রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
২২টি গ্রামে বৃহত্তর ইছামতি কালিগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা’র ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   সোনাপুর-সুপ্রাকান্দি ডেভল্যাপমেন্ট সোসাইটির ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   কাতারে জকিগঞ্জের আব্দুল মুহিম মিনুর মৃত্যু  » «   জকিগঞ্জে ১৩০বোতল অফিসার চয়েজসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   শাহ মোঃ ফয়ছল চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন  » «   বৃহত্তর আটগ্রাম প্রবাসী সমাজ কল্যাণ পরিষদের ঈদ সামগ্রী বিতরণ  » «   প্রতিবন্ধী ও দরিদ্রদের মধ্যে স্পেন প্রবাসী মাসহুদের ইফতার  » «   ইউএনও শহীদুল হকের ইন্তেকালে এইচটিএ সেবা ফাউন্ডেশনের শোক  » «   জকিগঞ্জে এমপি প্রার্থী এম জাকির হোসাইনের সমর্থনে ইফতার  » «   জকিগঞ্জের সাবেক ইউএনও শহীদুল হকের দাফন  » «  

আপন মহিমায় স্বাবলম্বী জকিগঞ্জের ফাহিমা


এখলাছুর রহমান: নারী ও পুরুষ দুজনই মানুষ। কিন্তু নারীকে তার অধিকার, মর্যাদা, সম্মান দিতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নানাভাবে কণ্ঠাবোধ করে এখনও। পুরুষশাসিত সমাজে নারীকে আজও বিপন্ন অবস্থায় দিন কাটাতে হয়, পদে পদে লাঞ্ছনা, গঞ্জনা বঞ্চনা শিকার হতে হয়।
স্বামী পরিত্যাক্তা নারীদের সফলতা খুজতে গিয়ে জকিগঞ্জে পাওয়া গেছে আপন মহিমায় স্বাবলম্বী হওয়া এক নারীর সন্ধান। জন্ম জকিগঞ্জের কাজলসার ইউনিয়নের কামালপুর নিভৃত পল্লীর দিনমজুর মৃত লাল মিয়ার ঘরে। নাম তার ফাতেমা বেগম ফাহিমা। ১৯৯৮ সালে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের জামুরাইল গ্রামের দিনমজুর শিহাব উদ্দিনের সাথে।
বিয়ের ১৮ মাসের মাথায় স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটে ফাতিমা বেগম ফাহিমার। ফিরে আসেন বাবার বাড়ীতে। ৩ বোন ২ ভাইয়ের সংসার। চরম অভাব অনটন। ২০০৪ সালে মারা যান আশ্রয়দানকারী দিনমজুর পিতা লাল মিয়া। অন্ধকার নেমে আসে তাদের সংসারে। অনাহারে কাটে দিন। পরিবারে ভাঙন ধরে। বড় ভাই আলাদা দিনযাপন শুরু করেন। জীবন বাঁচানোর কোন পথ না পেয়ে ফাহিমা বেছে নেন নকশি কাথাঁ, মূর্তা দিয়ে চাটি, পাটি, বাঁশ দিয়ে চাটাই, ডাম সামগ্রী তৈরীর কাজ। এতে কোন মতে আহার জুটে। এ কাজ করেই তিনি নিজের জীবন বাঁচাতে বিকল্প স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। চেষ্ঠা করেন টেইলারি কাজ শিখতে কিন্তু প্রথমে টাকার অভাবে টেইলারি কাজ শিখতে পারেননি। পরে চাটি, পাটি, ডাম বিক্রির টাকা দিয়ে গোটারগ্রাম এলাকার এক মহিলার কাছে শিখতে যান টেইলারি। তখন কাচি কিনার মত তার হাতে টাকা ছিলো না। বাড়ীতে গিয়ে কাচির বদলে দা দিয়ে কাপড় কেটে টেইলারিং কাজ শিখেন। ২০১৫ সালে দরিদ্রতার অভিশাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে কর্মসংস্থানের সন্ধানে নিভৃত পল্লী কামালপুর থেকে জকিগঞ্জ শহরে আসেন ফাহিমা। সব দু:খ মুছে ফেলে নতুন জীবন শুরু করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এই অভাগা নারী। শহরে এসে তিনি সোনার বাংলা বহুমুখী সমবায় সমিতির সেলাই প্রশিক্ষন কোর্সের প্রশিক্ষক হিসেবে চাকুরী পান। প্রতি তিনমাসের মাথায় তিনি ৪০ থেকে ৪৫ জন যুবতীকে সেলাই প্রশিক্ষন দিয়ে থাকেন। চাকুরীতে বেতনের সাথে অতিরিক্ত সম্মানিও পান। এতে তিনি পর্যায়ক্রমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। বিভীষিকার ছাপ নিয়ে বয়ে বেড়ানো সেই ফাতেমা এখন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী একজন নারী। তিনি এখন নারী বন্ধব কর্মসূচীতে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ফাতেমার সাথে কথা বলতে গেলে সে তার সফলতার গল্প বলতে গিয়ে জানায়, ভিক্ষা বৃত্তি একটি অভিশাপ। আমি একটি সময় ভিক্ষা করে খাওয়া ছাড়া কোন পথ দেখি নাই। কিন্তু পরে পরিশ্রম করে নিজের ভাগ্য বদল করেছি। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের কারনে আমার জীবনে বিচ্ছেদের আগুন জ্বলে উঠলেও আমি আমার পরিশ্রম দিয়ে তা নেভাতে সক্ষম হয়েছি। সৌভাগ্য নিয়েই পৃথিবীতে কোনো মানুষের জন্ম হয় না। কর্মের মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষ তার ভাগ্য গড়ে নিতে হয়। নিপুণতা উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রেরণা থাকলে অবহেলিত নারী সমাজ পুরুষের চাইতে বেশী এগিয়ে যেতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

Insurance Loans Mortgage

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.