শনিবার, ১৮ আগষ্ট, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন   » «   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালন  » «   বারহালে মাদক,সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আলোচনা সভা সম্পন্ন  » «   আটগ্রামে স্কুল ছাত্র সাজুর ইন্তেকাল  » «   আটগ্রামে সরকারি গোপাট উন্মুক্ত করতে ইউএনও বরাবরে অভিযোগ  » «   কালিগঞ্জ বাজারে একটি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি  » «   রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কুন্টি মিয়ার দাফন সম্পন্ন  » «   জকিগঞ্জে ডিজিটাল কনটেন্ট বিষয়ে দিন ব্যাপি কর্মশালা  » «   নৌকার সমর্থনে মাসুক উদ্দিন আহমদের গণ সংযোগ  » «   ৯ইউপি ও ১পৌরসভায় ত্রাণ বিতরণ করবে জকিগঞ্জ সোসাইটি অব ইউএসএ ইন্ক  » «  

আমার মা, আমার অহংকার

  “মাগো ,নীল আকাশের নীচে
              সব ভালো মানুষের সাথে
      তোমার এই ছেলে বিজয়ের মিছিল দিয়ে যায়
                শুধু তোমার দোয়া চায়”।।
        যে দিন পৃথিবীর আলো দেখলাম, সে দিন থেকে মা ‘কে খুব পেরেশান থাকতে দেখেছি। বেশ বড় পরিবারের হতর্াকতর্া ছিলেন মা-ই। পরিবারের সব ঝামেলা সামাল দিতে মা’ কে রীতিমতো হিমশিম খেতে হতো। মা’ খুব কষ্ট করে জীবন যাপন করেছেন । বাবা ছিলেন স্বল্প আয়ের খুব সৎ মানুষ। মায়ের দুঃখের কোন সীমা ছিল না। কিন্তু দুঃখ ভাগাভাগির মানুষ বলতে মায়ের কেউ ছিলনা ( নানী মা’কে খুব অল্প বয়সে রেখে ওপারে পাড়ি দেন) । তারপর মা’য়ের সংগ্রাম শুরু। সেই সংগ্রামের গল্প মায়ের কাছে শুনেছি। অন্য একদিন বলি।
        খুব ছোট থেকে বাড়ির বাইরে থাকি ( আমরা চার ভাই-ই বাড়ির বাইরে থেকে পড়াশুনা করেছি)। মাগো এখনো আমি তোমার থেকে বহুদূরে থাকি। জানি শুধু আমাকে মানুষ করার মানসে তুমি আমাকে বাড়ির বাইরে থাকতে রাজি হয়েছিলে। জানি ,তোমার বুকটা এতে ফেটে যায়। তবুও তুমি আমার মুখের দিকে চেয়ে নিশ্চুপ রয়েছিলে। শুধু আমি এটুকু দেখতাম ,প্রতিবার বাড়ি চলে আসার সময় তোমার চুখ উপচে পড়ত শ্রাবণের ধারা। শুধু আমার হাসিমাখা মুখ দেখার আশায় তুমি সে অশ্রু আঁচলের আড়ালে লুকিয়ে ফেলতে। এভাবে কত অশ্রু যে জীবনে লুকিয়ে ফেলেছ তার খবর কে জানে !
       ধৈযর্ মা’কে এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে ( মায়ের সমান ধৈযর্ের অধিকারী আমার ছোট আপা প্রিয় আমেনা বেগম, আমি ও ব্যাতিএ্রম নই) । একটি ঘটনা, দুংখ,যন্ত্রণা অথবা ভীষন বেদনা মা’কে ধৈযর্ হারা করেনি। এর নিরব সাক্ষী ছিলাম আমি ও আমার ছোট ভাই প্রিয় ,সেবুল ইসলাম। মা খুব নিরবে কেঁদেছেন । দেখেছি সময়ে,অসময়ে ,রাতে, গভীর রাতে মা শুধু কেঁদেছেন । জগতে এ কান্নার কোন দাম নেই হয়তো কিন্তু সৃষ্টিকতর্ার কাছে এ কান্নার বেশ দাম, সীমাহীন দাম।
         একবার মা’কে আমার জন্য খুব কাঁদতে শুনেছি। বছরটি সম্ভবত ১৯৯৯/২০০০ আমি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পান্জা লরি । মা ভেবেছিলেন ,এই মনে হয় আমার  বদু ( যাদু) ওপারে চলে যাবে । জনমের কান্না কেঁদেছিলেন মা,আমার দাদী ( দাদী আমাকে খুব স্নেহ করেন, দোয়া করেন অনবরত), আমার হোর (ছোট) আম্মা ও অনেক কেঁদেছেন । আল্লাহর কাছে প্রিয় মানুষ জনের সহযোগিতা চাইছি।
         সেই ছোটবেলা থেকেই আমি দেখে এসেছি,কী অপরিসীম মমতায় তুমি আমাদের গড়ে তুলেছ। কখনো মাটিতে বসতে দাওনি তাতে যদি তোমার সন্তানের কোন ক্ষতি হয়ে যায়। সারাক্ষন চোখে চোখে রেখেছ।সন্তানের অমঙ্গলের আশংকায়  তুমি রাতের পর রাত কাটিয়ে দিয়েছ। ক্লান্তি কী জিনিস সেটা তোমাকে ক্ষনিকের জন্য আচ্ছন্ন করতে পারেনি।
         মা ও বাবা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিয়ামত। আমার সৌভাগ্যের কোন সীমান্ত নেই । পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ মা ও বাবা দু’জন – ই বেঁচে আছেন। কিন্তু বাড়িতে আমি অনুপস্থিত । কোন খেদমত করতে পারছিনা । সীমাহীন আফসোস। মা এবং বাবার খেদমত করার জন্য আমি সিলেটে- ই প্রতিষ্ঠিত হতে চাইছি। দয়ালু আল্লাহ ,এই দিনে মোর চাওয়া।
        মা ,আমাকে নিয়ে দিন-রাত স্বপ্ন দেখেন । সত্যি আমি মায়ের স্বপ্নের সমান বড় হতে চাইছি…
                      “মা বললেন,অ
                   সোনামানিক এই জীবনে
                       অনেক বড় হ।
                         মা বললেন,আ
                    খোলা চোখে হৃদয় দিয়ে
                          বিশ্ব ছুয়ে যা ।
                            মা বললেন,ক
                    পাহাড় সমান মাথায় উঁচু
                           এমন মানুষ হ ।”
বদরুল আলম
লেখক: প্রভাষক,  তাজপুর ডিগ্রী কলেজ, সিলেট।
এমফিল গবেষক , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.