রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
গঙ্গাজল (ক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু  » «   বারঠাকুরী ইউপি সদস্য সুনাম আহমদের দাফন; এলাকায় শােকের ছায়া  » «   ফেসবুক জুড়ে ইকবাল তালুকদারের মৃত্যুর স্ট্যাটাস  » «   ইকবাল তালুকদারের ইন্তেকাল; জকিগঞ্জে শােকের ছায়া  » «   ঢাকায় মি’রাজুন্নবী সা. উপলক্ষ্যে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল  » «   আমেরিকা প্রবাসীদের উদ্যোগে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত  » «   বারহাল কলেজ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ আপাতত প্রত্যাহার  » «   জকিগঞ্জ থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল সিলেটে উদ্ধার  » «   কালিগঞ্জ বাজার থেকে ব্যাটারিসহ ৩চোর আটক  » «   উৎসব মুখর পরিবেশে আটগ্রাম বাজার কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন  » «  

আমার সাংবাদিকতা জীবনের কিছু কথা হলুদ সাংবাদিকতার ছড়াছড়ি

এখলাছুর রহমান: সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এই পেশায় সম্মানের পাশাপাশি আছে রোমাঞ্চ। রয়েছে ভালোলাগা, ভালোবাসা সর্বোপরি একটি স্বাধীনতা। সাংবাদিকতা কোন সাধারণ পেশা নয়। এই নেশায় যেমন রয়েছে অধিক সম্মান তেমনী রয়েছে জীবনের মারাত্মক ঝূঁকি। এই নেশাটা হচ্ছে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করার নেশা। আমার মনে হয়, একজন চিকিৎসক যেভাবে মানুষের সেবা করতে পারেন তার চেয়ে অনেক বেশি সেবা করতে পারেন একজন দেশপ্রেমিক সাংবাদিক। কিন্তু জীবনের ঝূঁকি নিয়েই সাংবাদিকরা সমাজের অন্যায়, অভিচার, অনিয়ময়, দূর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন গণমাধ্যমে। যখনই একজন অপরাধীর ঘৃন্য কর্মকান্ড গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তখনই প্রতিবেদক হুমকির শিকার হন। যেমনটি আমার বেলায়ও হয়েছে। আমিও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরে মামলার শিকার হয়েছি। এখনো এই মামলা মাথায় নিয়ে পত্রিকায় কাজ করে যাচ্ছি। এরপরও কি থামা যায়! সকল অপশক্তিকে মোকাবেলা করেই দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে হয়। জনগন রাষ্ট্র ও গণমাধ্যম একে অপরের অঙ্গ। গণমাধ্যম ছাড়া কোন রাষ্ট্র স্ব নীতির উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনা। তাই গণমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। গণমাধ্যমকে কন্ঠরোধ করা হলে নাগরিকরাই অধিকার বঞ্চিত হন।
ছোট বেলা থেকেই অধিকার বঞ্চিত মানুষের দিকে যখন থাকাতাম তখন মনের মধ্যে একটি প্রশ্ন জাগতো কিভাবে তাদের অধিকার পাওয়া যাবে। তখনই জানতে পারলাম গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখা সম্ভব। এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম পত্রিকায় কাজ করার। এই সিদ্ধান্ত থেকেই শুরু হলে শখের সাংবাদিকতা। ১৯৭৮ সালে ৬ষ্ট শ্রেণীতে অধ্যায়নরত থাকা অবস্থায় সিলেট থেকে মুকতাবিসুর নূর সম্পাদিত সাপ্তাহিক সিলেট কন্ঠ পত্রিকায় টুকটাক সংবাদ পাঠানো শুরু করি। পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন আমার বড় ভাই আব্দুল হামিদ মানিক। এই সুবাদে ভূলে ভরা আমার হাতের লেখা সংবাদও শুদ্ধ হয়ে প্রকাশিত হতো খবরের কাগজে। ১৯৮৪ সালে বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ঢাকা উত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হই। ঢাকা উত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর স্থানীয় খায়রুল জাফর চৌধুরী নামের একজন ব্যক্তি হবিগঞ্জ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক স্বাধিকার পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। আমিও প্রায় সময় আলীনগর এলাকার খবর পাঠাতাম ঐ পত্রিকায়। এরপর উনি আমার সন্ধান নিয়ে সাপ্তাহিক স্বাধিকার পত্রিকার আলীনগর ইউপি প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে নিয়োগ দিতে সম্পাদককে উৎসাহিত করেন। এরপর আমি সাপ্তাহিক স্বাধিকার পত্রিকার আলীনগর ইউপি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করি। তখন আমি বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সদস্য পদও লাভ করি। এর কিছুদিন পরই যুগভেরী, অনুপম. জালালাবাদী, সিলেট সমাচার পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছি। এইসব পত্রিকায় কাজ করেছি নেশা হিসেবে। এ সময় আমাকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ দিয়েছেন বর্তমান কুয়েত প্রবাসী একেএম মাসুদ চৌধুরী, মাজেদ আহমদ চঞ্চল, চৌধুরী দেলোয়ার হোসেন জিলন, ছদিওয়ল ইকবাল, ফরিদ উদ্দিন, জামাল উদ্দিনসহ একাধিকজন। তাদের উৎসাহ পেয়েই সাংবাদিকতা নেশা