বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
হাফছা কলেজ ছাত্রী তানিয়া আক্তার ঝুমার বিষ পানে মৃত্যু  » «   প্রবাসীর মেয়ে ইসমত আরা বিসিএস ক্যাডার হতে চায়  » «   জকিগঞ্জ পৌর এলাকায় গ্যাসের সন্ধান; বাপেক্স কর্মকর্তাদের স্থান পরিদর্শন  » «   জকিগঞ্জে অমর একুশে বই মেলা শুরু  » «   হাজী আব্দুল আজিজ তাপাদার গার্লস একাডেমির শিক্ষা সফর  » «   বালাউট ছাহেব বাড়ি সংলগ্ন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন  » «   আলোর দিশারী সংস্থার পুরস্কার প্রদান ও সৌর বিদ্যুৎ লাইটের উদ্বোধন  » «   ২০১৯ সালের ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারী হাড়িকান্দি মাদ্রাসার শতবার্ষিকী পালন করা হবে  » «   ইছামতি কামিল মাদরাসার ৭২তম বার্ষিক মহাসম্মেলন আগামীকাল রবিবার  » «   নান্দিশ্রী ছাত্র কল্যাণ সংস্থার আত্মপ্রকাশ  » «  

আল্লাহর পরম প্রিয় তওবা

আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এক সুন্দর অবয়বে মানুষকে তৈরি করেছেন। দিয়েছেন এক মহামূল্যবান বিবেক। আসমান জমিনের সব মাখলুকাতের ওপর দিয়েছেন শ্রেষ্ঠত্ব। যদিও ফেরেশতারা সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে রত আছে। তাদের যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তারা প্রতিনিয়ত সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ফেরেশতাদের আল্লাহ তায়ালা অবাধ্য হওয়ার ক্ষমতাই দেননি। আর আল্লাহ মানুষকে বিবেক দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাদের প্রতি ওহি নাজিল করে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। ভালো-মন্দ দুটি পথের মধ্যেই ইচ্ছেমতো যে-কোনো একটি পথ বেছে নেওয়ার এখতিয়ার দিয়েছেন। এখানেই ফেরেশতাসহ সব মাখলুকাতের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব।

দুনিয়ায় প্রেরণের অনেক আগেই আল্লাহ আমাদের রুহ তৈরি করেছেন। আলমে আরওয়াহ বা রুহের জগতে আমাদের সবার রুহকে উদ্দেশ করে আল্লাহ বলেছিলেন, ‘আমি কি তোমাদের রব নই? আমরা সবাই বলেছিলাম, হ্যাঁ। আমরা আল্লাহর দুনিয়াতেও কালেমার অঙ্গীকার করেছি। জান্নাতের বিনিময়ে আল্লাহ মোমিনদের জানমাল ক্রয় করে নিয়েছেন। কিন্তু কখনও কখনও আমরা হেদায়েতের আলোর পথ থেকে দূরে সরে গিয়ে পাপাচারের অন্ধকারে নিজেদের নিমজ্জিত করি। কোনো কোনো পাপে সাময়িক সুখ অনুভূত হলেও পাপের পীড়া কামড় দেয় বারবার। ফলে মানসিক বিষাদ অনুভব হতে থাকে। পক্ষান্তরে তওবা করলে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে জীবন নতুনভাবে নবায়িত হয়।
তওবা শব্দটিই যেন একটি মহান শব্দ। যার অর্থ ফিরে আসা। তওবার দহনেই গোলামের পাপে কলুষিত আত্মা মনিবের সঙ্গে নবরূপে মিলিত হয়। মহান আল্লাহ চান তার বান্দারাও যেন গোনাহ করার সঙ্গে সঙ্গে তওবা করে নেয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে তওবার ওপর জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বান্দার তওবায় আল্লাহ অত্যন্ত খুশি হন। তওবার ফলে তিনি এত খুশি হন যে, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে নবী (সা.) বলেন, এক মুসাফির তার উটসহ সফরে এক মারাত্মক মরুভূমিতে গিয়ে পড়লে বিশ্রামের জন্য এক গাছের ছায়ায় মাথা রেখে শোয়ামাত্রই ঘুমিয়ে পড়ল। এর মধ্যেই তার উট গায়েব হয়ে গেল। সে এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজি শুরু করল; কিন্তু সে বৃথায় হয়রান হলো। ক্ষুধা ও পিপাসায় বেশি কাতর হয়ে পড়ল। তারপর ফিরে সে গাছের কাছে এসে শোয়ামাত্র চোখ লেগে গেল। কিছু পরে চোখ খুলতেই দেখতে পেল তার সেই উট খাদ্য ও পানিসহ দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে সে এত খুশি হলো যে, উটের লাগাম ধরে খুশির উচ্ছ্বাসে বলে উঠল, ‘আল্লাহ তুই আমার বান্দা আমি তোর রব।’ নবী (সা.) বলেন, তওবা করলে আল্লাহ হারিয়ে যাওয়া উটওয়ালা অপেক্ষা অধিক খুশি হন। (বোখারি ও মুসলিম)।
আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তিনি চান বান্দা তওবা করুক। এজন্যই দিনে-রাতে হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নবী করিম (সা.) এর কোনো পাপ ছিল না। তবু তিনি প্রত্যেহ ১০০ বার আল্লাহর কাছে তওবা করতেন। উম্মতকে বেশি বেশি তওবা করতে উৎসাহিত করতেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মোমিনরা, তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো, আন্তরিক তওবা।’ (সূরা তাহরিম, আয়াত : ৮)।
তওবা হলো অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করা, যে গুপ্ত অথবা প্রকাশ্য জিনিস আল্লাহ ঘৃণা করেন সে জিনিস থেকে, যা তিনি পছন্দ করেন তার কাছে ফিরে আসার নাম তওবা। ওলামায়ে কেরাম তওবার কয়েকটি শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যে শর্তগুলো পূরণ না হলে তওবা কবুল হয় নাÑ
১. তওবা হবে আন্তরিকভাবে একান্ত আল্লাহর জন্য। ২. পাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তওবা গ্রাহ্য নয়। সঙ্গে সঙ্গে পাপ বর্জন করতে হবে। ৩. বিগত পাপের ওপর অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে। ৪. পুনরায় মরণ পর্যন্ত তার প্রতি না ফেরার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। ৫. কোনো মানুষের অধিকার হরণ করলে তার অধিকার আদায় করে নিতে হবে কিংবা তার কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিতে হবে। ৬. কবুল হওয়ার নির্ধারিত সময় তথা মরণ নিকটবর্তী হওয়ার আগে ও পশ্চিমাকাশে সূর্য উদিত হওয়ার আগে তওবা করতে হবে।
কোরআনে আল্লাহ নুহ (আ.) কে উল্লেখ করে বলেন, ‘(নূহ বলল,) আমি তাদের বললাম, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি তো মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত করবেন। তিনি তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন। আর তোমাদের জন্য বাগান তৈরি করে দেবেন এবং প্রবাহিত করে দেবেন নদীনালা।’ (সূরা নূহ : ১০-১২)।লেখক: মেহেদী হাসান সাকিফ

 

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.