের হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রথম কাজ হবে ইন্টারনেটের দাম কমানো ও গতি বৃদ্ধি করা। ইন্টারনেট ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ আলোচনায় থাকবে না। আমার মন্ত্রণালয়ে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান এক তরফা ব্যবসা করতে পারবে না। আমার দেশের মার্কেট আমার দখলে থাকবে। বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই দেশের মানুষের প্রতি সম্মান রেখে বাংলায় চিঠিপত্র আদান প্রদান করতে হবে।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমার দেশের ১৬ কোটি মানুষের ৯৬ ভাগ  ইংরেজি বুঝে না। এজন্য তারা যে ভাষা বুঝে সেই ভাষায় আমাদের কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। শুধু ইংরেজি ব্যবহার না করে ক্ষেত্র বিশেষে বাংলা, ইংরেজি দুটি ভাষায় ব্যবহার করা হবে। ১০০ দিনে কী করা সম্ভব সেসব কাজ করতে হবে। পাঁচ বছরের চিন্তা করলে হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিটিআরসির ওপর ক্ষুব্ধ। কেন তারা এখনো ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারেনি। কমায়নি।’

৩০ বছর ধরে বেসিস আইসিটি খাতে কাজ করে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা কোথাও ব্যর্থ হইনি। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে আমরা সফল হইনি। হয়তো একটু সময় লেগেছে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাসেল টি আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সাবেক সভাপতি এ তৌহিদ, হাবিবুল্লাহ এন কারিম, সারওয়ার আলম, রফিকুল ইসলাম রাওলি, এ কে এম ফাহিম মাসরুর, শামীম আহসান।

বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘মোস্তাফা জব্বারের এ সম্মান ও প্রাপ্তিতে বেসিস পরিবারের সবাই অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি আমাদের সহকর্মী, আমরা অনেকদিন একসঙ্গে কাজ করেছি-এখন উনি মন্ত্রিসভায় যোগ দিচ্ছেন। শুধু বেসিস নয়, পুরো আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা গর্বের বিষয়। সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শিতায় উচ্ছ্বসিত তিনি। সরকারের কাজ হচ্ছে ব্যবসা-বান্ধব হওয়া, ব্যবসায়ীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা  থেকে শুরু করে এর প্রত্যেকটি কাজে যিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা। জব্বার ভাই তাঁর নেতৃত্বগুণ, তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের অগ্রগতিতে ব্যতিক্রমী কিছু করবেন, সেই প্রত্যাশা আমাদের।’

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.