থেকে অনেকটা পেশায় রূপ ধারণ করে। শুরু হয় দৈনিক পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা। জাতীয় দৈনিক পত্রিকা হিসেবে তখনকার জনপ্রিয় দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় প্রায় ১০ বছর, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ১০ বছর কাজ করেছি। বর্তমানে দৈনিক আমাদের সময়ে ও সিলেটের স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার জকিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছি। আমাদের সময় পত্রিকার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক শাহজাহান কমর ভাই ও দৈনিক জালাবাদ পত্রিকার কাদের ভাই, ছালেহ ভাই, আহবাব ভাইদের উৎসাহে এখনো সাংবাদিকতায় মজা পাই। আমার পাঠানো যেকোন সংবাদ উনারা খুবই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেন। এছাড়াও আমার সম্পাদনায় জকিগঞ্জ থেকে অনিয়মিতভাবে দিবাকর নামের একটি ম্যাগাজিন বেশ কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। এই ম্যাগাজিনটি তখন পাঠক জনপ্রিয়তা ছিলো আকাশচুম্বী।
সর্বশেষ বলা যায়, সাংবাদিকতা কোন চাকরি কিংবা পেশা নয়, এটি এক ধরনের ভালোলাগা এক নেশা। পৃথিবীর আর কোন পেশাতেই এতো স্বাধীনতা ও মানুষের জন্য কিছু করার এমন সুযোগ নেই। আর তাই সাংবাদিকতা ছেড়ে কেউ শিক্ষক, পুলিশ কিংবা প্রশাসনের বড় কর্তা হওয়ার পরেও কারো কারো এই পেশার প্রতি টান থেকে যায়। এ কারণে অনেকে ভালো চাকরী ছেড়েও আবারো ফিরে আসেন সাংবাদিকতায়। আমিও নেশা হিসেবে আজীবন সংবাদের সাথে যুক্ত থাকতে চাই। মানুষের ভালোবাসা পেতে চাই। চাই নেশাটা থাকুক আজীবন আর এই নেশা ছড়িয়ে পড়ুক সব সংবাদকর্মীর মধ্যে। তবেই জাগ্রত হবে প্রকৃত সাংবাদিকতা।
কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে অপসাংবাদিকতা ও ভূয়া সাংবাদিক মহামারির মত দেখা দিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির সুবাদে একটি অসাধু মহল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মহান পেশা সাংবাদিকতাকে বাণিজ্যিকভাবে রূপ দিয়ে ফেলেছে। নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করতে তারা নানাপন্থা অবলম্ভন করে চলছে। ব্যাঙের ছাতার মত এখন সর্বত্র হলুদ সাংবাদিকা গজিয়ে উঠেছে। এ কারণে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেও অনেকটা লজ্জা লাগে। কোন কারণে কোথাও নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও বুজতে পারি মানুষ সন্দেহ করে যাচ্ছে আসল না নকল তা নিয়েই। তাই সাংবাদিক পরিচয় অনেকটা আড়াল করেই চলাফেরা করি। জকিগঞ্জেই আমার কর্মস্থল হিসেবে প্রায় সময় চোঁখে পড়ে ভূয়া সাংবাদিকদের অনেক কান্ড। যারা সংবাদের কোন নিয়ম কানুন কিছুই জানেনা, অল্প শিক্ষায় শিক্ষিত, সাংবাদিক শব্দটিও ভালো করে উচ্চারণ করতে পারেনা “সম্বাদিক বলে” তারাও নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ধান্ধা করে চলছে। বিভিন্ন পোর্টাল থেকে কপি করে নিজের ফেসবুক ওয়ালে কিছু পেষ্ট করলেই নিজেকে সম্বাদিক দাবী করে। আমার জানা মত একজন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয় হলো তাঁর লেখনী শক্তির মাধ্যমেই। এর বাইরে কোনভাবেই সে পরিচিতি অর্জনের চেষ্ঠা করতে হয়নি। আমারও পরিচিত আমার লেখনী দিয়ে। কখনো সাইবোর্ড টাঙ্গিয়ে পরিচিতি লাভের অপচেষ্ঠা করি নাই। কিন্তু এখন দেখা যায় পথে ঘাটে, হাট বাজারে, গাছে, ডালে, যাত্রী ছাউনিতে সাংবাদিক নামের আজব মানবদের সাইনবোর্ড। তাদের একটি উদ্দ্যেশই হলো নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে সমাজে অপসাংবাদিকতার বিস্তার ঘটানো। এই ভূয়া সাংবাদিকদের কারণেই আজ পদে পদে প্রকৃত সাংবাদিকরা প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমি কিছুদিন আগে আমার এলাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ছিলাম। তখন আমার এলাকার জনৈক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্ঠা করে। তখন ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বশীলরা তার পরিচয় নিয়ে আমার কাছে জানতে চান। কিন্তু আমি কখনো জানিনা সে সাংবাদিক হিসেবে। আমার সাথে তার ব্যক্তিগত পরিচয় সে একজন চানা পিয়াজী ব্যবসায়ী হিসেবে। এরপর ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বশীলরা তাকে তাড়িয়ে দেন। পরিশেষে আমি অনুরোধ করছি যারা সাংবাদিকতার মত মহৎ পেশাকে কুলষিত করে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যেন প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন করেন। কোনভাবেই যাতে ভূয়া সাংবাদিকদের আশ্রয় দিয়ে কোন মহল ধান্ধা করতে না পারে সেদিকে সবাই সর্তক থাকা এখন সময়ে দাবী।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.