সোমবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জকিগঞ্জসহ সারাদেশে প্রাইমারী দপ্তরী নিয়োগ স্থগিত করলেন মন্ত্রী  » «   শিলচরে বাংলাদেশী বন্দিদের খোঁজ নিলেন ডেপুটি হাই কমিশনার  » «   ইছামতি কামিল মাদ্রাসায় সংবর্ধনা পেলেন ডক্টর আহমদ আল কবির এবং আলহাজ্ব শামীম  » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন  » «   স্বর্ণ পদক’ অর্জন করায় শাহবাগে শিহাব উদ্দিন সংবর্ধিত  » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান বুধবার  » «   বারহালে আওয়ামীলীগ এর মতবিনিময় সভায় আলহাজ্ব মাসুক উদ্দিন আহমদ  » «   বারহা‌লে দি স্টু‌ডেন্ট ডে‌ভেলাপ‌মেন্ট ক্লাব(চক বুরহানপুর)এর ক‌মি‌টি গঠন   » «   জেলা পর্যায়ে মেধা বৃত্তি পেলেন জকিগঞ্জের ইছামতি কামিল মাদ্রাসার নয় মেধাবী শিক্ষার্থী  » «   জকিগঞ্জ উপজেলা উন্নয়ন পরিষদ ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আলী রেজার পরিবারকে নগদ অর্থ প্রদান  » «  

আর কত কাল চলবে বিয়ানীবাজারের শেওলা সেতুর টোল আদায়!

সুফিয়ান আহমদ, বিয়ানীবাজার :: ১৯৯৯ সালের ৩১ জুলাই সিলেট-বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম সড়কের গুরুত্বপূর্ণ শেওলা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে টোল আদায় এখনো অব্যাহত রয়েছে। বছরের পর বছর থেকে এ সেতুর উপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন টোল প্রদান করলেও তা কবে বন্ধ হবে, এ প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে। খোদ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারাও বলতে পারছেন না, শেওলা সেতুর টোল আদায় আর কতকাল চলবে। ফলে গত ক’মাস থেকে এ সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচল অনেকটা কমে গেছে। বিকল্প রাস্তা দিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। তাছাড়া বর্তমান ইজারাদার টোল আদায়ে রশিদ দেন না বলেও রয়েছে অভিযোগ।

জানা যায়, ১৯৯১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে শেওলা সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে সেতুর নির্মাণ কাজে গতি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯৯ সালের ৩১ জুলাই শেওলা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর থেকে সেতুর উপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের কাছ থেকে টোল আদায় শুরু হয়। প্রতি বাংলা বছরের শুরুতে সেতুর তদারকি কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বেসরকারী উদ্যোক্তাদের টোল আদায়ের দায়িত্ব প্রদান করে। এক্ষেত্রে সরকার প্রতি বছরে কোটি টাকার মত রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান ইজারাদারের নির্ধারিত ব্যক্তিরা টোল আদায়ের সময় গাড়ি চালকদের দিচ্ছেন না কোন রশিদ। যার কারণে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব এমন অভিযোগ করেছেন গাড়ি চালকেরা।

তবে এব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হন নি টোল আদায়কারী কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া টোল আদায়ের ১৮ বৎসর অতিক্রম করার কারণে অনেকেই এখন আর টোল আদায় করতে চান না। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকদেরও দাবী, শেওলা সেতুতে টোল আদায় যেন বন্ধ করে দেয়া হয়।

রুনু আহমদ নামক এক বাস চালক বলেন, এমনিতেই আমরা ব্যবসা ভালো যাচ্ছেনা। তাছাড়া সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের যে বেহাল অবস্থা, তাতে ট্রিপ প্রতি খরচ তুলতে পারছিনা। আমাদের দাবী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে, শেওলা সেতুতে যেন টোল আদায় বন্ধ করে দেন।

এব্যাপারে সিলেট জেলা পরিবহণ শ্রমিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক জানান, ‘শেওলা সেতুতে টোল প্রদান না করার বিষয়ে আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে শ্রমিকরা। অনেক ছোট গাড়ির মালিকও টোল প্রদানে অনাগ্রহী। তাদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।’

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসও এসএম জাকারিয়া জানান- ‘আসলে এটা সেতু ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে হয়তো কিছু একটা হতে পারে।’

শেওলা সেতুর টোল আদায় নিয়ে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান জানান- সরকারকে রাজস্ব দেয়া উচিত। তা না হলে সরকার চলবে কিভাবে। তবে নির্ধারিত টোলের বেশী কেউ আদায় করলে এবং রশিদ ছাড়া টোল আদায় করার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সিলেট ভিউ

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

Developed by:

.